আজ বুধবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

সিলেটের মেডিকেলে কলেজগুলোতে বাড়ছে বিদেশি শিক্ষার্থী

  • আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ

অতিথি প্রতিবেদক

সিলেট : সিলেটের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে বাড়ছে বিদেশি শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা নিতে প্রতি বছর সিলেটের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে অনেক বিদেশি শিক্ষাজীবন শেষ করে দেশে ফিরে গেছেন। অনেকে ইন্টার্নশিপ করছেন। কেউ কেউ আবার ইন্টার্নশিপ শেষে এখানেই চাকরি নিয়ে স্থায়ী হচ্ছেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, অন্য দেশের তুলনায় কম খরচ, মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ায় সিলেটে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। পড়াশুনার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করায় এখানকার সংস্কৃতিতে মিশে গেছেন তারা। পোশাক-পরিচ্ছদ, কথা-বার্তা এমনকি খাবারের সঙ্গেও তারা নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন।

সহপাঠী থেকে শুরু করে ক্লাসের শিক্ষকদের সঙ্গে পুরোদমে বাংলায় কথা বলতে পারেন অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী। এমনকি সিলেটের আঞ্চলিক ভাষাও রপ্ত করেছেন কেউ কেউ। এছাড়া পূজা-পার্বণসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দেন তারা। সিলেটের সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন নিজভূমি ছেড়ে আসা এসব শিক্ষার্থী।

পাঁচটি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের তথ্যানুসারে বর্তমানে সিলেটে পৌনে ৮শ বিদেশি শিক্ষার্থী আছেন। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ৫৪ জন, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে ২৭৩ জন, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজে ১৫৯ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজে ৬০ জন ও নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজে ২২৪ জন।

সিলেটে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারত ও নেপালের। তাছাড়া শ্রীলঙ্কা, মালেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফিলিস্তনসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীও রয়েছেন।

জানা গেছে, প্রতিবছরই সিলেটে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে সিলেটের পাঁচটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ১ম বর্ষে ভর্তি হন ১৩৪ জন। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন ১৩৯ জন। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছেন ১৭১ জন। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কলেজগুলোর দেয়া তথ্যানুসারে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত ৫৪ জন বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে নেপালের ৭ জন, ভুটানের ১২ জন, ভারতের ৩ জন, ফিলিস্তিনের ৬ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪জন, যুক্তরাজ্যের ৩ জন, মালেশিয়ার ৯জন ও পাকিস্তানের ৪ জন।

রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে ২৭৩ জনের মধ্যে নেপালের ১৮৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১ জন, ভারতের ৮৯ জন। পার্কভিউ মেডিকেল কলেজে ৬০ বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে নেপালের ৫১ জন ও ভারতের ৯ জন।

নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত বিদেশিদের মধ্যে নেপালের ২১৮ জন ও ভারতের ৬ জন। আর উইমেন্স মেডিকেল কলেজে আছেন ভারতের ১০১ জন ও নেপালের ৫৮ জন।

এছাড়াও এসব মেডিকেল কলেজে পড়া শেষ করে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বেশ কিছু বিদেশি।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে সবেমাত্র এমবিবিএস শেষ করেছেন নেপালের মাহেশ। তিনি বলেন, শিক্ষার মান ও সামগ্রিক পরিবেশ অনেক ভাল। তাই ওসমানী হাসপাতালেই ইন্টার্ন করছি, পরে দেশে চলে যাব।

তিনি বলেন, আমার শিক্ষক-সহপাঠীরা অনেক ভালো। এতোদিন সিলেটে অবস্থান করছি, কখনো মনে হয়নি এটা আমার দেশ না। এখানকার খাবারের সঙ্গেও আমরা অভ্যস্ত। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায়ও কথা বলতে পারি। বন্ধুদের সঙ্গে পূজা-পার্বণসহ বিভিন্ন সামজিক অনুষ্ঠানে যাই।

ওসমানী মেডিকেলে অধ্যয়নরত আরেক নেপালি কারমা জুসি বলেন, শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক। কলেজ ও হোস্টেলে আমাদের আলাদাভাবে নিরাপত্তা দেয়া হয়। সবাই আমাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ ও সহযোগিতা করেন।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ সময়ই বাংলায় কথা বলি। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায়ও কথা বলতে পারেন বলে জানান তিনি।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ময়নুল হক জানান, সিলেটের মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়াশোনার মান ভাল। এর সুনাম দেশের বাইরেও আছে। বিশেষ করে নেপাল ও ভারতের শিক্ষার্থীদের কাছে সিলেটের মেডিকেল কলেজগুলো পছন্দনীয়। তাই অনেকেই এখানে পড়তে আসছেন। আমরা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে থাকি। যাতে কোনো কারণে আমাদের সুনাম নষ্ট না হয়।

জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবেদ হোসেন জানান, যাতায়াতসহ অন্য সুযোগ সুবিধা থাকায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মেডিকেল কলেজগুলোর তুলনায় সিলেটে বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। এখানে থাকতে থাকতে তারাও (বিদেশি শিক্ষার্থী) এখানকার ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গেছে। বেশির ভাগ সময়ই ওরা বাংলায় কথা বলে। অনেকের কথা শুনে বাংলাদেশিই মনে হয়।

নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজের সেক্রেটারি মো. আব্দুল ওয়াহেদ জানান, আমাদের এখানে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী নেপালের। এখানকার বিদেশি শিক্ষার্থীরা বরাবরই ভালো ফলাফল করছে। এর সুনাম দেশের বাইরেও আছে। এজন্য আগামীতে আরও বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে বলে জানান তিনি।

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ঈসমাইল হোসেন পাটোয়ারী জানান, শিক্ষার পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষাদানের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিলেটের সুনাম বেড়েই চলেছে। তাছাড়া সিলেটের একমাত্র অত্যাধুনিক মহিলা মেডিকেল কলেজ হিসেবে আমাদের প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের কাছে অনেক পছন্দের। এখানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ...