আজ বুধবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

হতাশায় ভোগছে মৌলভীবাজার বিএনপি

  • আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ

জেলা প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির বর্তমান আর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাথে শীর্ষ কয়েকজন নেতার কর্মকাণ্ডে তৃনমূল নেতৃবৃন্দরা হতাশ। দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় থাকা জেলা বিএনপি কেনো আজও ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না? এর দায় কে নিবে?

তৃনমূল নেতৃবৃন্দরা জানান, যেখানে তৃনমূলের সামান্য একজন কর্মীর একের অধিক মামলা, সেখানে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দু-একজন ছাড়া বাকি কারো নামে মামলাই নেই।

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ভিপি মিজানুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক বকশি মিসবাহুর রহমানদের বিরুদ্ধে সরকার দলের সাথে আঁতাতের রাজনীতি আর মামলা থেকে বাঁচতে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা ঘটনা গুলো প্রায় ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে বলে জানান তৃনমূল নেতৃবৃন্দ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এই গংরাই আঁতাতের মূল চালিকাশক্তি। উপর থেকে নীচের সারির সব কর্মীরা বিব্রতকর এবং চরম হতাশার কথা তুলে ধরেন, তারা বলেন জেলা বিএনপির গুটিকয়েক নেতার জন্য দলের আজ এই অবস্থা।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি মিজানকে নিয়ে কয়েক ধরনের ঘটনা বা ষড়যন্ত্রের আমলনামা আজ তৃনমূল কর্মীদের হাতে হাতে। অনেকেই বলেন, উপজেলা নির্বাচনের সময় দলের প্রার্থী হবার জন্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জেলা বিএনপির কমিটি আসলে নিজে থেকে সরে যাবেন। তবে সময় পরিক্রমায় তিনি তা করেন নি। বরং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হবার পর অনেক সিনিয়র নেতাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতেও পিছপা হননি। উনি দায়িত্ব পাবার পর জেলা বিএনপির অবস্থা আগের চেয়ে আরো নাজুক হয়। মামলার ভয়ে ইনডোর কর্মসূচি সূত্রপাত তারই হাত ধরে।

তারা বলেন,অনেক সময় বর্তমান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিজে বাঁচতে এবং ইনডোর কর্মসূচি করতে মাঝে মাঝে বর্তমান পৌর মেয়র আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় যেতেও ভাবেন না। তৃনমূলে থাকা অসংখ্য কর্মী আর শুভাকাঙ্ক্ষীরা উনার এসব কর্মকাণ্ডে বিব্রত এবং লজ্জিত বলে জানান। মৌলভীবাজার বিএনপির এই দুর্যোগ কালের দূর-দশার জন্য অনেকাংশেই তারাই দায়ী।

শুধু বিএনপি নয় সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রমেও তাদের হস্তক্ষেপের শিকার। মৌলভিবাজারের জেলা ছাত্রদলের গৌরবান্বিত ইতিহাস আজ হুমকির মুখে। ভিপি মিজানের অনুসারীর হাতে ছাত্রদল থাকায় এই অবস্থায় পড়তে হয়েছে বলে মনে করেন বর্তমান ছাত্রদলের কর্মীরা। তিনি নিজে নাকি কমিটি দেওয়ার ব্যাপারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। আর মাঠের কর্মসূচিতে সবচেয়ে ব্যর্থ এই সংগঠনটি।

ছাত্রলীগের সভাপতি- সম্পাদক যখন কলেজ অডিটোরিয়াম থেকে শহীদ জিয়ার নামফলক মুছে ফেলে, ঠিক তখনও জেলা ছাত্রদল ছিলো নীরব ভূমিকায়। শহরে সামান্য একটা মিছিলও করতে পারেনি? ভিপি মিজানেরর অনুসারীরা তার কথায় পরে কলেজে স্মারকলিপি দিয়ে আসেন, যাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া আসে জেলা বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল প্রকার নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে।

গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তারা। জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা চাননি দলের সভাপতি জনাব নাসের রহমান যেনো এমপি হন। সেজন্যই গোপনে কয়েকজন নেতা সরকারের উপর মহলের সাথে হাত মিলিয়ে আঁতাতের রাজনীতি করেন ফলস্বরূপ মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এইসব ঘটনার কারনেই দলের নিবেদিত কর্মী বা শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রায় নীরব হয়ে গেছেন। দলের গ্রুপিং নিয়েও প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন মজার গল্প সবার মুখে মুখে থাকে।

তারা বলেন, জেলা বিএনপির মধ্যে একটা বড় ধরনের সিন্ডিকেট রয়েছে যার মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতিকে নানা রকমের কর্মকাণ্ডে এরা এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে। ইনডোরে কর্মসূচি পালন, গুটিকয়েক নেতা মিলে চায়ের আড্ডার মত গল্প করে কর্মসূচি শেষ করেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তার অনুসারীরা যেমন গ্রুপিংয়ের ফায়দা লুটছেন ঠিক তেমনি তিনিসহ আরো কয়েকজন নেতা ও দলকে প্রায় জিম্মি করে আছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তৃনমূলের কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে ঘুরে ফিরে ঠিক এরকমের কথা শুনা গেছে। তারা আসলেই জানেন না কবে কাটবে এর প্রভাব। তাদের মাঝে ভর করেছে চরম ক্ষোভ আর একরাশ হতাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ...