আজ বুধবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

একযুগ পর শাবির সমাবর্তন, ফি নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

  • আপডেট টাইম : অক্টোবর ৬, ২০১৯ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

শাবি : দীর্ঘ একযুগ পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দিন তারিখ নির্ধারণ না হলেও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সমাবর্তনের যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তা মাত্রাতিরিক্ত বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের শিডিউল সাপেক্ষে জানুয়ারিতে সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারিত হবে। ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৩০ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০০১-০২ সেশন থেকে ২০১০-১১ সেশন পর্যন্ত স্নাতক (অনার্স) ও সমমানের যেসব শিক্ষার্থী ২০০৫-২০১৪ সালে উত্তীর্ণ হয়েছেন তারাই শুধু আবেদন করতে পারবেন। তাদের জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ২০০২-০৩ থেকে ২০১০-১১ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে সাড়ে ৫ হাজার টাকা, ২০০২-০৩ থেকে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এমবিবিএস/বিডিএস/এমফিল/পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থী যারা ২০০৭-২০১৫ সালের মধ্য এ ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাদের জন্য ফি ধরা হয়েছে ৬ হাজার টাকা।

এদিকে সমাবর্তনের ফি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ফেসবুকে ফি বৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা।

ইংরেজি বিভাগের ২০০২-০৩ সেশনের শিক্ষার্থী মো. মুকুল মিয়া বলেন, ‘ঢাবির সমাবর্তন ফি ছিল ২৩২০ টাকা। রাবির ১১তম সমাবর্তন ফি ধরেছে ৩৫৭০ টাকা। শেকৃবি’র সমাবর্তন ফি ২৫০০ টাকা। আর সাস্ট (শাবিপ্রবি) নিচ্ছে ৫৫০০ টাকা। এটা রীতিমতো সমাবর্তন বাণিজ্য। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত ক্যাম্পাসে বাড়তি ফি নির্ধারণের ধারাবাহিকতা সৃষ্টি করবে।’

সমাজকর্ম বিভাগের রাজিব মামুন নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ভর্তি বাণিজ্য, চাকরি বাণিজ্যসহ নানা রকমের বাণিজ্যের কথা শুনেছি। কিন্তু সমাবর্তন বাণিজ্য এই প্রথম!’

পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদ বলেন, ‘সমসাময়িক সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন ফি ৩ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। আমাদের এখানে সেই তুলনায় অনেকটাই বেশি নেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানানো হোক- কোন খাতে কত টাকা খরচ হচ্ছে। তাহলে আমরা এ ফি দিতে রাজি আছি, অন্যথায় আমরা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একাধিক ডিগ্রিধারী গ্র্যাজুয়েটরা সমাবর্তনে যেকোনও একটি ডিগ্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। তবে সার্টিফিকেটের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।

রেজিস্ট্রেশনের জন্য convocation.sust.edu এই ওয়েবসাইটে গিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত ফি প্রদান করে ৩০০*৪০০ পিক্সেলের ছবি ও সাময়িক সনদগুলোর স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। তবে যারা সাময়িক সনদপত্র গ্রহণ করেননি তাদের ক্লিয়ারেন্সের কপি আপলোড করতে হবে।

সমাবর্তনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই শিক্ষার্থী অনেক হওয়ায় আয়োজন বড় হবে। ফি নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এর আগে আরও দুটি সমাবর্তন হয়েছে। শেষ সমাবর্তনের ফি এমনই ছিল। আর আমরা কিন্তু গাউন ও হুড শিক্ষার্থীদের দিয়ে দেবো। এটা তাদের সারা জীবনের স্মৃতি হিসেবে থাকবে। এর জন্য খরচ একটু বেশি হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শামসুল হক প্রধান বলেন, ‘আমি নিজেও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য। সেখানে ফি নিয়ে কথা হয়েছিল। সবাই মতামত দিয়েছিলেন। কাউন্সিলে আলোচনা করেই এই ফি নির্ধারিত হয়েছে। তবে সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ভালো বলতে পারবেন।’

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ৩২০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর মাত্র দু’বার এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন আয়োজন করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম সমাবর্তন ১৯৯৮ সালের ২৯ এপ্রিল ও দ্বিতীয় সমাবর্তন তার ৯ বছর পর ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ ১২ বছরে আর কোনও সমাবর্তন পাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে তৃতীয় সমাবর্তনের পর শিগগিরই ২০১২-১৩ সেশনসহ বাকি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য আরেকটি সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ...