আজ সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

হাসপাতাল কর্মচারীর ৫ অ্যাম্বুলেন্স, সরকারি গাড়ি নষ্ট

  • আপডেট টাইম : অক্টোবর ২৭, ২০১৯ ১২:৫৭ অপরাহ্ণ

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের বড়লেখা ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স প্রায়ই নষ্ট থাকায় রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। তবে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চালকসহ এখানে কর্মরত একাধিক কর্মচারীর ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট রাখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়া হয়। রোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ‘চালুর পর থেকে কখনও তেল সংকট, কখনও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্টসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে সেটি বন্ধ রাখা হচ্ছে। বেসরকারি পরিবহনের রোগী আনা নেওয়ায় সাধারণেরা গুনছেন দ্বিগুণেরও বেশি টাকা। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চাইলে চালক শোনাচ্ছেন বিভিন্ন সমস্যার কথা।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর রাতে রোগীর এটেন্ডেন্ট বিমান দাস অসুস্থ মাকে সিলেটে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স চাইলে চালক জানান অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট। পরে তিনি বেসরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। ভোররাতে মাছুম আহমদ নামে আরেকজন তার অসুস্থ চাচাতো ভাইকে নিয়ে সিলেট যাওয়ার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চালকের নম্বর চেয়ে পাননি। পরে তিনিও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন।

তাদের অভিযোগ, জরুরি সময় অ্যাম্বুলেন্স চাইল তা নষ্ট জানানো হয়। কখনও কখনও চালকের নাম্বার চাইলেও দেওয়া হয়না। শুনেছি এখানকার কর্মচারীদের একাধিক অ্যাম্বুলেন্স আছে। তারা সিন্ডিকেট করে এই অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ থেকে আরও জানা গেছে, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মাছুম উদ্দিনের রয়েছে নিজস্ব দুটো অ্যাম্বুলেন্স। পরিচ্ছনতাকর্মী মৌলা মিয়ার আছে দুটি এবং নিরাপত্তা প্রহরী মুহিবুর রহমান নানুর আছে একটি। তারা সিন্ডিকেট করেই সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি বন্ধ রাখেন। সিন্ডিকেটের বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স তারা হাসপাতালে ঢুকতে দেন না। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন করতে হয়।

‘গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা প্রহরী মুহিবুর রহমান নানুর সঙ্গে বাইরের অ্যাম্বুলেন্স নেওয়া নিয়ে এক রোগীর স্বজনদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ওই রোগীর স্বজনরা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।’

হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেশিরভাগ সময় না চললেও সরকারি বরাদ্দ সুবিধা নেওয়ার জন্য কাগজেকলমে অ্যাম্বুলেন্স চালু দেখানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো কর্মচারীর অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা করার সুযোগ নেই। কিন্তু খোদ হাসপাতাল প্রশাসনের চোখের সামনে দায়িত্ব পালন না করেই এরা অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা করছে। কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সরেজমিনে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, হাসপাতাল কোয়ার্টার এলাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের একটি ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স রাখা।পরিচ্ছন্নতাকর্মী মৌলা মিয়ার ডিউটি থাকলেও তিনি হাসপাতালে ছিলেন না। তার ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় তাৎক্ষণিক তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী ডিউটি করেন না। তাদের অ্যাম্বুলেন্স আছে। তাদের কাজ করার জন্য তারা কম টাকায় লোক রেখেছেন। হাসপাতাল প্রশাসন সব জানে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেন না।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মৌলা মিয়া ও নিরাপত্তা প্রহরী নানু মিয়া তাদের ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ডিউটি ফাঁকি দেওয়ার কথা সঠিক নয়।’

রোগীর স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক মাছুম উদ্দিন বলেন, ‘গাড়ি সত্যি নষ্ট। যন্ত্রাংশ এখানে পাওয়া যায় না। ব্যক্তিগত দুটো অ্যাম্বুলেন্স আছে ঠিক। তবে একটি নষ্ট। এইগুলো বিক্রি করে দিচ্ছি।’

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহম্মদ হোসেন বলেন, ‘চালক গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। ঠিক হতে আরও দুই সপ্তাহ লাগবে। যন্ত্রাংশের জন্য মাঝে মাঝে বন্ধ ছিল। তবে বেশি দিন নয়। দ্রুত কাজ করিয়ে চালু করানো হয়েছে। চাহিদা বেশি হওয়ায় অভিযোগ আসছে। আর সামর্থ্য থাকলে যে কেউ গাড়ি কিনতে পারে। আমরা দেখব কর্মচারীরা অফিস সময়ে হাজির আছেন কি না। পরিচ্ছন্নকর্মী মৌলা মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ