আজ সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

সিলেটেও নজরদারিতে ‘দুর্নীতিবাজ’ নেতারা

  • আপডেট টাইম : অক্টোবর ৩০, ২০১৯ ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ

অতিথি প্রতিবেদক : সিলেটে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থা। ইতিমধ্যে দুর্নীতিবাজ নেতাদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র।

তালিকায় থাকা এসব নেতাদের অবৈধ সম্পদের তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে সংস্থাগুলো। আর দুর্নীতিবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যেই তিনি বেশ কয়েকবার কাওকে ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে অপর্কমে জড়িত নেতাদের হুশিয়ারী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের কারণে গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজে গতি এসেছে।

বিশেষ করে অবৈধ টাকার মালিক বনে যাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ক্ষামতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারনী ফোরাম ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সুত্র বলছে, আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর থেকেই সিলেটের সরকারদলীয় একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি ও সাংসদদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এমন খবরও স্থানীয় প্রশাসনের কানে আসতে শুরু করেছে। তবে এব্যাপারে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কেউই সরাসরি বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

যারা অনিয়ম, দুর্নীতি, ভূমি দখল, লুটপাটসহ বিভিন্ন অপর্কমে জড়িয়েছেন তাদের তালিকায় উঠে এসেছে সিলেটের বেশ কয়েকজন পদধারী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও সেচ্ছাসেবক লীগ নেতার নাম। এর একটি তালিকা গোয়েন্দা সংস্থার হাতে রয়েছে। যে কোন সময় অভিযান শুরু হতে পারে বলেও এই সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি সিসিকের একজন ওর্য়াড কাউন্সিলরের অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন ছাপা হয়। এরপর থেকে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছেন এই নেতা।

সিলেটের ছাত্রলীগের বড় একটি অংশকে ব্যাবহার করে শক্তি অর্জন করে বাসা-বাড়ি, জমি-জমা দখলের অভিযোগ রয়েছে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে।

অপরদিকে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের একজন শীর্ষ নেতা সিসিকের জনপ্রতিনিধি হবার পর থেকে বাসা-বাড়ি দখল করে বনে গেছেন রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক। তার এলাকায় কয়েম করেছেন ত্রাসের রাজত্ব। নিজের হাতে গড়া বাহিনী দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন পুরো এলাকা।

তার পালিত ক্যাডারদের নিয়মীত চাঁদা দিতে হয় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের। তার এবং তার পলিত ক্যাযারদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না কেউ। এই নেতার বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি বাসা দখলের অভিযোগ উঠে এসেছে গণমাধ্যমে।

আর সিলেট সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার প্রক্রিয়ার ব্যাপারেও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সময়ে নগরের ব্যাপকহারে উন্নয়নকর্মকান্ড চলমান থাকলেও কাজের মান নিয়ে জনমনে আছে বিভিন্ন প্রশ্ন। এমনকি সরকারী উন্নয়ন কাজের কমিশন বানিজ্যের ভাগ পাচ্ছেন জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকার দলীয় নেতারা।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানের পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর হয়ে উঠায় বেআইনী কাজে লিপ্ত থাকা নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এবং প্রতিনিয়ত প্রশাসনের থাকা ঘনিষ্টজনদের সাথে যোগাযোগ করে খবর জানার চেষ্টা করছেন। এমনকি চলাফেরায় সাবধানতা অবম্বন করছেন অনেক নেতা। আর কোথায় যেতে হলে আগে পিছে বহর নিয়েও চলাফেরা করছেন।

অন্যদিকে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বির্তকিত ও দুর্নীতিবাজ নেতাদের ব্যাপারে কেন্দ্র প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এদের মধ্যে অনেকই পদ পেতে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

মহানগর পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছে, সিলেট শহরের ক্যাসিনো ও ক্লাব নেই। তবে আছে জুয়ার আসর। তাদের বিরুদ্ধে অভিযানও হচ্ছে নিয়মীত। আর অনিয়মে জড়িত রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেট মহানগর পুলিশের এক কর্মকতা জানান, বিভিন্ন প্রভাবশারী ব্যক্তিদের অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সবসময়ই অপরাধ ঠেকাতে কাজ করে। অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অ্যাকশনে যাবে পুলিশ। বিশেষ করে মাদক, জুয়ার মতো গুরুতর অপরাধে পুলিশ কখনও কাউকে ছাড় দিবে না।

এব্যাপরে র‌্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘যে কারো বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল রেকর্ড তাকলে তার বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাবে র‌্যাব। তিনি যেই হোন না কোন ছাড় দেওয়া হবে না।’

এদিকে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের পর এবার তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি থেকেও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতিমধ্যেই জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে দেওয়া হয়েছে।

আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকেও বিতর্কিত নেতারা বাদ পড়বেন বলে দলীয় প্রধান ইঙ্গিত দিয়েছেন। সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠন থেকেও বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন জেলা পর্যায়ে এ প্রক্রিয়া বিস্তুৃত হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ