আজ সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

প্রাকৃতিক অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমি

  • আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৭ ১:০০ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদক : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমির নাম সিলেটের গোয়াইনঘাট। প্রাকৃতির অকৃপণ রূপ-লাবণ্যে ঘেরা সিলেটের এই পর্যটন কেন্দ্র গুলো। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভারত সীমান্তঘেরা এই অঞ্চলটি যেনো প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যের আঁচলে ঢাকা।

যেখানে পর্যটকরা মুগ্ধ হন, প্রেমে পড়েন শীতল প্রাকৃতির এই লীলাভূমির। এই উপজেলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রকৃতির রূপ-লাবণ্যের অপূর্ব সৌন্দর্যের ভান্ডার। এখানকার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক শোভা অতি সহজেই মুগ্ধ করে যে কাউকে। আর তাই বিশেষ কোনো দিনে রিমঝিম বৃষ্টিতে পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে গোয়াইনঘাটে।

যেখানে ঘুরার দর্শনীয় প্রাকৃতিক লাবণ্যভরা প্রস্তত রয়েছে বিভিন্ন স্পট গুলো । এর মধ্যে রয়েছে সিলেটের-গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত প্রাকৃতিককন্যা জাফলং, দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন (সোয়াম্প ফরেস্ট) রাতারগুল, প্রাকৃতির অপ্সরাখ্যাত বিছনাকান্দি, অপার সৌন্দর্য্যমন্ডিত গ্রাম পানতুমাই, জাফলংয়ের মায়াবী ঝর্ণা।

প্রকৃতির যৌবনে ঘেরা জাফলং
সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র জাফলং ভারত-বাংলাদেশ মেঘালয় পর্বতের প্রদেশে অবস্থিত। প্রাকৃতির অপরূপ লীলা ভুমি প্রকৃতি কন্যা জাফলং। প্রতিদিনই হাতছানী দিয়ে ডাকছে পর্যটকদের। পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে রয়েছে জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, তামাবিল জিরো পয়েন্ট, পার্বত্য অঞ্চলের মত আঁকাবাঁকা মেঠু পথ, ছোট-বড় পাহাড়-টিলা, জাফলং পিকনিক সেন্টার, জাফলং গ্রীণ পার্ক, সবুজের সমারোহে সমতল চা-বাগান, সীমান্তের ওপাড়েই আকাশ ছুঁই ছুঁই করে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের মেঘালয় পাহাড়।

যে পাহাড়ের গায়ে ভেসে বেড়াচ্ছে বর্ষার মেঘ মালা, আবার এই পাহাড়ের গাঁ থেকে ঝড়ে পড়ছে অবিরাম ঝর্ণাধারা, জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলধারায় সাদা-কালো রং-বেরংয়ের বিভিন্ন আকৃতির পাথর, নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী খাসিয়া সম্প্রদায়ের ব্যাতিক্রমধর্মী বসত ঘর, জিরো পয়েন্টের ওমঘট নদীর উপর ভারতের ঝুলন্ত ব্রীজ, খাসিয়া জনগোষ্ঠির পান চাষ, জাফলংয়ের মানুষের সহজাত বন্ধুতা আকৃষ্ট করে তুলবে আপনার ভ্রমণকে। তাই আর দেরী না করে ঈদের আনন্দকে উপভোগ করার জন্য চলে আসতে পারেন সিলেটের জাফলংয়ে।

জাফলংয়ের মায়াবী ঝর্ণা
সীমান্তের ওপারে পাহাড় । সেই পাহাড় থেকে আছরে পড়ছে স্বচ্ছ জলরাশির ঝরনাধারা। পাহাড়ের বুকে সবুজের সমারোহ। চারপাশেই পানির কলকল ধ্বনি। আছে হরেক রকমের নুঁড়ি পাথর। যেন কেউ বিছিয়ে রেখেছে পাথরের বিছানা। পাথরের উপর পানির কলকলানি আর পাখির কিচির মিচির শব্দে হয়ে উঠে এক অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশ। যা না দেখে বুঝা প্রায় অসম্ভব। তাইতো স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছেন মায়াবী ঝর্ণা। যার মোহ-মায়ায় সহজেই আকৃষ্ট করে আগত পর্যটকদের। দু’দেশের সীমান্তের বাধাঁ থাকলেও মায়াবী ঝর্ণা দেখতে যেন নেই কারও বাধা ।

লাবণ্যময়ী এই প্রাকৃতিক পরিবেশে লুকিয়ে আছে হাজারো পর্যটকের অমলিন হাসি। দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভ্রমন পিপাসুদের শত ক্লান্ত ও বিষাদময় মনে নিমিষেই ভরে উঠে প্রশান্তিতে। প্রকৃতির এমন কাছাকাছি আসতে পেরে পর্যটকরা মেতে উঠে বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাসে। ঝর্ণাও এই স্বচ্ছ ও শীতল জলে গা ভিজিয়ে রোমাঞ্চকর অনুভূতি পর্যটকদের দেয় সীমাহীন আনন্দ।

সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল
বিশাল জলাভূমির মধ্যে কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি গাছের একটি জঙ্গল। ডালে ডালে ঘুরে বেড়ায় নানা প্রজাতির পাখি ও বিভিন্ন বন্য প্রাণী। ভেতরের দিকে জঙ্গলের গভীরতা অনেকটাই বেশি যে, সূর্যের আলো গাছের পাতা ভেদ করে জল ছুঁতে পারে না । নৌকায় ঘুরে আপনি পাবেন সীমাহীন আনন্দ। বনের ভিতরে প্রবেশ করলেই দেখতে পাবেন নানা প্রজাতির পাখি। এসবের মধ্যে উলেখ্যযোগ্য হলো মাছরাঙা, বিভিন্ন প্রজাতির বক, ঘুঘু, ফিঙ্গে, বালিহাঁস, গুঁইসাপ পানকৌড়ি ইত্যাদি। বন্যপ্রাণীর মধ্যে হলো উদবিড়াল, কাঠবিড়ালি, বানর, মেছো বাঘ ইত্যাদি। নানান প্রজাতির সাপেরও অভায়শ্রম এ বনে। রাতারগুলের সৌন্দর্য বলে শেষ করার নয়। বনের একেবারে শুরুর দিকটায় মুর্তার বন।

বর্ষায় বেশির ভাগই ডুবে থাকে এ গাছগুলো। এর পরে মূল বন। বনের যতই গহীন যাবেন গাছের ঘনত্ব ততই বেশি দেখবেন। কোথাও কোথাও যেন, সূর্যের আলো পর্যন্ত দেখা যায় না। দু-একদিন বৃষ্টি না হলে বনের জল এত বেশি স্বচ্ছ হয় যে, বনের সবুজ প্রকৃতিকে মনে হয় বনের নিচে আরেকটি বন। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত জল বনের নাম রাতারগুল। সিলেট শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার।

প্রকৃতির অপ্সরা খ্যাত বিছনাকান্দি
জাফলং-রাতার গুলের মত আরেক সৌন্দর্য বর্ধনে ঘেরা সিলেটের প্রান্তিক জনপদ গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি। চারপাশেই পানির কলকল ধ্বনি। পাথরের উপর পানির কলকলানি আর পাখির কিচির মিচির শব্দে ভেসে ওঠে এক আকর্ষনীয় পরিবেশ। যা পর্যটকরা উপভোগ করেন মনে-প্রাণে।

আছে হরেক রকমের পাথর। আবার পাথরের ঘা ছুঁয়ে ভেসে যাচ্ছে স্বচ্ছ জল। আর এই স্বচ্ছ জলে ঘা ভিজিয়ে পর্যটকদের দেয় সীমাহীন আনন্দ। পাহাড় পাথর আর সুনীল জলের সমাহার কেবল এই সিলেটের বিছনাকান্দিতেই। দেশ-বিদেশ থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের মনে দেয় দোলা ।

 

 

(আজকের সিলেট/৩ সেপ্টেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ