আজ বুধবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং

মৌলভীবাজারে উচ্ছেদ আতঙ্কে ৫০ পরিবার

  • আপডেট টাইম : September 5, 2017 10:17 AM

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পাহাড় ঘেরা প্রত্যন্ত গ্রাম ববানপুরে উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ৫০ টি পরিবারের ৪ শতাধিক দরিদ্র মানুষ। প্রভাবশালীদের ভাড়াটিয়া বাহিনী কর্তৃক বসত ভিটে থেকে উচ্ছেদ আতঙ্কে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

সূত্রে জানা যায়, ১৯৫২ সালে ছরিম উল্লা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মৌখিকভাবে প্রায় ১৫ একর জমি ক্রয় করে বসতি গড়ে তোলেন ২৪টি পরিবার। পরে পরিবারগুলো সেই জমির খাজনা দিয়ে বংশানুক্রমে অদ্যাবধি তারা ওই গ্রামে বসবাস করে আসছে। ১৯৬৫ সালে এই গ্রামের পাশের একটি চা বাগান গড়ে উঠলে ২০০৭ সালে হঠাৎ করে বাগান কর্তৃপক্ষ ভূমিটির মালিকানা দাবি করে এবং ৫৫ বছরের পুরনো গ্রামটি দখলে নিতে গ্রামবাসীকে উচ্ছেদের নোটিশ দেয়।

দেশের বিশিষ্ট সমাজসেবক লায়লা কবিরের মালিকানাধীন দিনারপুর টি এস্টেট নামে এই বাগান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে বাগান সম্প্রসারণের জন্য তারা বিবাদমান জমিটিসহ কিছু ভূমি সরকার থেকে ৩৬ বছরের লিজ বন্দোবস্ত নিয়েছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর পক্ষে ছতির মিয়া গং আদালতে মামলা করে এবং পরে হেরে যায়। এরপর গ্রামবাসীরা আপিল করলে এ পর্যন্ত মামলাটি স্থিতিবস্থায় পড়ে আছে। এ অবস্থায় দিনারপুর টি এস্টেট কর্তৃপক্ষ মামলার রায়ের জোরে গ্রামটি উচ্ছেদে চেষ্টা করায় এই ৫০টি পরিবারের ৪ শতাধিক মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে এলাকার আবাল বৃদ্ধ নারী-পুরুষদের চোখে মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ দেখা যায়। ৭৫ বছর বয়সী খোদেজা বিবি বলেন, ৬০ বছর আগে সে নববধূর পোষাকে ওই গ্রামে এসেছিলেন। এরপর একে একে শ্বশুর, শাশুড়ি ও অবশেষে স্বামীও মারা গেছেন সেখানেই। নাতি নাতনি নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন তিনি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামটির চারিদিকে দরিদ্রতার ছাপ। ৫০টি পরিবারের সবগুলো ঘর মাটির তৈরি। বিদ্যুতের আলোহীন গ্রামে কোন কৃষি জমি নেই। উঠানে সবজি ও বাঁশ চাষ এবং দিনমজুরি করা গ্রামবাসীদের আয়ের উৎস।

৬৫ বছর বয়সী গ্রামের আব্রু মিয়া বলেন, চা বাগান মালিকদের টাকা আছে কিন্তু তারা দরিদ্র মানুষ। ওই ভিটে নিয়েই তাদের খুব দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। বাগান মালিকরা তাদেরকে গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করলে তারা কোথায় যাবে? এমন প্রশ্ন তুলে অশ্রুসিক্ত চোখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।

ওই গ্রামের বাসিন্দা মোছদ্দর আলী বলেন, জোর করে উচ্ছেদ করতে বাগান কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় মির্জাপুর ইউনিয়নের সদস্য লুৎফর রহমান বিবার্তাকে জানান, একদিকে উচ্ছেদ ও অন্যদিকে সন্ত্রাসী হামলার আশংকায় গ্রামের দরিদ্র গ্রামবাসিরা তাদের পরিবারের নারী ও শিশুদেরকে নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছেন।

দিনারপুর চা বাগানের ম্যানেজার মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিবার্তাকে জানান, জোর করে গ্রামবাসীদের উচ্ছেদ করার অভিযোগটি সত্য নয়। বিবাদমান ভূমির মালিকানা প্রশ্নে কোর্ট বাগানের পক্ষে যে রায় দিয়েছেন। তারা কোর্টের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোর্ট যদি গ্রামবাসীদের পক্ষে রায় দেয় তবে গ্রামবাসীরা সেখানে থাকবে।

ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে গ্রামবাসীদের উচ্ছেদের অভিযোগটি অস্বীকার করে তিনি আরো জানান, আদালতের রায় পাওয়ার পর সন্ত্রাসী দিয়ে ভূমি দখল নেয়ার কোন প্রয়োজন পড়েনা।

 

 

(আজকের সিলেট/৫ সেপ্টেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ