আজ বুধবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং

ওসমানীনগরে ফের বন্যা

  • আপডেট টাইম : September 5, 2017 1:55 PM

ওসমানীনগর প্রতিনিধি : সর্বনাশা বন্যা পিছু ছাড়ছেনা সিলেটের ওসমানীনগরবাসীর। টানা বৃষ্টি ও পাহারি ঢলের কারণে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ‘কুশিয়ারা ডাইক’’ এর উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় চৈত্র মাস থেকে বন্যা কবলিত হয় ওসমানীনগরবাসী। কিছুদিন পূর্বে বন্যার পানি নেমে গেলেও পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও বন্যাক্রান্ত হয়ে পড়ে উপজেলাবাসী।

ইতিমধ্যে চারা লাগানো বীজতলা, আবাদকৃত ও আবাদযোগ্য জমি গুলো বন্যার জলে তলিয়ে গেছে। পঁচন ধরেছে আবাদকৃত ডুবন্ত ধানগাছে। তবে বর্তমান বন্যায় কৃষির কতটুকু ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বা হতে পারে তার কোন পরিসংখ্যান দিতে পারেনি কৃষি বিভাগ। ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন উপজেলা অর্ধশতাধিক গ্রামের কয়েক সহ¯্রাধিক মানুষ। বন্যার জলে তলিয়ে গেছে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি, অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও বেশ কিছু শিক্ষা ও ধমীয় প্রতিষ্ঠান। বন্যা কবলিত এলাকা গুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ঈদুর ফিতরের ন্যায় নিরানন্দ ঈদ কেটেছে বানবাসী লোকজনের। সবচেয়ে বেশী দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাদীপুর, উমরপুর, পশ্চিম পৈলনপুর, বুরুঙ্গা ও গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের লোকজনদের।

প্রথম দফায় বোরো, দ্বিতীয় দফায় আউশ ফসল হারিয়ে এবার তৃতীয় ধাপের বন্যায় আমন ফসল হারিয়েছেন উপজেলার কৃষকরা। ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে বীজতলার চারাসহ আবাদ করা জমি। বন্যার পানির কারণে অধিকাংশ জমিতেই ধান আবাদ করা সম্ভব হয়নি। উপজেলার আট ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের কয়েক সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। ঈদের দিন থেকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি পূর্বের বন্যা পরিস্থিতি থেকে আরো ভয়াবহরূপ ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উমরপুর ইউনিয়নের লামা ইসবপুর গ্রামের কৃষক বেলাল মিয়া জানান, প্রায় ৫ একর জমিতে বোরো চাষ করেছিলাম বন্যায় নিয়ে গেল। এরপর ১একর আউশ গেল এবার ধারদেনা করে ১একর জায়গায় আমন চাষ করেছিলাম তাও নিয়ে গেল।

সাদীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রব বলেন, কুশিয়ারা ডাইকের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পূর্বের বন্যা পরিস্থিতি থেকে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর। প্রতিনিয়ত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মানুষেল দূর্ভোগ বাড়তে আছে।

স্বাস্থ্যকর্মী রফিক মিয়া জানান, বন্যা কারণে মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানেও ব্যাঘাত ঘটছে। তবুর পানির মধ্যে গিয়ে শিশুদের বিভিন্ন রোগের টিকা ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারাই গ্রামের রীনা বেগম বলেন, প্রায় ৪-৫মাস যাবৎ পানিবন্ধি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছি। কিছুদিন পূর্বে পানি কমলেও আবারও নতুন করে বন্যায় বাড়িঘর তলিয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম নাসিমুল হক বলেন, বন্যার কারণে উপজেলার কৃষকরা বোরো আউশ হারানোর পর এবার রুপা আমন হারাতে বসেছে। বীজতলাসহ অনেক ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আবারও বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে ওসমানীনগরবাসী। সরকারের পক্ষ কৃষকরেদ জন্য ভিজিএফ’র আওতায় চাল ও নগদ টাকা বিতরণ কর্মসূচী চালু আছে বলে জানান তিনি।

 

(আজকের সিলেট/৫ সেপ্টেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ