আজ বৃহস্পতিবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

নেত্রীই একমাত্র ভরসা নেতাদের

  • আপডেট টাইম : December 4, 2019 5:53 PM

সাদিক চৌধুরী :কয়েক ঘন্টার পরই সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনকে সামনে রেখে মিছিলের নগরীতে পরিনত হয়েছে সিলেট শহর। জেলা ও মহানগরের পদপ্রাপ্তির আশাবাদি নেতারা সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে নিজের বলয় কর্মিদের দিয়ে মিছিল করাচ্ছেন। বুধবারও নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় সারাদিন ছিল খন্ড খন্ড মিছিল, এতে দির্ঘ্য যানজট ছিল শহরজুরে। সম্মেলনস্থল পরিদর্শন করেছেন দলটির স্থানীয় নেতারা। ইতিমধ্যে সম্মলনের সকল প্রস্তুতিও চুড়ান্ত করা হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা।

এই সম্মেলনে শীর্ষ পদগুলোতে যাদের নিয়ে আলোচনা চলছে তাদের সিংহভাগই মুখ ফুটে বলছেন না আমি অমুক পদে প্রার্থী কিংবা আমি অমুক পদে আসতে চাই। সবার মুখেই দলের সভানেত্রীর স্বিদ্ধান্তের উপর ভরসা করছেন। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচিত নেতাদের সবাই ই নেত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছেন।

বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ২০০৫ সালের পর এবার সম্মেলন হচ্ছে সিলেট আওয়ামী লীগের। অন্যদিকে ২০১১ সালের নভেম্বরের পর এবার আসবে নতুন কমিটি। ফলে এবারের সম্মেলন নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহের পারদ বেশ তুঙ্গে। তবে সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোট গ্রহণ না করার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র। শেখ হাসিনার মতামতের ভিত্তিতে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করতে পারেন।

জানা গেছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অন্তত ১৩ নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে মহানগর আওয়ামী লীগে অন্তত ১১ নেতাকে ঘিরে গুঞ্জন আছে। এসব নেতাদের একাধিক জনের সাথে আলাপকালে তারা পদ পাওয়ার বিষয়টি দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছেন বলে জানান।

সুত্রমতে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান, বর্তমান সহসভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, সহসভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ নাম সভাপতি পদে আলোচিত হচ্ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। অবশ্য আওয়ামী লীগ সূত্র বলছে, কমিটির শীর্ষ দুই পদের নেতৃত্বে বর্তমানে যারা আছেন, তারাই থাকতে পারেন। আর পরিবর্তন হলে সভাপতি পদে প্রবাসি কল্যান মন্ত্রি ইমরান আহমদ , কিংবা মাহমুদ উস সামাদের মধ্যে কাউকে দেখা যেতে পারে।

সিলেট- ৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস বলেন, ১৯৬৮ সাল থেকে সিলেটে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেখে আসছি, ৫১ বছর বয়স হয়েছে। বিগত দিনে সভাপতি পদে আসার মানসিক প্রস্তুতি ছিল না। তবে এবার আছে। যদি নেত্রী চান, তাহলে দ্বায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছি।

এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সহসভাপতি এডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান ও অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, কোষাধ্যক্ষ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রণজিৎ সরকার, উপ দফতর সম্পাদক জগলু চৌধুরীর নামে কানাঘুষা চলছে।

তবে এডভোকেট নিজাম উদ্দিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আসিন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আলাপকালে অন্য নেতারাও বলেন, নেত্রী আমাদের যে দায়িত্ব দেবেন, আমরা তা পালন করব।

এদিকে, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ থাকতে পারেন। এসব নেতারাও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার নেত্রীর উপর ছেড়ে দিয়েছেন।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, দলের নেত্রী যদি চান বিষয়টি তাঁর ওপর নির্ভর করবে। তবে আমি যেকোনো দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত।

আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি হচ্ছে গণমানুষের জন্য। এখানে পদপদবী মুখ্য নয়। তারপরও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি পদে দেখতে চাইছেন। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই সবাইকে মানতে হবে।’

জানা গেছে, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সাংগঠনিক সম্পাক শফিউল আলম নাদেল বর্তমান, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, ফলজুল আলোয়ার ও বিজিত চৌধুরীর নামে আলোচনা হচ্ছে।

বিজিত চৌধুরী বলেন, ‘আমি সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী। যদি নেত্রী দেন, তবে আমি দায়িত্ব নেব।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ