আজ মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২০ ইং

জগন্নাথপুরে লাঙ্গল টানছেন বাবা-ছেলে

  • আপডেট টাইম : December 5, 2019 11:23 AM

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : এক কৃষক তাঁর ছেলেকে নিয়ে হালচাষের জন্য মই টানছেন। এ সময় আরেক কৃষক এগিয়ে এসে তাদেরকে লাঙ্গল টানতে সহযোগিতা করেন। পিছনে একজন কৃষক লাঙ্গল ধরছেন আর সামনে কাঁধে জোয়াল এর বদলে লাঠি নিয়ে দুইজন কৃষক ক্ষেতে টেনে যাচ্ছে মই আর লাঙ্গল। জগন্নাথপুরের দ্বিতীয় বৃহৎ মইযার হাওরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

কথা হয় বোরো ক্ষেতে গরুর বদলে মই টানতে থাকা জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ভবানিপুরের কৃষক শানু মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, তিনি একজন বর্গা চাষী। বর্গা নিয়ে জমি চাষাবাদ করে ৭ সদস্যের পরিবারের সংসারে সারা বছর খাবার-দাবারের যোগান দিতে হয়।

শানু মিয়া বলেন- ‘গরু দিয়েই ক্ষেতে মই দিতে হয়। কিন্তু আমরা গরীব মানুষ। গরু কোথায় পাব। তাই নিজের ছেলেকে দিয়ে সকাল থেকে বাবা-ছেলে মিলে ক্ষেতে মই টানছি। মই এর কাজ শেষে লাঙ্গল টানতে হয়। আধুনিক যন্ত্র ট্রাক্টর দিয়ে এ কাজ করা সম্ভব। কিন্তু এতে খরচ হবে বেশি। এমনিতেই ধানের দর কমে গেছে। তাই খরচ বাঁচাতে প্রতিবেশী এক কৃষক ভাইয়ের সহযোগিতায় আমরা তিনজন মিলে ক্ষেতে ট্রাক্টরের বিপরীতে লাঙ্গল টানছি।’

এভাবে শানু মিয়াসহ তিনজন মিলে এবার ১৩ কেদার জমিতে বোরো আবাদ করছেন।

কৃষকের ছেলে এমরান আহমদ বলেন, সংসারে বাবাকে সহযোগিতা করতে মাঠে কাজ করছি। আমাদের কৃষি কার্ড থাকলেও সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পাইনি।

কৃষক বাহার মিয়া জানান, দরিদ্র কৃষক নিজের ছেলেকে নিয়ে ক্ষেতে কাজ করছিলেন। গরুর বদলে লাঙ্গল টানতে তিনজন মানুষের প্রয়োজন। দুইজন দিয়ে লাঙ্গল টানা অসম্ভব। তাই একজন প্রতিবেশী হিসেবে আরেক কৃষককে সহায়তার জন্য লাঙ্গল টানার কাজে আমি তাদেরকে সাহায্য করেছি।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, দরিদ্র কৃষকদের সহায়তার জন্য আমাদের নিকট আলাদাভাবে কোন বরাদ্দ নেই।

জগন্নাথপুর উপজেলা হাওর বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এক সময় কৃষিপ্রধান এই এলাকায় কৃষকদের ঘরে ঘরে গরু, জোয়াল এবং লাঙ্গলসহ কৃষি যন্ত্রপাতি ছিল। প্রযুক্তির এই যুগে বদলে গেছে সেই চিত্র। আধুনিকতার কারণে এখন কৃষিখাতে খরচ বেশি। সেই তুলনা ধানের ন্যায্য মুল্য পাচ্ছেন না কৃষক।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ