আজ শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং

আজ বালাগঞ্জ মুক্ত দিবস

  • আপডেট টাইম : December 7, 2019 5:16 AM

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি : বালাগঞ্জবাসীর কাংঙ্খিত বিজয়ের গৌরবান্বিত সেই স্মরণীয় দিনটি হল আজ ৭ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর পৈত্রিক ভূমি বালাগঞ্জ উপজেলা (বর্তমানে ওসমানী নগর উপজেলা) হানাদার বাহিনীর (পাকিস্তানি) কবল থেকে মুক্ত ঘোষণা করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইহিতাসে এই দিনটি ‘বালাগঞ্জ মুক্ত দিবস’ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধা ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ভারতের ত্রিপুরা থেকে একদল মুক্তিযুদ্ধা ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে বালাগঞ্জ আসেন। ৬ ডিসেম্বর রাতে তাদের দল নিয়ে বালাগঞ্জ থানা ভবনে অবস্থানকারী পুলিশ বাহিনীকে ঘেরাও করে রাখেন।

বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারেন বালাগঞ্জ থানায় পাক হানাদার বাহিনী নেই, তবে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে একদল বাঙ্গালি পুলিশ রয়েছে।

৭ ডিসেম্বর সকালে বার্তা বাহকের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আত্মসমর্পণের নির্দেশ পাঠানো হয়। পুলিশ বাহিনী তখন দুই ঘণ্টা সময় চায়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা ঘোষণা করেন এতো সময় দেয়া যাবেনা ১০/১৫ মিনিট সময় দেয়া যেতে পারে। অতঃপর সিদ্ধান্ত হয় পাক হানাদারের দোসররা সকাল ৯টায় অস্ত্র সমর্পণ করবে। এই সিদ্ধান্তের আলোকে পুলিশ বাহিনী থানা ভবনের মালখানায় অস্ত্র জমা দেন এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সকাল পৌণে ১০টায় মুক্তি বাহিনীর অধিনায়কের নিকট থানার চাবি হস্তান্তর করেন। সকাল ১০টার সময় থানার সমুখস্থ প্রাঙ্গণে সকালে মাঠের এক পার্শ্বে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা সারিবদ্ধ ভাবে লাইন করে অবস্থান নেন। সবার হাতে ছিল অস্ত্র।

সেদিন পাক সেনাদের আত্মসর্মণের পর উপজেলা সদরস্থ সাব-রেজিস্ট্রারী অফিস প্রাঙ্গণে মুক্তিকামী শত শত মানুষের ভিড় জমে। মুক্তিবাহিনীর প্রায় ৪০ জন সদস্য উপস্থিত জনতার সামনে তাদের পরিচয় দেন। উৎসুক জনতা মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বিজয়ী’ অভিবাদন জানান।

মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সবাই শান্ত থাকুন। এখানকার সব কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বালাগঞ্জের পুলিশ বাহিনী এবং রাজাকাররা আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আজ আমরা বালাগঞ্জবাসী মুক্ত।’

সেই দিন বালাগঞ্জ মুক্তকারী ওই মুক্তিযোদ্ধা দলের সাথে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা বালাগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের অন্যতম সদস্য মোঃ মালিকুল ইসলাম, আবু হাসান হাসনু বলেন, একাত্তরের সেই দিনের কথা জীবনে ভোলার নয়। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের স্বাধীনতার কাংখিত পূর্ণতা আজও আসেনি।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ