আজ সোমবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

বানিয়াচংয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : January 17, 2020 5:26 AM

বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে রাস্তা তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারা কাজ করা অভিযোগে তুলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

উপজেলা প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, আইআরআইডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় বানিয়াচং ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর চক বাজার পয়েন্ট থেকে গড়ের ঢালা সড়কের ১ হাজার ৩শ’ ৪০ মিটার কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পায় বি-বাড়িয়ার মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ৭৪ লাখ ৪২ হাজার ১শ’ ৬৬ টাকা।

হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান গত ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর এই রাস্তার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কাগজে কলমে হাসান এন্টারপ্রাইজের নাম থাকলেও মূলত কাজ করাচ্ছেন বানিয়াচংয়ে উজ্জ্বল মিয়া নামে আরেক ঠিকাদার। সাব ঠিকাদার হিসেবে তিনি এই রাস্তার কাজ করাচ্ছেন।

দীর্ঘ ১৫ মাস পর অবশেষে গত ১ সপ্তাহ পূর্বে ওই ঠিকাদার কাজ শুরু করলেও শুরুতেই রাস্তার মধ্যে নিম্নমানের ইটের খোয়া ফেলে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি রাস্তার উভয় পাশে দুই নম্বর ইট দিয়ে এজিংয়ের কাজও কিছু কিছু জায়গায় করে ফেলে ঠিকাদার। এরই মধ্যে রাস্তার অধিকাংশ স্থানে মাটি ভরাট করানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় কাজ শুরু করলে এলাকাবাসী মিলে এসব নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ না করতে নিষেধ করেন কাজের সাথে জড়িত শ্রমিকদের। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পরে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় ঠিকাদারের লোকজন।

এলাকাবাসী মাসুদ মিয়া (মেম্বার), হুসমত আলী ও আলাল মিয়া অভিযোগ করে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ শুরু করার খবর পাওয়ার পর আমরা এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করি। পরে কাজ বন্ধ করে নির্মাণ শ্রমিকরা চলে যায়।

দৌলতপুর গ্রামে বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, নরম ইট দিয়ে শুরুতেই কাজ করে ঠিকাদারের লোকজন। তাছাড়া রাস্তার নিচে বা উপরে বালুর পরিবর্তে রাস্তার দুই পাশ থেকে মাটি কেটে তা ছিটিয়ে দিয়েছে তারা। আমাদের শ্রম-ঘামের ও ট্যাক্সের টাকায় রাস্তার কাজ হচ্ছে। অতএব নিম্নমানের কাজ করে ঠিকাদার পার পাবে না। আর সরকার তো কাজের জন্য বরাদ্দ দিতে কম দেয়নি তাহলে দুই নম্বর কাজ কেন?

এ ব্যাপারে সাব ঠিকাদার উজ্জ্বল মিয়া জানান, রাস্তার মধ্যে কিছু গর্ত থাকার ফলে এসব জায়গায় নরম ইটের খোয়া দেয়া হয়েছে। ভালো ইটের খোয়া উপরে দেয়া হবে। রাস্তার পাশের এজিং আটকানের জন্য এসব দেয়া হচ্ছে। তবে কাজতো চলমান আছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে বি-বাড়িয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খাইরুল হাসানের মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভি করেনি।

উপজেলা প্রকৌশলী আল-নূর তারেক জানান, কাজ বন্ধ রয়েছে সেটা আমি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ