আজ মঙ্গলবার, ৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং

মেয়াদ শেষ, একটি কমিটিও করতে পারেনি জেলা বিএনপি

  • আপডেট টাইম : February 4, 2020 10:12 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন করার লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে গত বছরের ২ অক্টোবর গঠন করা হয়েছিল আহ্বায়ক কমিটি। এসময় তিন মাসের মধ্যে জেলার সকল উপজেলা ও পৌরসভার কমিটি গঠন করে জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো আহ্বায়ক কমিটিকে।

তবে নির্ধারিত সময় পেরেনোর পরও একটি উপজেলা বা পৌরসভারও কমিটি গঠন করতে পারেননি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ফলে আহ্বায়ক কমিটির দক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠেছে। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর সিলেটের বিএনপির কার্যক্রমে গতিশীলতা আসার বদলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ দলটির নেতাকর্মীদের।

কমিটি গঠনের কিছু দিনের মধ্যে ১৭টি উপজেলা ও পৌরসভায় একজন করে আহ্বায়ক মনোনীত করেন জেলার আহ্বায়ক কমিটির নেতারা। তবে নাম ঘোষণার আগেই এ নিয়ে দেখা দেয় বিতর্ক। এরপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে আটকে যায় উপজেলার আহ্বায়কদের নাম ঘোষণা। এমনকি আহবায়কের নিজ উপজেলা বালাগঞ্জেও একজনের নাম চুড়ান্ত করে শেষ মেষ ঘোষনা করা সম্ভব হয়নি।

গত ২ অক্টোবর মেয়াদোত্তীর্ন হওয়া জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদারকে আহ্বায়ক করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ২৫ সদস্যের এই কমিটি নিয়ে শুরু থেকেই দেখা দেয় বিতর্ক। অনেক বিতর্কিত নেতাকে এই কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের অনেককে মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সাংগঠনিক তৎপরতা দিয়ে এই বিতর্ককে উড়িয়ে দিতো পারতো আহ্বায়ক কমিটি। তবে মেয়াদ শেষেও অধীনস্থ একটি ইউনিটের কমিটিও করতে না পারায় বিতর্ক আর সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পদবঞ্চিতরা।

তবে আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্বশীলরা দাবী করছেন- বৈরি পরিস্থিতি, প্রশাসনের বাধা, মামলা-হামলার কারণে বিভিন্ন কর্মসূচীতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে সাংগঠনিক তৎপরতা। একারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সবগুলো কমিটি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন দায়িত্বশীলরা।

তবে আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের এমন বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল হুদা শাহীন। নির্ধারিত সময়ে একটি কমিটিও করতে না পারাকে তিনি দেখছেন আহ্বায়ক কমিটির ব্যর্থতা হিসেবে। শাহীন বলেন, যারা কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন তারা ব্যর্থ হলে তো কিছু বলার নেই।

উপজেলাগুলোতে পকেট কমিটি করার চেষ্টা করা হয়েছিলো অভিযোগ করে তিনি বলেন, একটা গোষ্ঠি কমিটি পকেটে রাখতে চায়। বিএনপি একটা বলয়ে বন্দি হয়ে গেছে। এটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হওয়া উচিত। আমাদের তো এখন কোনো মিটিংয়েরও দাওয়াত দেওয়া হয় না।

এদিকে, সাংগঠনিক স্থবিরতার পাশাপাশি আহ্বায়কের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করেছেন বিএনপির অনেক নেতা। আহ্বায়ক কমিটিরই একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তাদের অভিযোগ- আহ্বায়ক জেলা বিএনপির সকল বৈঠক করেন কমিটির দুই সিনিয়র সদস্যের বাসা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। ফলে এই দুই নেতার বলয়ে বিএনপির বন্দি হয়ে গেছে। মতবিনিরোধ নিয়ে আহ্বায়ক কমিটির একাধিক সভায় তীব্র বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছেন তারা। এছাড়া রেজিস্টারি মাঠে জেলা বিএনপির একটি সভায় আসন গ্রহণ নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। আর উপজেলার কর্মীসভা করতে গেলে গোয়াইনঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলায় হাতাহাতিও হয়েছে।

তাদের অভিযোগ- নগরীর একটি হোটেলে বসে বিভিন্ন উপজেলার আহ্বায়ক কমিটি গঠনের চেষ্টা করে আহ্বায়ক কমিটি। এই অভিযোগ লন্ডনে অবস্থানরত দলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পর্যন্ত যায়। পরে তারেক রহমানের নির্দেশে সিলেটের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ডা. এবিএম জাহিদ হোসেন সিলেট এসে আহ্বায়ক কমিটিকে প্রতিটি উপজেলায় গিয়ে কর্মীসভা করে ইউনিট কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পর বিভিন্ন উপজেলা সফর শুরু করে আহ্বায়ক কমিটি।

নির্ধারিত সময়ে একটি কমিটিও করতে না পারাকে নিজেদের ব্যর্থতা বলেই মনে করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের কিছু ব্যর্থতা তো আছেই। কমিটির সদস্য হিসেবে এই ব্যর্থতায় দায় আমারও। তবে প্রতিটি উপজেলায় ইতোমধ্যে আহ্বায়কের নাম চুড়ান্ত করা হয়েছে।

তবে সার্বিক বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, দেশে তো কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। আমরা কোনো সভা সমাবেশ করতে পারছি না। উপজেলায় কর্মীসভা করতে গিয়েও প্রশাসনের বাধার মুখে পড়ছি। এছাড়া আমাদের মিথ্যে মামলায় জড়ানো হচ্ছে। এসব কারণে সাংগঠনিক তৎপরতা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তবে উপজেলার আহ্বায়কের নাম চুড়ান্ত করে কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা সিটি নির্বাচনের কারণে কেন্দ্রের অনুমোদন পেতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এসব কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পরপরই জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ