আজ সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং

‘বাঁশের সাঁকো’ই ভরসা!

  • আপডেট টাইম : May 22, 2020 10:07 AM

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌর এলাকা ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগের জন্য ধলাই নদীতে একটি সেতুর অভাবে প্রায় ২৫ টি গ্রামের হাজারো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হচ্ছে বাঁশের সাঁকো। বাঁশের তৈরি সাঁকোর উপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ, গর্ভবতী মহিলা অসুস্থ রোগী ও বৃদ্ধ লোকেরা যাতায়াত করেন। জরুরী ভিত্তিতে ধলাই নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী সরকারের উপর জোর দাবী জানান।

কমলগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড করিমপুর গোপালনগর খেয়াঘাট হয়ে সদর ইউনিয়নের সাথে এই সড়কের যোগাযোগ। মধ্য জায়গায় বড় বাধা হচ্ছে ধলাই নদী। রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটে এই বাঁশের সাঁকোটি অবস্থান। যার ফলে ইউনিয়ন হতে পৌরসভায় এবং পৌরসভা হতে ইউনিয়নে যেতে হলে এ সাঁকো ব্যবহার ছাড়া পৌঁছা সম্ভব নয়।

এছাড়াও মৌলভীবাজার জেলা সদরে লোকজন পৌঁছাতে হলে ৬ থেকে ৯ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যেতে হচ্ছে। সরইবাড়ী, রামপুর, রামপাশা, ছাইয়াখালি, চৈতন্যগঞ্জ, নারায়ণপুর, বনগাঁও, বাদে উবাহাটা গ্রামগুলো ছাড়া আরো ১০ থেকে ২০ টি গ্রামের লোকজন এ সাঁকোটি ব্যবহার করেন। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি নির্মাণ হলে প্রায় ২৫টি গ্রামের লোকের যাতায়াতের পথ সুগম হবে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও দাবিটি বার বারই উপেক্ষিত। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, গত সংসদ নির্বাচনে এই অঞ্চলের বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি এলাকাবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আবার নৌকা মার্কা জয়যুক্ত হলে উক্ত স্থানে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হবে এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে। কিন্তু এবারও যেন তা উপেক্ষিতই হচ্ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানান, বাজারের সদাই দোকানির মাল কৃষি যন্ত্রপাতি পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

কমলগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা দেওয়ান আব্দুর রহিম মুহিন বলেন, এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। কমলগঞ্জ সদও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, এ স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের। এখানে একটি সেতু বা ব্রিজ নির্মাণ করা হলে কমলগঞ্জ পৌরসভার সাথে সদর ইউনিয়নের যোগাযোগের একটি সেতু বন্ধন তৈরি হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর কমলগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মামুন আহমদ জানান, জনস্বার্থে এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা খুবই জরুরী। বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে সরেজেমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ