আজ মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

জাতীয় বাঁশ উদ্যানে বাঁশ নেই!

  • আপডেট টাইম : July 27, 2020 10:29 AM

অতিথি প্রতিবেদক : দেশের একমাত্র জাতীয় বাঁশ উদ্যান করা হয়েছিল সিলেট বন বিভাগের ফরেস্ট স্কুল অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (এফএসটিআই) চত্বরে। ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এটি করা হয়। শহরতলীর বিমানবন্দর এলাকায় জাতীয় বাঁশ উদ্যানে লাগানো এসব বাঁশের চিহ্নও নেই। বাঁশ শূন্য এ উদ্যানে আছে শুধু ঘাস।

শুরুতে এখানে সোনালীসহ দুর্লভ সব জাতের বাঁশ লাগানো হয়। এছাড়াও কলসি বোতল, কালী, রঙ্গন, কঞ্চি, মৃতিঙ্গা, টেংগা, বরুয়া, বুদুম বেতুয়াসহ সিলেট অঞ্চলের প্রসিদ্ধ ২৪ জাতের ২৩টি চারা এই উদ্যানে লাগানো হয়। কিন্তু পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই উদ্যান বিলীন হয়ে গেছে। ফলে সরকারের দুই লাখ টাকা ব্যয়ে লাগানো বাঁশের চারা থেকে ঝাড় হয়ে ওঠেনি। এমনকি বাঁশ উদ্যানের অস্তিত্বও নেই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্লভ ও বিপন্ন হয়ে পড়া দেশি-বিদেশি ৭০০ বাঁশের চারা রোপণের লক্ষ্যে সিলেটে শুরু করে দেশের প্রথম জাতীয় বাঁশ উদ্যান (ন্যাশনাল ব্যাম্বু পার্ক)। ৩০ একর জায়গায় বন বিভাগের ফরেস্ট স্কুল অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। সেখানে ২০১৩ সালের জুন মাসে ১ দশমিক ৪১৭ একর জায়গাজুড়ে বাঁশ উদ্যানের যাত্রা শুরু হয়।

সংশ্লিষ্টরা তখন জানিয়েছিলেন- গ্রামে বাঁশ ‘গরিবের কাঠ’ হিসেবে সমাদৃত হলেও নানা কারণে ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এটি। পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়াতে ও বাঁশের বিলুপ্তি ঠেকাতে এ উদ্যান বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্তত শতাধিক দেশি-বিদেশি বাঁশের জাত সংগ্রহ করে এই উদ্যান আরও সমৃদ্ধ করা হবে। এটি বন ও পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী-গবেষকদের গবেষণায়ও সহায়ক হবে।

কিন্তু সেই উদ্যান এখন বিলুপ্তির পথে। যেখানে সিলেট অঞ্চলে পাহাড়-টিলা-বনের প্রাকৃতিক সমৃদ্ধির ফলে বাঁশের ব্যাপক উৎপাদন হয়। সেখানে ঘটা করে লাগানো বাঁশের চারা থেকে ঝাড় হওয়া তো দূরের কথা, সবগুলো চারা মরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। লাল মাটির সিলেটে বাঁশের কঞ্চি পুঁতে রাখলেও বাঁশের ঝাড় হয়ে যায়। এমনকি কবরে দেয়া বাঁশের কাচা টুকরো থেকেও বাঁশঝাড় হয়ে ওঠে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে লাগানো চারা থেকে বাঁশঝাড় না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সিলেট বন বিভাগের রেঞ্জার হাসমত আলী জানান, বাঁশের চারা লাগানোর সময় সমস্যা হয়েছিল। পরে হয়ত নাড়াচাড়া করায় চারা থেকে বাঁশ গজায়নি।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ