আজ বুধবার, ৩রা জুন, ২০২০ ইং

‘ইলেক্ট্রিক মিডিয়া’ আবার কি?

  • আপডেট টাইম : September 12, 2017 12:54 PM

নিজস্ব প্রতিবেদক : চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যেই রোববার অনুষ্টিত হলো সিলেট সিক্সার্স’র লগো উন্মোচন ও সংবাদ সম্মেলন। বিশেষ করে অনুষ্টানের শুরু থেকেই চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় সংবাদ সম্মেলনে আসা সাংবাদিকদের। আর উপস্থাপকের উপস্থাপনাতো রীতিমতো পুরো অনুষ্টানস্থলের সবাইকে বিনোদন যুগিয়েছে।

জানা যায়, সিলেট সিক্সার্সের অফিসিয়াল লাঞ্চ শেষে করে আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলন কাভার করতে যান সাংবাদিকরা। কিন্তু সেখানে ঘটে বিপত্তি। গেইটে ইনভাইট কার্ড না আনার অযুহাতে আটকিয়ে দেয়া হয় সাংবাদিকদের। এসময় একটি বেসরকারী টেলিভিশনের সাংবাদিক জোর প্রতিবাদ করলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।

ভেতরে প্রবেশ কররার পর ঘটে আরেক বিপত্তি। অনুষ্টান স্থলে আয়োজকদের ভাষায় ‘প্রেস ও ইলেক্ট্রিক মিডিয়া’র জন্য নির্ধারিত আসন থাকলেও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরতদের জন্য কোন নির্দিষ্ট আসন ছিলনা।

আর ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার স্থলে ইলেক্ট্রিক মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়ার স্থলে প্রেস লেখা নিয়েও বিরক্ত হন স্থানীয় সাংবাদিকরা। যদিও সিলেটের টিম এজন্য কেউ আর কথা বাড়াননি।

অনুষ্টানের উপস্থাপক যখন জাতি সঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও অর্থমন্ত্রীর সহোদর ড. একে আবদুল মোমেনকে পরিচয় করিয়ে দেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় তার নাম আলদ আশফাক আহমদ বলায় অনুষ্টানে উপস্থিত সবাই বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন।

এতো গেলা অব্যবস্থাপনার কথা।

অনুষ্টানের বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিক্সার্স’র পরিচালক (সিলেট মিডিয়া) মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম।

তিনি তার বক্তব্যে যখন, মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে গিয়ে একাধিকবার যখন ‘তিনিকে ধন্যবাদ, তিনিকে ধন্যবাদ’ বলছিলেন তখন উপস্থিত অনেক অতিথিকেই মুচকি হাসতে দেখা যায়।

এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ রসালো আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

আজকের সিলেট ডটকম’র পাঠকদের জন্য ফেইসবুকে দেয়া কয়েকজন সংবাদিকের হুবহু মন্তব্য তুলে ধরা হলো:

চ্যানেল ২৪ এর ষ্টাফ রিপোর্টার গোলজার আহমদ লিখেছেন- ‘আমরা সবাই বিদ্যুৎ মিডিয়া (Electric Media), (কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী ) গতকাল একটি অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রনে ছিলাম’।

তিনি আরো লিখেছেন- ‘সাবেক রাষ্ট্রদুত কে সাবেক রাষ্ট্রপতি বানিয়ে দিলেন উপস্থাপিকা, দুঃ খিত শব্দটা না শিখে মঞ্চে আবার নির্লজ্জের মতো কথা বললেন তিনি। সেই সাথে ক্রেস্টকে বারবার পেষ্ট বলে চালিয়ে দিছেন।

উপস্থাপকতো আরো একধাপ এগিয়ে…. মাহেন্দ্রক্ষনকে মহেন্দ্রকন আর উজ্জীবিতকে উদজিজীবিত বলে চিৎকার আর চিৎকার।’

তিনি আরো লিখেছেন- ‘একটি ফ্রাঞ্চাইজি গ্র্যান্ডঅপেনিং প্রোগ্রামে যদি প্রেজেন্টাররা ভুলবাল কথা বলে তখেন সে দলের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে । একটি আন্তর্জাতিক মানের দল গড়তে হলে আন্তর্জাতিক প্রেজেন্টেশন দরকার (দলের লক্ষ্য,উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং নানাবিদ বিষয় ) । আজ সিলেট সিক্সার্সের আয়োজনে তার ছিটেফোটাও ছিল না ।
শুরুটা যদি অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাহলে তার শেষ টা কি হবে তা এই মুহুর্তে বলা মুশকিল । আমার মনে হয়েছে দেরিতে দলটি আত্মপ্রকাশ করলেও সময় ও পরিকল্পনায় কোন সময় নেয়া হয়নি কিংবা পরিকল্পনাকারীর সমন্বয়হীনতার অভাব অথবা দক্ষতার অভাব। দল হিসেবে শুধু খেলেই দর্শকের মন জয় করা যায় না , দর্শকের মন জয় করতে হলে চাই দলের ব্রান্ডিং আর নতুনত্ব ।

যাক তারপরও তো সিলেটের একটি দল বিপিএলে যুক্ত হয়েছে সেটাই খুশির খবর । শুভকামনা স্বজনময় সিলেট সিক্সার্স ।’

সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল আহাদ লিখেছেন- ‘বিপদজনক! দয়া করে কেউ পাশে আসবেন না, ভয়ংকর শর্ট(শকও পড়তে পারেন) খাবেন!’

তিনি আরো লিখেছেন- ‘উপস্থাপকের কারণে একটি অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়। আবার উপস্থাপকের কারণেই সুন্দর একটি অনুষ্ঠান দর্শকদের জন্য বোরিং হয়ে যায়। যেমনটি আজ হয়েছে। বিপিএলএ সিলেট সিক্সার্স দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানটি ছিল বিগ বাজেটের। আয়োজকরাও অনুষ্ঠানটি জমকালো করতে চেষ্টার কম করেননি। কিন্তু অনুষ্ঠানের দুই উপস্থাপক অনুষ্ঠানটি মাটি করে দিয়েছেন। উপস্থাপনা করতে গেলে উপস্থাপককে অনেক কিছু জানতে হয়। সমসাময়িক বিষয়ের জ্ঞান থাকতে হয়। কিন্তু এই দুই উপস্থাপকের মধ্যে এমন কিছু পাওয়া যায়নি। নারী উপস্থাপক অর্থমন্ত্রীর ভাই মোমেনকে সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। ঘোষণার সাথে সাথে অডিয়েন্সে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। তারপরও তিনি দুঃখীত বলে সংশোধন করেননি। নাসির হোসেনকে পরিচয় করিয়ে দেন নাসির রহমান বলে! আর পুরুষ উপস্থাপক মাহেন্দ্রক্ষণকে বারেবারে বলেন মহেন্দ্রক্ষণ! যতবার বলেছেন ততবার অডিয়েন্স হেসেছে। এরমধ্যে দুজনের উচ্চারণ ভুল। এমন বড় অনুষ্ঠানে প্রয়োজন ছিল একজন বড় মাপের উপস্থাপকের। কিংবা পেশাদার উপস্থাপক। এতে হয়তো বাড়তি কিছু টাকা ব্যয় হতো। কিন্তু অনুষ্ঠান হতো প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়। যেহেতু অনুষ্ঠানটি ‘এসসিএস’ লাইভ সম্প্রচার করেছে তাই বাকী ভুল আপনারই বলেন কমেন্টসে।’

দৈনিক উত্তরপূর্বের স্টাফ রিপোর্টার এহিয়া মারুফ লিখেছেন- ‘তিনিকে ধন্যবাদ’।

জানা যায়, অনুষ্টানের পুরো বিষয়টিই দেখাশুনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিক্সার্স’র পরিচালক (সিলেট মিডিয়া) মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম।

সার্বিক বিষয় নিয়ে মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিমের সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা  হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি এসএমএস পাঠানো হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

(আজকের সিলেট/১২ সেপ্টেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ