আজ সোমবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

জামালগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা

  • আপডেট টাইম : September 12, 2017 7:36 PM

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে জামালগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শামছুল আলম ঝুনুসহ তিন জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখিত অপর দুইজন আসামীরা হলেন একই উপজেলার জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষীপুর গ্রামের মৃত মফিজ আলীর পুত্র মো: মজনু মিয়া (৬৬), মৃত আবুল খয়ের এর পুত্র এনাম উদ্দিন (৬২)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

মঙ্গলবার একই উপজেলার সদরকান্দি গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা মুন্সি আব্দুল গণির পুত্র মো: আব্দুল জলিল বাদি হয়ে আমল গ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জামালগঞ্জ আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক আবু ওমর মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় ১৫ জন ব্যক্তিকে স্বাক্ষ্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদের নাম রয়েছে। মামলায় খুন, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ,অগ্নিসংযোগ এর অভিযোগ আনা হয়েছে আসামীদের উপর। এজাহারে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের লোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরা হয়।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, শামছুল আলম ঝুনুর পিতা মৃত আবুল মনসুর আহমদ লাল মিয়া ৭১ সালে রাজাকার বাহিনী, শান্তি কমিটি, আলবদর, আল সামস বাহিনীর প্রধান পৃষ্টপোষক ছিলেন। যুদ্ধকালিন সময়ে লাল মিয়া তাহার যুবক পুত্র শামছুল আলম ঝুনুসহ অপর আসামীদের নিয়ে হালিয়ার হাওরে টহল দিতেন। এ হাওর দিয়ে বালাট সীমান্তে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে রওয়ানা হলে তাদের উপর চালানো হতো নির্মম নির্যাতন। সুন্দরী মহিলাদের জোড় করে ধরে এনে ধর্ষন করতেন। এমনকি সুনামগঞ্জ পাক আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে আসা হতো সুন্দরী মেয়েদের।

এজহারে বাদি আরো উল্লেখ করেন তার পিতা মুক্তিযুদ্ধের সময় বালাট ক্যাম্পে ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের রিক্রুটিং এর কাজে দেশে এসে যুবকদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে উদ্বুদ্ব করতেন। মামলার আসামীরা ৭১ সালে তাদের বাড়িঘর পুড়ে ছাঁই করে লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া কালিপুর গ্রামে আলতাব আলীর ৪টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ,ধর্ষণ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদের ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ কালিপুর গ্রামের ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে সুলতান মিয়া, নুরুল মিয়া, সিকান্দর আলী, শফিকুল ইসলাম কলমদর, সুরুজ মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুট, ধর্ষণ সদরকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর, কালিপুর গ্রামের আফু মিয়াকে তাদের সহযোগীতায় গুলি করে হত্যা, লম্বাবাক গ্রামের নাগর আলীকে গুলি করে হত্যা মফিজনগর গ্রামের নানু মিয়াকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। বাদি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাবেক পিপি এডভোকেট মো: শফিকুল আলম, এডভোকেট আলী আমজদ।

সাবেক পিপি এডভোকেট মো: শফিকুল আলম জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে মামলাটি আদালত গ্রহণ করে তদন্তের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় হত্যা, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হবে।

 

(আজকের সিলেট/১২ সেপ্টেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ