আজ বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং

ঘন্টায় ঘন্টায় বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

  • আপডেট টাইম : March 20, 2020 10:02 AM

আশরাফুল ইসলাম ইমরান (অতিথি প্রতিবেদক) : করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার যেভাবে ঘন্টায় ঘন্টায় বাড়ছে, সিলেটের বাজারেও সেভাবে বাড়ছে নিত্য পণ্যের দাম। এর লাগাম টেনে ধরার যেন কেউ নেই। লাফিয়ে এমন দাম বাড়ায় ক্রেতাদের মাঝে কেবলই হাতাশা। জেলা প্রশাসনের মনিটরিং টিম বাজারে নামলেও তা কোন কাজে আসছেনা।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কেনাকাটার যে প্রবণতা গত ৩ দিন যাবৎ শুরু হয়েছিলো তা তীব্র মাত্রা পেয়েছে। সিলেটের সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার কালীঘাটে চাঁদ রাতের মতো হাজার হাজার ক্রেতা ভিড় করছেন। যার পরিবারে মাসে ৫ কেজি পিঁয়াজ লাগে, তিনি ক্রয় করছেন ৩০ কেজির বস্তা। উদ্দেশ্যে খাদ্য মজুত করা। ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদার কারণে বিক্রেতাদের সাথে দর কষাকষির সুযোগ নেই।

সিলেটের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতাগণ। আর এ সুযোগে সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা সকল পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত ৩ দিন ধরে বাজারে ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সঙ্গে বাড়ছে দাম। অনেক ব্যবসায়ীকে নিয়মিত ব্যবসা বাদ দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করতে দেখা গেছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। নিত্যপণ্যের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। পাগলা ঘোড়ার মত ছুটছে পণ্যের দাম। করোনা আতঙ্কে অনেকে নিত্যপণ্য মজুদ করতে শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন।

নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। নিত্যপণ্যের পাইকারী ও খুচরা বাজার কালীঘাট। কালীঘাটে চিত্র এখন সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। হাজার হাজার ক্রেতা ভীড় জমিয়েছেন বাজারে। অনেকে চাল, ডাল, পিয়াঁজ, তেল সহ নিত্যপণ্য সংগ্রহ করছেন। আর এসব নিত্যপণ্য ক্রেতারা অধিক মূল্যে ক্রয় করছেন। তাদের আশঙ্কা দাম আরও বাড়তে পারে।

নিত্যপণ্যের মধ্যে প্রতি ৫০ কেজির বস্তার চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪-৮ টাকা। সবচেয়ে বেশি অস্থিতরা দেখা দিয়েছে পিয়াজের বাজারে। একদিন আগে পিয়াজ ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হলেও গতকাল বিক্রি হয়েছে ৭০-৯০ টাকা কেজি ধরে।

এছাড়াও চিনি, তেল, ছোলার দামও বেড়েছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। দাম স্থিতিশীল রয়েছে আদা ও রসুনে। আদা পাইকারী ধরে ৭০ টাকা ও রসুন বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়। তবে অনেক জায়গায় আদা, রসুনও বিক্রি হচ্ছে বেশী দামে।
কালীঘাট বাজারের চিত্রের সাথে সিলেটের ১৩টি উপজেলার গ্রামের বাজারগুলোর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। গ্রামের বাজারের ব্যবসায়ীরা আরো বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন। করোনা আতঙ্কের মধ্যে ঊর্ধমুখী বাজার দর মানুষকে আরো বেশি আতঙ্কিত করছে। গ্রামের বাজারগুলোতে পিয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা ধরে।

নগরীর বন্দরবাজারে পণ্য ক্রয় করতে আসা আবুল হোসেন জানান, প্রতি সপ্তাহের দু’দিন তিনি বাজার করেন। করোনার কারণে বাড়তে পারে পণ্যের দাম, সেই আশঙ্কায় তিনি এক মাসের পণ্য ক্রয় করেছেন।

লালদিঘীরপারের ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার দোকানে যা মজুদ ছিলো তা একদিনেই বিক্রি হয়ে গেছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে পণ্য আমদানী করতে তাকে কিছুটা বেশি টাকা খরচ করতে হয়েছে, আর একারণে তাকেও পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কালীঘাটে নিত্যপণ্য ক্রয় করতে আসা আলী হোসেন বলেন, তার এলাকার বাজারগুলোতে চড়া দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তাই তিনি শহর থেকে নিত্যপণ্য ক্রয় করতে এসেছেন। যদিও সরকার ক্রেতাদের আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি পণ্য না কেনার আহŸান জানিয়েছে। তার পরও বাজার বেশ অস্থির রয়েছে। জেলা প্রশাসন সুত্র জানিয়েছে, সিলেটে বাজার মনিটরিংয়ে মাঠে নেমেছে পৃথক কয়েকটি দল।

সোবহানীঘাট কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতারা কোনো কিছু শুনতে চাচ্ছে না। বাজারে সবধরনের পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া সত্তে¡ও অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করছেন অনেক ক্রেতা। ক্রেতা নিয়ন্ত্রণে অনেকটা হিমশিম খেতে হয় ব্যবসায়ীদের। চাল, ডাল, লবণ, পেঁয়াজ, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আড়তেই ভিড়- বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, পণ্যের দাম বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের কাছেও তথ্য আছে। কয়েক দিন আগে একটি চক্র মাস্কের দাম বাড়িয়ে দেয়। আমরা তাদের বিরুদ্ধে টানা অভিযান চালিয়েছি। এবার অন্যান্য পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আমরা সচেষ্ট আছি।

হুজুগে ক্রেতা ও সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন নাগরিকরা।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ