আজ সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং

বিশ্ব বাজারে কমলো তেলের দাম, তবুও সুফল পাবে না বাংলাদেশ

  • আপডেট টাইম : April 25, 2020 9:28 AM

অর্থনীতি ডেস্ক : করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববাজারে ধসে পড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এক ব্যারেলের দাম ১৬.০১ ডলার এবং মরবান তেলের দাম ১৯.০৪ ডলার নেমে এসেছে। যা গত এক মাসের ব্যবধানে যথাক্রমে ৪৫ এবং ৫০ শতাংশ কমেছে।

তবে বিশ্ব তেলে এমন ধসের পরেও এর সুফল পাবে না আমদানি নির্ভর বাংলাদেশ। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ফলে বর্তমান মজুদকৃত জ্বালানি তেল সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসি। ফলে বিপিসির পাইপ লাইন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও পেট্রোল পাম্পের সংরক্ষণাগারে তেল রাখার পরিকল্পনা করছে রাষ্ট্রায়াত্ব এ সংস্থাটি।

বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশে তেল সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এর সুফল নিতে পারবে না বাংলাদেশ। বিপিসি সাধারণত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরব লাইট এবং মরবান তেল আমদানি করে থাকে।

গত ২৩ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বাজারে আরব লাইট তেলের এক ব্যারেলের দাম ১৬.০১ ডলার এবং মরবান তেলের দাম ১৯.০৪ ডলার নেমে এসেছে। যা গত এক মাসের ব্যবধানে যথাক্রমে ৪৫ এবং ৫০ শতাংশ কমেছে।

বিপিসির তথ্য মতে, বিপিসির সাড়ে নয় লাখ ধারণ ক্ষমতার বিপরীতে গত বুধবার পর্যন্ত মজুদ রয়েছে প্রায় নয় লাখ টন ৪০ হাজার জ্বালানি তেল। বিপিসির তেল সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতার কারণে বন্দরের বহিনোঙরে ৫ টি তেলবাহী জাহাজে আটকে আছে ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ও ২০ হাজার মেট্রিক টন ক্রড অয়েল। আমদানির অপেক্ষায় আছে আরও সাড়ে চার লাখ টন জ্বালানি তেল।

বিপিসির বিপণন বিভাগের তথ্য মতে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দেশে চলমান সাধারণ ছুটির কারণে শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি ও পরিবহন খাতে জ্বালানি ৫০ শতাংশ কমে এসেছে। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৩ হাজার টন ডিজেল ব্যবহার হলেও তা কমে এসেছে ছয় হাজার টনে। অপরদিকে প্রতিদিন বিমানের জেট ফুয়েলের চাহিদা ১২৩৯ মেট্রিক টন থাকলেও তা কমে মাত্র ৮১ টনে নেমে এসেছে। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের চাহিদা।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ