আজ শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

কোম্পানীগঞ্জে থামছে না অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন

  • আপডেট টাইম : January 25, 2018 6:01 AM

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : সরকারের প্রচলিত আইনের প্রতি কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করে শাহ্ আরফিন টিলা ও সংলগ্ন মতিয়া টিলা কেটে উজাড় করে দিয়েছে পাথরখেকো চক্র। এতে টিলাধসে মৃত্যুর ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। মরছেন কেবল শ্রমিক। বছরের পর বছর ধরে প্রাণহানির ঘটনা ঘটার পরও শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও এখানে উপেক্ষিত থেকে গেছে। দুর্ঘটনায় নিহত কিংবা হতাহতদের মিলছে না কোনো ক্ষতিপূরণ। শাহ্ আরফিন টিলার পাথর শ্রমিকদের মজুরি বা জীবনের নিরাপত্তা কোনোটিই নিশ্চিত হচ্ছে না। এখানে শ্রমিক অধিকারের কোনো সুরক্ষা নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহ্ আরফিন টিলায় প্রতি বছরে শ্রমিক আহত কিংবা নিহতের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে, প্রতি বছর গড়ে ৫ জন করে গত ১০ বছরে মারা গেছেন অন্তত ৫০ শ্রমিক। তবে এসব দুর্ঘটনা খুব কমই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে হতাহত শ্রমিক বা তাদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পায় না। কোনো দুর্ঘটনায় হতাহতের পরিবারকে যৎসামান্য ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। অনেক সময় দেখা যায়, শ্রমিক মারা গেলে তার পরিচয় পর্যন্ত পাওয়া যায় না। এখানে লাশ গুম করার মতো ঘটনাও ঘটে এবং ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়েও যাওয়া যায় না মালিকদের কাছে।

উল্লেখ্য, সরকারি খাস খতিয়ানের ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গায় শাহ আরেফিন টিলা। লালচে, বাদামি ও আঠালো মাটির এ টিলার নিচে রয়েছে বড় বড় পাথরখন্ড। এসব পাথর উত্তোলন করতেই চলে টিলা কাটা। টিলা কাটা আইনত নিষিদ্ধ থাকায় পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটির মাধ্যমে পরিবেশ আইনজীবীদের সংগঠন বেলা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে। এ কমিটি ৯৬ দশমিক ২৫ একর জায়গার ৭০ ভাগ টিলা কেটে ৬২ লাখ ৮৮ হাজার টাকার পাথর লুটপাটের তথ্য সংগ্রহ করেছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, একটি চক্র পাথর শ্রমিকদের নামিয়েছে মরণগর্তে। যেখানে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন শ্রমিকরা। এমনকি টিলায় ২০০/৩০০ ফুট গর্ত করা হয়েছে। যেখানে শ্রমিক দিয়ে পাথর তোলা যায় না, সেখানে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর তোলা হয়। আর তাতেই সব থেকে বেশি ঝুঁকি স্থানীয়রা মনে করেন আবারো যে-কোনো সময় শাহ আরিফিন টিলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টিলার এক পাথর শ্রমিক জানান, আগে যেখানে হাত দিয়ে পাথর তোলা হতো, এখন সেখানে বেশি গভীর গর্ত হওয়ায় বোম মেশিন দিয়ে পাথর তোলা হচ্ছে যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, টিলার পাশে ছনবাড়ি গ্রামের বেশ কিছু আবাদি জমি টিলা কাটার ফলে লাল মাটি নষ্ট হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শ্রমিক জানান, সব মহলকেই টাকা দিয়ে এখানে পাথর তোলা হয়। তাই কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই সেখানে পাথর তোলা যায়। এছাড়াও প্রতিদিন সবাইকে ম্যানেজ করতে প্রতি গর্ত থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, জেলা থেকে টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযান আরোও বাড়ানো হবে। সেখানে কিছু পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছিল তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

 

(আজকের সিলেট/২৫ জানুয়ারি/ডি/এমকে/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ