আজ রবিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

তিনদিনে শত লোকের সঙ্গে মিশেছেন করোনা আক্রান্ত যুবক

  • আপডেট টাইম : May 12, 2020 8:11 AM

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সংগ্রহ করা হয় নমুনাও। অথচ সেখান থেকে বের হয়ে এসে তিনদিন এলাকায় ঘোরাফেরার পর জানা গেলো যুবকের করোনা পজিটিভ। শুধু ঘোরাফেরাই নয়; এরই মাঝে মিশেছেন শতাধিক মানুষের সঙ্গে। কাজও করেছেন অন্য শ্রমিকদের সংস্পর্শে থেকে।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সদরে এমন ঘটনাকে ঘিরে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। সচেতন মহল বলছেন, তার সংস্পর্শে কে বা কারা গেছেন, সেটা খুঁজে বের করা মুশকিল হলেও যেটুকু সম্ভব করা উচিত। নয়তো আক্রান্ত যুবকের ঘোরাফেরাই কাল হতে পারে এলাকা তথা পুরো উপজেলাবাসীর।

উপজেলার ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, চান্দের মহল্লার বাসিন্দা ওই যুবক গত ৮ মে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিনই সংগ্রহ করা হয় নমুনা। এরই মাঝে হাসপাতাল থেকে ফিরে দু’দিন থেকেছেন পরিবারের অন্য ৭ সদস্যের সঙ্গে। নামাজ আদায় করেছেন মসজিদে। ধান কাটার কাজও করেছেন অন্য শ্রমিকদের সংস্পর্শে থেকে। অথচ সোমবার রাতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে আসা রিপোর্টে জানা গেছে তার করোনা পজিটিভ।

তিনি আরও বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীর এলাকায় ঘোরাফেরার বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ানক। ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। শিগগির এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান জানান, করোনা শনাক্তের খবর পাওয়ার পরই উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ওই যুবককে প্রেরণ করা হয়েছে জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে। আক্রান্তকে দেখতে আসা এলাকাবাসী ভিড় করেন। তা সামাল দিতেও বেগ পোহাতে হয়।

অন্যদিকে, করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর সেখান থেকে বাড়ি ফিরে ঘোরাঘুরির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে সচেতন মহলে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরতদের অবহেলাকেই দায়ী করছেন তারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল হাদী মোহাম্মদ শাহপরান বলেন, তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। হাসপাতালের কাউকে না বলে তিনি চলে যান, বিষয়টি ভয়াবহ।

করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতাল থেকে একজন রোগী চলে যাওয়ার পর কী পদক্ষেপ নিয়েছেন জানতে চাইলে ডা. শাহপরান বলেন, অনেক রোগীইতো এভাবে হাসপাতাল থেকে চলে যান। তিনিও অন্যদের মতো চলে গেছেন। যে কারণে আমরা এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিইনি। তবে আক্রান্তের পরিবারের অন্য সব সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

বানিয়াচং থানার ওসি মো. এমরান হোসেন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে ওই যুবকের পরিবারসহ পুরো এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হবে।

বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার বলেন, সরকারি সহায়তা দিয়ে আক্রান্তের পরিবারকে লকডাউন ঘোষণা করা হচ্ছে। সংগ্রহ করা হবে পরিবারের সদস্যের নমুনাও।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ