আজ সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং

সাড়ে তিনশোর বেশি ‘ধর্ষণ’ করেছেন এই অভিনেতা!

  • আপডেট টাইম : May 14, 2020 12:27 PM

বিনোদন ডেস্ক : আধখোলা জামার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া লকেট যেন বাড়িয়ে দিত অভিনীত খলচরিত্রের বীভৎসতা। পর্দায় মোট ৩৫০ বার ‘ধর্ষণ’ করেছেন তিনি। মদ্যপান করেননি, এ রকম ফিল্ম খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন একনিষ্ঠ নিরামিষাশী। যথাসম্ভব দূরে থাকতেন সব রকম নেশা থেকেও। খলনায়ক রঞ্জিতের রিল লাইফ এবং রিয়েল লাইফ ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর।

রঞ্জিতের আসল নাম গোপাল বেদী। জন্ম ১৯৪২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। হিন্দি ছবির ভক্ত রঞ্জিত এত বার দেব আনন্দের ‘গাইড’ এবং ‘হাম দোনো’ দেখেছিলেন যে, ছবি দু’টির প্রতিটি সংলাপ তার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল।

ছবি দেখতে ভাল লাগলেও রঞ্জিত প্রথমে চেষ্টা করেছিলেন বিমান বাহিনীতে যোগ দেওয়ার। ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে তার প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছিল। কিন্তু খোদ প্রশিক্ষকের মেয়ের সঙ্গেই তিনি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ফলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অকালেই ফুরিয়ে গেল প্রশিক্ষণের মেয়াদ।

জীবনের এ রকম এক উদ্দেশ্যহীন সময়ে তার সঙ্গে আলাপ হয় রাজস্থানের কোটার বাসিন্দা রঞ্জিত সিংহ ওরফে রনি-র। বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে রনির ভাল সম্পর্ক ছিল।

রনির ভরসায় মুম্বাই আসেন রঞ্জিত। বাড়িতে ছবিতে অভিনয়ের কথা বলেননি। বলেছিলেন, তিনি বেড়াতে যাচ্ছেন। মুম্বাইয়ে তারকা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আলাপ হয়। রঞ্জিত সুযোগ পান মোহন সেহগলের ‘সাওন ভাদো’ ছবিতে। তার পরের বছরই দিলীপ কুমার তাকে সুযোগ দেন ‘রেশমা অউর শেরা’ ছবিতে।

দিলীপ কুমার তাকে পরামর্শ দেন নাম পাল্টানোর। নতুন পরিচয়ের জন্য তিনি বেছে নেন রঞ্জিত সিংয়ের নাম-ই। ১৯৭১ সালেই মুক্তি পায় ‘শর্মিলি’। এই ছবির প্রিমিয়ারে গিয়ে লজ্জায় প্রায় মাথা কাটা যায় রঞ্জিতের। ছেলেকে পর্দায় মেয়েদের শ্লীলতাহানি করতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন রঞ্জিতের মা। শেষে রঞ্জিতের সহঅভিনেত্রী রাখি এসে তাকে বোঝান, তার ছেলে আসলে অভিনয়-ই করেছেন!

ধীরে ধীরে রঞ্জিতের মা বুঝে যান, প্রতি ছবির শেষেই তার ছেলেকে পুলিশ বা নায়কের হাতে প্রহৃত হতে হবে। তিনি আত্মীয়দের সঙ্গে ছেলের ছবি দেখতে গেলে শেষ অবধি দেখতেন না। বলতেন, ছবির শেষ অংশ অন্য এক দিন দেখবেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে মজা করে এ কথা বলেন রঞ্জিত নিজে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিতে রঞ্জিতের পরিচয় হয়ে যায় ‘রেপ কিং’ বা ‘ধর্ষণের রাজা’ বলে। এমনকি, ধর্ষণের সিকোয়েন্সে রঞ্জিতের অভিনয় ছবির ইউএসপি হয়ে দাঁড়ায়! তার ফিল্মোগ্রাফিতে উল্লেখযোগ্য হল ‘হাত কি সাফাই’, ‘নমক হালাল’, ‘মুকদ্দর কা সিকন্দর’, ‘শরাবি’, ‘লওয়ারিশ’, ‘ধর্মাত্মা’, ‘লায়লা মজনু’, ‘বিশ্বাত্মা’, ‘রকি’, ‘হিরো’ এবং ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’।

‘ডাকু অউর জওয়ান’ ছবি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৮ সালে। রঞ্জিতের কথায়, এই ছবিতে রীনা রায়ের সঙ্গে তার ধর্ষণ-দৃশ্য ছিল বিপজ্জনক। চার দিকে জ্বলন্ত প্রদীপের মধ্যে শুটিং করতে হয়েছিল।

রঞ্জিতের মনে পড়ে নবাগতা মাধুরী দীক্ষিতের কথাও। ১৯৮৯ সালে ‘প্রেম প্রতিজ্ঞা’ সিনেমায় মাধুরীর সঙ্গে তাঁর ধর্ষণের দৃশ্য ছিল। শুটিংয়ের পরেও নাকি মাধুরীর আতঙ্কের ঘোর কাটেনি।

রঞ্জিতকে দেখতে হবে শুনে সেই মহিলা চিকিৎসক নাকি ভয়ে আসেনইনি। তার দৃশ্য এলেই নাকি সেন্সর বোর্ডের এক মহিলা সদস্য রাগে আর ঘেন্নায় চোখ বন্ধ করে ফেলতেন। লাম্পট্যকেও এতটাই বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে পেশ করতেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ