আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২০ ইং

মৌলভীবাজারে ফাঁকা হোটেল-রিসোর্ট

  • আপডেট টাইম : May 24, 2020 11:28 AM

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : সারা বছর মৌলভীবাজারে পর্যটক থাকলেও শীতের মৌসুমে তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজারে রীতিমতো ঢল নামে পর্যটকদের।

ঈদের ১০-১৫ দিন আগে থেকেই বুকিং হয়ে যেতো জেলার প্রতিটি হোটেল-রিসোর্ট। জেলার অন্য এলাকার পাশাপাশি পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকতো শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে। এসব এলাকার প্রায় ৭০টি হোটেল-রিসোর্টের ব্যবসার মৌসুম ঈদের সময়। ঈদ ঘিরে সাজানো হতো হোটেল-রিসোর্ট।

কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে এবার পর্যটন খাতে ধস নেমেছে। সারা দেশ কার্যত লকডাউনে থাকায় এ বছর হোটেল-রিসোর্টে নেই পর্যটক। নেই ঈদের আমেজ। উল্টো দীর্ঘদিন পর্যটকের আগমন বন্ধ থাকায় ঝুঁকিতে পড়েছে পর্যটন শিল্প। কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে যায় যায়, প্রতি ঈদে বিশেষ করে রমজানের ঈদে মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি পর্যটক দেখা যায়। কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরী পাড়ায় এবং শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা-বাগান ও বাইক্কাবিল, কুলাউড়ার কালাপাহাড় ও হাকালুকি হাওরে পর্যটকরা যান। পর্যটকদের ৯৫ ভাগই থাকার জন্য কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের প্রায় ৭০টি হোটেল-রিসোর্টকে প্রাধান্য দেন। এসব হোটেল-রিসোর্ট প্রতি বছর ঈদের সময় কয়েক হাজার পর্যটক আগাম বুকিং দিয়ে রাখেন। কিন্তু এ বছর পর্যটকের সংখ্যা শূন্য। সেই সঙ্গে হোটেল-রিসোর্ট দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পুঁজি হারানোর ভয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হোটেল-রিসোর্ট বন্ধ থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কর্মচারী রাখতে হয়। যেহেতু কোনো আয় নেই তাই পুঁজি ভেঙে বেতন দিতে হয় কর্মচারীদের।

‘এসকেডি আমার বাড়ি’ রিসোর্টের পরিচালক সজল দাশ বলেন, আমার ব্যাংক লোন আছে দুই কোটি ২০ টাকা। ১১ মার্চ থেকে আমার রিসোর্ট বন্ধ। কর্মচারীদের ছুটি দিয়েছি। কিন্তু তাদের বেতন তো দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিলের জন্যও চাপ আসছে। সবকিছু মিলিয়ে ঋণের জালে যেভাবে আটকে যাচ্ছি; সরকারের সহযোগিতা ছাড়া বের হতে পারব না। পুঁজি হারানোর ভয়ে আছি আমরা।

শ্রীমঙ্গল শহরের গ্রিনলিফ রিসোর্টের পরিচালক এসকে দাস সুমন বলেন, গত বছর আমার রিসোর্ট ঈদের এক মাস আগেই বুকিং হয়ে যায়। আমার রিসোর্টে বিদেশিরা বেশি আসেন। ঈদের সময়টা ব্যবসার উল্লেখযোগ্য সময়। সারা বছরের প্রস্তুতি থাকে ঈদ ঘিরে। কিন্তু এ বছর করোনা সঙ্কটের কারণে সব শেষ। ঝুঁকিতে পড়েছে ব্যবসা। অন্য খাত থেকে টাকা এনে কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা পর্যটন ব্যবসায়ীরা বছরে কোটি কোটি টাকা সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দেই। কিন্তু করোনার বিপদের সময় আমরা সরকারের কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।

হোটেল মেরিনার পরিচালক নাজমুল হাসান মিরাজ বলেন, এই হোটেলটি ভাড়া নিয়ে চালাই আমি। মাসিক ভাড়া এক লাখ ২০ হাজার টাকা। কর্মচারীদের বেতনসহ মাসিক খরচ আড়াই লাখ টাকা। করোনার সঙ্কটে সব তছনছ। ঋণে জড়িয়ে পড়েছি।

লেমন গার্ডেন রিসোর্টের পরিচালক সেলিম আহমেদ বলেন, আমার মাসিক খরচ ২৭ লাখ টাকা। এত টাকা প্রতি মাসে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এভাবে আর কিছু দিন চললে দেউলিয়া হয়ে যাব। আমাদের টিকে থাকতে হলে সরকারের সহযোগিতা দরকার। বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করা দরকার।

পর্যটকদের আগমনকে ঘিরে ব্যস্ত সময় কাটান ট্যুর গাইডরা। কিন্তু এ বছর তাদের ফোনে কল আসছে না কারও। সবাই বেকার বসে আছেন।

লাউয়াছড়ার ট্যুর গাইড সাজু মারচিয়াং বলেন, ঈদের দুই মাস আগে থেকে অনেকে ফোন আসতো। কেউ কেউ বিকাশে অগ্রিম পেমেন্ট দিয়ে রাখতেন। অথচ এবার একটা ফোনও আসেনি।

পর্যটন সেবা সংস্থা শ্রীমঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক বলেন, আমার রিসোর্টগুলা গত ঈদে দুই মাস আগেই বুকিং হয়েছিল। পরিচিত অনেকজনকে সিট দিতে পারিনি বলে মন খারাপ করেছেন। কিন্তু এবার উল্টা চিত্র। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রণোদনা দেবেন। কিন্তু কবে পাব তা নিশ্চিত নই।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ