আজ বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২০ ইং

বন্যা পরিস্থিতি দেখতে সিলেট আসতে চান বঙ্গবন্ধু

  • আপডেট টাইম : June 26, 2020 9:11 AM

আজকের সিলেট ডেস্ক : ১৯৭২ সালের জুনে সিলেটের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই বছরের ২৭ জুনের পত্রিকার খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বন্যা পরিস্থিতি দেখতে সিলেট সফরে যাচ্ছেন। ২৭ জুন তারিখই তিনি সেখানে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের পাশে দাঁড়াবেন।

এদিকে বাসসের খবরে বলা হয়, গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২৫ জুনেও এই বৈঠক বসেছিল। উভয় বৈঠকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান।

অভিযান অব্যাহত
অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দ্বিতীয় দিন ১৯৭২ সালের ২৬ জুন ঢাকা থেকে প্রচুর লুণ্ঠিত দ্রব্য, চোরাই জিনিস, কিছু চোরাই গাড়ি এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এদিন ইস্কাটন এলাকা থেকে ৯ জনকে আটক করা হয়। ইস্কাটন এলাকায় কারফিউ দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি অভিযানে পুলিশ এবং জাতীয় রক্ষীবাহিনী অংশগ্রহণ করে। স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের সাহায্য করে বলে খবরে বলা হয়। উদ্ধারকৃত দ্রব্যাদির মধ্যে খাট, টেবিল, চেয়ার, সেন্টার টেবিল, উলেন কার্পেট, হারমোনিয়াম, চামড়ার সুটকেস সহ সিলিং ফ্যান সবই ছিল।

শিমলা সম্মেলনে বাগড়া
আসন্ন শিমলা শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব-পশ্চিম গোলার্ধে দুই বৃহৎ শক্তি আবার নতুন করে গুটি চালানো শুরু করেছে বলে পূর্বদেশের খবরে প্রকাশ করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা কিসিঞ্জার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আরেকদফা গোপন আলোচনা সেরে রিপোর্ট পেশ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

এদিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভুট্টো আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশ সফরের পর দেশে ফিরে ভোল পাল্টেছেন। বলে খবরে বলা হয়। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আসন্ন শীর্ষ সম্মেলন সম্পর্কে তার পূর্বতন অবস্থান অন্য খাতে বইছে বলে বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসে। উল্লেখ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ন্যক্কারজনক মানবতাবিরোধী ভূমিকা পালন করেছিল। স্বাধীনতা-উত্তরকালে এই দুটি বৃহৎ শক্তির ধীর নীতি গ্রহণ করলেও পাকিস্তানের পক্ষে এবং ভারত ও বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের কার্যকলাপে কোনও ভাটা পড়েনি।

জাতিসংঘের সদস্যপদের আবেদন
বাসসের খবরে বলা হয়, ১৯৭২ সালের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের জন্য আবেদন জানাবে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এই খবরে বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে জাতিসংঘ সদর দফতরে আবেদনপত্র পৌঁছাতে হয়।

কূটনীতি পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, বিশ্ব সংস্থায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়ে আছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে চারটি সদস্যরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আর দশটি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ছয় সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসব দেশে অনেকেই জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চয়তা দিয়েছিল।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ