আজ বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২০ ইং

মীরের ময়দানে দোকানের মালিকানা নিয়ে ধুম্রুজাল!

  • আপডেট টাইম : June 30, 2020 5:52 AM

ডেস্ক রিপোর্ট : নগরীর মিরের ময়দান এলাকায় এমএম এন্টারপ্রাইজ নামের এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে ধুম্রুজাল দেখা দিয়েছে। আর এটি নিয়ে বিরুধের এক পর্যায়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী মো: সাইফুল আলম। এ নিয়ে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী মো: সাইফুল আলমের অভিযোগ- মিরের ময়দানের অর্নব ৪৪ নং বাসার বাসিন্দা সচিন্দ্র মোহন পালের ছেলে অনন্ত মোহন পাল ছিলেন তার ব্যবসায়ীক পার্টনার। কিন্তু এ দেকানটি ভাড়া নেওয়ার সময় বিভিন্ন অযুহাতের অনন্ত মোহন পাল নিজের নামে মালিক পক্ষের কাছ থেকে দোকানের ডিড করে নেন। এর পর সরল বিশ্বাসে উভয় পক্ষ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। অনন্ত মোহন পালের অন্য একটি দোকান থাকায় এক পর্যায়ে নিজের ব্যস্ততার কারনে তিনি এম এম এন্টাপ্রাইজের দোকান থেকে নিজের বিনিয়োগ উঠিয়ে নেন। একে অপরকে দীর্ঘদিন থেকে চেনার সুবাধে ও সরল বিশ্বাস থাকায় উভয় পক্ষই নিজেদের মধ্যে কোন লিখিত চুক্তি করেননি। অনন্ত মোহন পাল বলেছিলেন পরবর্তিতে তিনি একটি নিধাবী চুক্তি পত্র করে দেবেন কিন্তু দেননি এবং বিভিন্ন সময় সাইফুলকে মালামাল দিবেন বলে অনেক টাকাও নেন, কিন্তু মালামাল দেননি।

সেই টাকার জন্য সাইফুল অনন্ত মোহনকে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন। এতে করেই দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে অনন্ত সাইফুলকে দোকান ছাড়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু সাইফুল নিজের পরিশ্রম ও অর্থের বিনিয়োগে দোকানটি একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কারনে তিনি রাজী হচ্ছিলেন না। এক পর্যায়ে নিজের নামে ডিড থাকার সুযোগটি কাজে লাগান অনন্ত মোহন পাল।

ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের অভিযোগ- অনন্ত মোহন পাল নিজের নামে ডিডটি কাজে লাগিয়ে কতোয়ালী থানায় একটি জিডি করেন। এর পর স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করেন, কিন্তু অনন্ত মোহন পাল কারো কথা শুনেন নি বরং তিনি জোরপূর্বক দোকান দখল করার পায়তারা করছেন এবং তিনি বিভিন্ন উপায়ে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন।

সাইফুল জানান, সাইফুল আরো বলেন বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রান নাশের ভয়ে দোকানটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে আমার দোকানে অনেক টাকার মালামাল রয়েছে এর মধ্যে পচনশীল দ্রব্য ও রয়েছে। এতে আমি চরমভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। দোকানে থাকা অনেক মালামাল পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি আমার দোকানটি যাতে নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পারি এবং আমি ও আমার পরিবারের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রশাশনের সহযোগিতা কামনা করছি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অনন্ত মোহন পালের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার এসআই রেজাউল করিম বলেন, জিডি করার পরই আমি ঘটনাস্থলে যাই, গিয়ে সাইফুলকেই দোকান পরিচালনা করতে পাই। তবে দোনটির ডিড অনন্ত মোহন পালের নামে রয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন, কিন্তু সম্ভব হয়নি। আমি বিষয়টি তদন্তের অনুমতি চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করেছি। আদালতের নির্দেশনা পেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করব।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ