আজ বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২০ ইং

চট্টগ্রামে মাজেদুল ও বিবি মরিয়মের বিরোদ্ধে যত অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : June 29, 2020 9:45 AM

ডেস্ক রিপোর্ট : বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন, অক্সিজেন শহীদ নগর সংলগ্ন পাঠানপাড়া এলাকার মাজেদুল ও বিবি মরিয়মের বিরোদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ বিষয়টি নিয়ে সিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একই এলাকার বাসিন্ধা মোহাম্মদ ইমরান।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাজেদুল ইসলাম ও বিবি মরিয়ম স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বায়েজিদ বোস্তামী থানার পাঠানপাড়া, শহীদ নগর, অক্সিজেন, নয়ারহাট, ওয়াজেদিয়া, শেরশাহ কলোনী, বাংলাবাজার, ডেবারপাড়, আরেফিন নগর, রৌফাবাদ কলোনীসহ আশপাশের এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা, পতিতাবৃত্তি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা-বøাকমেইলিংসহ বহুমাত্রিক অপরাধ কর্মকান্ড করে গেলেও এক সময়ের সিএমপির তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী, হত্যা-ডাকাতি, চাঁদাবাজি-রাহাজানি, অস্ত্রব্যবসা, জবরদখলসহ শতাধিক মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামী থানা আওয়ামী লীগের এক নেতার শেল্টারে থাকার কারণে, মাজেদুল ও বিবি মরিয়মের অপকর্ম নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না।

সূ-চতুর এই মাজেদুল ইসলাম কথিত অনলাইন টেলিভিশনের নামে ফেইসবুকে “দেশযোগ টিভি“ নাম দিয়ে কাধেঁ ক্যামেরার ব্যাগের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কেউ এর প্রতিবাদ করলে, ওই কথিত নেতার মাধ্যমে তাকে শারিরীক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়। এছাড়া মাজেদুল ইসলাম প্রতিবাদকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা-বানোয়াট, ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে কথিত দেশযোগ পেইজে হয়রানি মূলক সংবাদ প্রচার করে নিরিহ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে যাচ্ছে। তাদের হয়রানির শিকার পাঁচলাইশ ৩নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর আলহাজ¦ কফিল উদ্দিন খান।

কাউন্সিলরের অপরাধ মাজেদুল ও বিবি মরিয়ম তার অফিসে গিয়ে চাঁদা দাবী করলে, কাউন্সিলর তাদের দূ-জনকে পুলিশে দিতে উদৃত হলে, মাজেদুল ও বিবি মরিয়ম কাউন্সিলরের পায়ে ধরে কাকুতি-মিনতি করে ছাড়া পায়। এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে এসে কাউন্সিলরের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া ওই থানা আওয়ামী লীগ নেতা শতাধিক মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামীর কু-পরামর্শে এবং টাকার বিনিময়ে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভূয়া অডিও রেকর্ড বানিয়ে দেশযোগ পেইজে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে একের পর এক ভিডিও বানিয়ে প্রচার করে চরম মানহানী করে যাচ্ছে।

এছাড়া এই দুই ভূয়া টাউট জনপ্রিয় আইপি টেলিভিশন সিটিজি ক্রাইম টিভির চেয়ারম্যান আজগর আলী মানিক, বায়েজিদের বসতি নগর এলাকার শাহজাহান বাদশাহ, ষ্টারশীপ এলাকার খোকন, ২নং জালালাবাদ ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক আলহাজ¦ আব্দুল কুদ্দুস বাপ্পী, মোহরা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ও সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদারের কাছথেকে চাঁদা না পেয়ে অনুরুপভাবে হয়রানি করছে। ২০১৬ সালে মাজেদুল নোয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে ইয়াবা ব্যবসার অপরাধে গণপিটুনী খেয়ে পালিয়ে এসে চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকায় একটি খাবারের হোটেলে হোটেল বয় এর কাজ নেয়। দীর্ঘদিন সেখানে কাজ করে। এক পর্যায়ে ওই হোটেল মালিকের মোবাইল টাকা-পয়সা চুরি করে পালিয়ে যায়। আবার তার ভাইয়ের সাথে ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে। এর মধ্যে তার ভাই ইয়াবা নিয়ে গ্রেফতার হয়। গ্রেফতার হওয়ার পর সে বেকার হয়ে যায়।

এরপর ভবঘুরে এই মাজেদুল মোবাইল চুরি, জুতা চুরি, ছিনতাই পতিতাবৃত্তিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। পতিতা ব্যবসার সূত্র ধরে পরিচয় হয় সিটিজি ক্রাইম টিভির এক সাংবাদিকের সাথে। ওই সাংবাদিকের কাছে খুলে বলে তার জীবনের ইতিহাস। তার হাত ধরে সিটিজি ক্রাইম টিভি অফিসে আসে মাজেদুল। তাকে দেখে চেয়ারম্যান আজগর আলী মানিকের মায়া হয়। চাকরি দেয় পিয়নের। থাকা-খাওয়া অফিসে। কিছুদিন যাওয়ার পর চেয়ারম্যানের স্ত্রী বিবি মরিয়মের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে।

একদিন আপত্তিকর অবস্থায় চেয়ারম্যানের কাছে ধরা পড়লে, তাকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে চাকরি থেকে বের করে দেয়। আবারো মাজেদুল পূর্বের কর্মে ফিরে যায়। এর কয়েক মাস পর বিবি মরিয়ম আজগর আলী মানিকের অনেক গুলো টাকা পয়সা, স্বর্ণালংকার ও দুটি ভিডিও ক্যামেরা (বড়) নিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে মাজেদের সাথে নোয়াখালী চলে যায়। সেখানে শুরু করে ইয়াবা ব্যবসা ও পতিতাবৃত্তি। অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অপরাধে আবারো গণধোলাই খায় উভয়েই। সেখান থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার অক্সিজেন পাঠানপাড়া এলাকার দিদার বিল্ডিং এ বাসা ভাড়া নিয়ে ওই আজগর আলী মানিকের ক্যামেরাকে কাজে লাগিয়ে দেশযোগ নামে ফেসবুকে একটি পেইজ খুলে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতারনা, চাঁদাবাজী পতিতাবৃত্তি ইয়াবা ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে।

সুচতুর মাজেদুল স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ রাখতে ব্যবহার করে তার কথিত স্ত্রী বিবি মরিয়মকে। স্ত্রী পরিচয়ে বিবি মরিয়মকে মাজেদুলের সাথে ভাড়া বাসায় রাখলেও প্রকৃতপক্ষে বিবি মরিয়ম তার বৈধ স্ত্রী নয়। আজগর আলী মানিকের আগেও বিবি মরিয়মের আরো তিনটি বিয়ে হয়। সর্বশেষ ফুটফুটে দুটি বাচ্চা রেখে বিপুল সংখ্যক টাকা-পয়সা নিয়ে বিবি মরিয়ম সেই স্বামীর ঘর থেকে পালিয়ে এসে বায়েজিদ থানার কয়লার ঘর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত হয়।

এলাকার লোকজন বিবি মরিয়মকে অসামাজিক কার্যকলাপের সময় তাকে হাতে-নাতে ধরে সিটিজি ক্রাইম টিভিকে খবর দেয়। সেখানে ক্রাইম টিভির সাংবাদিকরা পৌঁছে নিউজ করতে চাইলে, বিবি মরিয়ম আজগর আলী মানিকের হাতে পায়ে ধরে ওই যাত্রায় বেঁচে যায়। এরপর মানিকের সাথে বিবি মরিয়ম সম্পর্ক থেকে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। সেই থেকে বিবি মরিয়মের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় ঘটে। বর্তমানে মাজেদুল ইসলাম ও বিবি মরিয়মের অনৈতিক উৎপাতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ