আজ বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২০ ইং

চাকরির বাজারে হাহাকার

  • আপডেট টাইম : June 30, 2020 10:29 AM

চাকরির বাজারে হাহাকার। অতীতেও ছিলো; এখন তো ষোলোকলা পূর্ণ হয়েছে। সরকার ইতোপূর্বে ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিমসহ নানাভাবে বেকারদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এই সবকিছুই তছনছ করে দিয়েছে করোনা। দেশে অতীতে বেকারের যে সংখ্যা ছিলো, তা এখন নিঃসন্দেহে দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়ে গেছে। বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মচারী ছাঁটাই অভিযান চলছে। এতে করে প্রতিদিনই বেকারদের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। এই ধারা যে অব্যাহত থাকবে, বলা বাহুল্য। কারণ করোনার অজুহাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান-শিল্পকারখানায় শুরু হওয়া কর্মচারী-শ্রমিক ছাঁটাই অভিযান চলবে করোনার প্রকোপ যতোদিন থাকবে ততোদিন। করোনা বিদায় নিলেও যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সেটা আশা করা যায় না। কারণ, তখন করোনার ক্ষয়ক্ষতি পোষানোর একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে সব প্রতিষ্ঠানকে। আর তাই তারা ব্যয় সংকোচন নীতি অব্যাহত রাখবে এবং জনশক্তি ছাঁটাই করতেই থাকবে। সব মিলিয়ে বেকারত্ব সমস্যা যে সামনে ভয়াবহ আকারে আবির্ভূত হচ্ছে এটা নিশ্চিত।
বাংলাদেশে বেকারত্বের হার কতো, তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই। অবশ্য সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা সময় নানা তথ্য দিয়ে থাকে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্যমতে, দেশে প্রতি বছর ২০ লাখ লোক শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে বছরে মাত্র চার লাখ। তাদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের হার সবচেয়ে বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ¯œাতক ডিগ্রিধারীদের ৪৭ শতাংশই বেকার। এছাড়া, চিকিৎসক প্রকৌশলীদের মধ্যে ১৩ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ১৩ শতাংশ বেকার। সরকারের পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, দেশের কর্মউপযোগী প্রায় ১১ কোটি মানুষের মধ্যে কর্মে নিয়োজিত আছেন ছয় কোটির কিছু বেশি। আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার মতে, উচ্চ শিক্ষিত বেকারত্বে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বেকারত্বকে একটা অভিশাপ হিসেবেই অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। সার্বিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে বেকারত্ব। বাংলাদেশে শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবশ্রেণির বেকারত্বই বেড়ে চলেছে। অর্থনীতিবিদদের অভিমত হচ্ছে, দেশে শিল্পখাতে নতুন বিনিয়োগ নেই, তাই বাড়ছে না কর্মসংস্থান। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাছাড়া, সাম্প্রতিক মহাদুর্যোগ করোনা দেশে অর্থনীতি-শ্রমবাজার সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে।
এই অবস্থা থেকেও উত্তরণের উপায় বের হবে। প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকেরই এই প্রত্যাশা রয়েছে। আমাদের অর্থনীতিতে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে সেখান থেকেও ওঠে দাঁড়াতে হবে, দাঁড়ানো যায়। কারণ বাঙালি বিপ্লবী জাতি, সংগ্রামী জাতি। দৃঢ় মনোবল নিয়ে সংকট থেকে উত্তরণের সংকল্প করতে হবে। এদেশে কর্মসংস্থানের বৃহৎ খাত বেসরকারি সেক্টর ভেঙ্গে পড়েছে। এই সেক্টরকে দাঁড় করাতে হবে। সরকারের সহায়তার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদেরও দরকার নিরলস পরিশ্রম। বিশেষ করে আইটি খাতে বিপুল সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান সম্ভব। সেই সঙ্গে কৃষি খাতে প্রযুক্তি নির্ভর চাষাবাদে জোর দিতে হবে। এতে বিপুল সংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। সর্বোপরি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য সততা আর ধৈর্য্যরে পরাকাষ্টা প্রদর্শন করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ