আজ রবিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

আবারও মানুষের সেবায় করোনা যোদ্ধা ডা. জসিম উদ্দিন

  • আপডেট টাইম : July 30, 2020 2:53 AM

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ: করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরু থেকেই এ সংক্রান্ত কাজের সব কিছুই দেখভাল করছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ও উপজেলা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. জসিম উদ্দিন শরিফী।
 
উপজেলার কোভিড-১৯ বিষয়ক সব কিছুই তাঁর নখদর্পণে। কি দিন, কি রাত সব সময়ই এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীসহ সকল জনগণের জিজ্ঞাসার উত্তর, তথ্য ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ‘মানবতার ডাক্তার’ খ্যাত এই চিকিৎসক। সদা হাস্যজ্জ্বল ডা. জসিম উদ্দিন মানুষের সাথে খুব সহজে মিশে যাওয়ার অপর এক নাম। ভালোবাসেন মানুষকে। মানুষও ভালোবাসে তাঁকে। আর এই ভালোবাসার কারণেই হয়তো খুব তারাতারি করোনা ভাইরাস থেকে দ্রুত সুস্থ্য হয়ে আবারও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পেরেছেন।
 
উপজেলায় তাঁর স্বাস্থ্য বিভাগের সহকর্মীদের সহায়তায় অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে করোনা ভাইরাসের উপসর্গযুক্ত রোগীদের নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে পজিটিভ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, হোম আইসোলেশন ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, জনগনের সচেতনতার জন্য স্বাস্থ্য বার্তা প্রদান করাসহ জটিল রোগীদের রেফার্ড করা পযর্ন্ত সামলে যাচ্ছেন তিনি। আর এ সকল কাজ করতে গিয়ে জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নিজেই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
 
করোনায় আক্রান্ত হওয়া, চিকিৎসাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতা ও করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে আমাদের করণীয় সম্পর্কে জানতে চাই ডাক্তার জসিম উদ্দিনের কাছে। তিনি জানান, জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে প্রচন্ড জ্বর, কাঁশি ও শরীর ব্যাথা শুরু হয় তাঁর। সহকর্মী চিকিৎসকদের পরামর্শে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন তিনি। ১২ জুলাই রিপোর্ট পজিটিভ আসলে এবং শরীরে উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকেই আইসোলেশনে চলে যান তিনি।
 
১৩ জুলাই কাঁশি মারাত্মক আকার ধারণ করে, সাথে কিছুটা শ্বাস কষ্টও শুরু হয়। এমতাবস্থায় সিলেটের চৌহাট্টাস্থ শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকরা সিটি স্ক্যানসহ আরও কিছু পরীক্ষা করালে রিপোর্ট আসে করোনা ভাইরাসের কারণে নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে তাঁর। এরপর আল্লাহর অশেষ রহমতে, ওখানকার চিকিৎসক ও স্টাফদের আন্তরিক সেবায়, তাঁর বন্ধু-বান্ধব, আত্বীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্খীদের দোয়ায় জুলাইয়ের ২৩ তারিখ করোনা নেগেটিভ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান গরিবের এই ডাক্তার। ২৭ ও ২৮ জুলাই নমুনা পুণঃপরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে, এখনো চিকিৎসকদের পরামর্শে কিছু ওষুধ খাচ্ছেন তিনি। যদিও তিনি এখন পুরোটা করোনা ভাইরাস মুক্ত এবং সম্পূর্ণভাবে বিপদমুক্ত তবুও ডাক্তারের ভাষায় এখনো তাঁর চিকিৎসা চলছে। খাচ্ছেন ওষুধ। কিন্তু কাজ থেকে ফাঁকি দিচ্ছেন না তিনি। এই অবস্থায়ই শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে উপজেলার করোনা সংক্রান্ত কাজসহ স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাজে আবারো আত্মনিয়োগ করেছেন তিনি।
 
করোনা নিয়ন্ত্রণের ব্যপারে ডা. জসিম বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সর্বাগ্রে সচেতন হতেই হবে, এর কোনও বিকল্প নেই। অবশ্যই শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সহসাই হয়তো করোনা বিদায় নিচ্ছে না, তাই আমরা সবাই এই নিউ নরমাল লাইফে অভ্যস্থ হতে হবে।’
 
সদালাপি এই চিকিৎসক এর করোনামুক্তিতে স্বাস্থ্য প্রশাসনসহ উপজেলার সকল বিভাগে স্বস্তি ফিরেছে। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মীসহ উপজেলার সকলেই মানবতাবাদী এই ডাক্তারের ফিরে আসাতে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
 
উল্লেখ্য, ডা.জসিম উদ্দিন শরিফী দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের খুদিরাই গ্রামের মরহুম শরীফ উল্লার মেজো ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে ২০০৬ সালে এমবিবিএস পাশ করেন, পরবর্তীতে ২০১০ সালে ২৮তম বিসিএস এর মাধ্যমে ক্যাডার অফিসার হিসাবে সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন। ২০১৮ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ