আজ বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

শেরপুট টু সিলেট রোডে লোকাল বাসে বেহাল যাত্রীরা

  • আপডেট টাইম : July 30, 2020 9:23 AM

ওসমানীনগর প্রতিনিধি : সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের আঞ্চলিক সড়ক পরিবহনের লোকাল বিরতীহীন বাসে করোনাকালিন সময়ে সরকারের বিধি অমান্য করে যাত্রী পরিবহন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারের বেঁধে দেয়া ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে একই পরিবারের দুইজন যাত্রী একই সীটে পাশাপাশি বসলে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে। পূর্বে যেখানে একই পরিবারের দুই ভাই কিংম্বা স্বামী স্ত্রী একই সীটে করে গোয়ালাবাজার থেকে সিলেট গেলে ৭০ টাকা দিতে হতো বর্তমানে সেখানে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে ১শ ২০টাকা আদায় করা হচ্ছে।

তাছাড়া বাসে যেখানে এক সীটে একজন করে যাত্রী বসার নিয়ম সেখানে বাসের মধ্যখানে দাঁড় করিয়েও যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। অন্যদিকে মহাসড়কের লোকাল বাস এর অধিকাংশই ফিটনেস বিহীন এবং অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের সীট হওয়ায় যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ভূক্তভোগী যাত্রী সূত্রে জানা যায়, গতকাল ২৯ জুলাই গোয়ালাবাজার থেকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে (বাস নং-সিলেট-জ-০৪-০০৭৬) সিলেটের উদ্দেশ্যে একটি লোকাল বিরতীহীন বাস ছাড়ে। গোয়ালাবাজার থেকে সীট পূর্ণ করে ছাড়ার পরও তাজপুর বাজার ও তাজপুর কদমতলায় গিয়ে বাসের কন্ট্রাক্টর অতিরিক্ত ৭/৮জন যাত্রী তোলেন। এই অতিরিক্ত যাত্রীরা সীট না থাকার কারণে উপরে রডে ধরে বাসের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে থাকেন। এসময় একই পরিবারের দু’জন যাত্রী উঠে একটি সীটে পাশাপাশি বসেন। বাস কন্ট্রাক্টর ভাড়া নিতে এসে একই পরিবারের দু’সদস্যের কাছে ১শ ২০ টাকা দাবী করেন। তখন যাত্রীরা একই পরিবারের সদস্য বলে জানালে কন্ট্রাক্টর ১শ ২০ টাকার কম হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ কথা শোনে পাশের সীটের একজন এই করোনাকালিন সময়ে দাঁড়িয়ে কেন যাত্রী পরিবহণ করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে কন্ট্রাক্টর এর কোন সদোত্তর দিতে পারেননি।

মহাসড়কের নাজিরবাজার নামক স্থানে গিয়ে গাড়ীতে যান্ত্রিক ত্রু টি দেখা দেয়। কিছু সময় পর গাড়ীটি আবার সচল হলে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার চন্ডিপুল নামক স্থানে গিয়ে বাস থামিয়ে দেন চালক।

তখন চালক বলেন, আপনারা আমাদের লাইনের অন্য গাড়ী দেখে যান। এর জন্য কোন অতিরিক্ত ভাড়া আপনাদের দিতে হবেনা। এসময় যাত্রীদের মধ্যে হইচই শুরু হয়। একই পরিবারের দুই সদস্য অতিরিক্ত ভাড়া ফিরিয়ে দিতে চাইলে চালকের সাথে শুরু হয় যাত্রীদের তুমুল বাহাস। তখন চালকের নাম জানতে চাইলে চালক বলেন, আমার কোন নাম নাই।

করোনাকালিন সময়ে সরকারের বিধি নিষেধ থাকার পরও কেন অতিরিক্ত যাত্রী দাঁড় করিয়ে নিচ্ছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা তাদের উঠাইনি, উঠে গেছে তো কি করবো। এ পর্যায়ে ২০টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, ভাই যান এই ২০ টাকা আমার পক্ষ থেকে দিলাম।

ভূক্তভোগী যাত্রী নুরুজ্জামান জানান, মহাসড়কের লোকাল বাসে কোন নিয়ম নীতি নেই। বাসে উঠলে তাদের কাছে জিম্মি হয়ে যেতে হয়। সরকারের বিধি রয়েছে দুরত্ব বজায় রেখে এক সীটে একজন বসার জন্য। তাই সরকার ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন।

সিলেট শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার শ্রমিক কমিটির সভাপতি বাবরু মিয়া বলেন, সরকারের বিধিমতে আমরা ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করেছি। করোনাকালিন সময়ে একই সীটে পাশাপাশি বসে স্বামী স্ত্রীও যেতে পারবে না। বাসের কন্ট্রাক্টরের উচিৎ তাদের পৃথক সীটে বসানো। দাঁড় করিয়ে যাত্রী পরিবহন অন্যায়। এটা আমরা অনুমোদন করিনা। এ জন্য প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে।

সিলেট হাইওয়ে রিজিওনের সার্কেল অফিসার মাসুদ করিম বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা করোনাকালীন সময়ে অতিরিক্ত যাত্রী দাঁড় করিয়ে নেওয়া অন্যায়। ফিটনেস বিহীন লক্কর ঝক্কর গাড়ী রাস্তায় থাকবে না। আমরা এধরনের ব্যক্তিদের বিরোদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ