আজ বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

লিটন এবং আজকের সিলেট

  • আপডেট টাইম : August 19, 2020 5:38 AM

আজকের সিলেট এর প্রধান সম্পাদকের সাথে বালাগঞ্জ প্রতিনিধি লিটন দাস লিকন

এম. সাইফুর রহমান তালুকদার : মহামারী করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন আজকের সিলেট ডটকম এর বালাগঞ্জ প্রতিনিধি লিটন দাস লিকন। অল্প দিনের মধ্যেই আজকের সিলেটকে অনেক কিছুই দিয়েছেন তিনি । নানা সীমাবদ্ধতার কারনে সেই তুলনায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার জন্য বেশি কিছু করতে পারিনি আমরা। লিটনের মৃত্যুর পর থেকে যখনই তাকে নিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করেছি তখনি ব্যার্থ হয়েছি। এখন পর্যন্ত বিশ্বাস করাতে কষ্ট হচ্ছে প্রিয় লিটন বাবু আর বেঁচে নেই।

লিটন বাবুর সাথে আমার পরিচয় ২০১৯ সালে মাঝামাঝি সময়ে। আজকের সিলেট’র সম্পাদক রজত কান্তি চক্রবর্তী একদিন লিটনের প্রসঙ্গ তোলেন। বলেন, লিটন হিন্দু ধর্মীয় কমিউনিটির নেতা এবং সাহিত্যকর্মী। পাশাপাশি গণমাধ্যমে কাজ করার রয়েছে খুবই আগ্রহ। সহকর্মী জাগো সিলেটের সম্পাদক শিপন খান তার বন্ধু। সেই সুত্রেই আজকের সিলেটে শুরু হলো তার পথ চলা।

চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি তাকে স্থায়ীভাবে আজকের সিলেটের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এ-ই স্বল্প সময়ে তিনি নিজের মেধা ও দক্ষতার যে পরিচয় দিয়েছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। তার জীবনের সর্বশেষ কর্মদিবসও কটেছে আজকের সিলেটের কাজে।

চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করা মেধাবীদের নিয়ে বিশেষ ভিডিও ডকুমেন্টারির আয়োজন করে আজকের সিলেট। এর মধ্যেই লিটন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হন, তবে তার মাত্রা ছিল অল্প। ডুকেমন্টারীর জন্যই অসুস্থ শরীরে আজকের সিলেট’র ফটো সাংবাদিক ফাহিম আহমদ চৌধুরীকে নিয়ে চলে যান পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাজনগরে।

ফাহিম তাকে বার বার যেতে বারণ করেন, কিন্তু নাছোড়বান্দা লিটন। লিটনের মতে, আমি তাদেরকে কথা দিয়েছি আজ যাব, না গেলে বাচ্চারা খুবই কষ্ট পাবে। এরকমই ছিল উনার দায়িত্ববোধের প্রমান। সেদিনের পর থেকে চিকিৎসার কাজ ছাড়া আর বাড়ি থেকে বের হননি। তার অল্পদিনের কর্মতৎপরতায় বালাগঞ্জ উপজেলায় প্রতিটি ঘরে ঘরে আজকের সিলেটের পাঠক তৈরী হয়েছে।

লিটন বাবুর মৃত্যুর পর একটি বিষয় নিয়ে আমি খুবই মর্মাহত হলাম। প্রথম আলো সহ দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম লিটনের মৃত্যুর সংবাদটি কাভার করেছে। তার পরিচিতিতে তার কর্মস্থলের নাম উল্লেখ করেছে। কিন্তু কিছু ভূইফুঁড় প্রতিষ্ঠান আর নামধারী কিছু গণমাধ্যমকর্মী লিটনকে বেওয়ারিশ সাংবাদিক হিসেবে চিহিৃত করার চেষ্ঠা শুরু করেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা এটি প্রমাণ করতে চান লিটন কোন মিডিয়া হাউজে কর্মরত ছিলেন না। একজন মৃত মানুষের প্রতি তাদের এমন বৈরি আচরণ কেন তা বুজতে পারিনি।

লিটন বাবু যে দিন মারা যান এর আগের দিন কেভিট ১৯ পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু আজ পর্যন্তও (এই লেখাটি যে দিন লেখা হয়) তার ফলাফল আমরা জানতে পারলাম না। লিটনের স্ত্রী ও অবুঝ সন্তানদের তো জানার অধিকার আছে লিটন পজেটিভ ছিলেন কি না। স্বাস্থ বিভাগ এমন কোন ল্যাবে তার নমুনা পাঠালো যে আজো পরীক্ষা হলো না? না নমুনাই পাঠানো হয় নি? বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

লিটন বাবু আমার বয়সে অনেক সিনিয়র। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে জৈষ্টদের প্রতি তার যে শ্রদ্ধাবোধ ছিল তা অনুকরণীয়। লিটন বাবু কখনও সহকর্মীদের সাথে আপনি ছাড়া কথা বলতেন না, সে হোক সিনিয়র বা জুনিয়র।

মৃত্যুর একদিন পূর্বের লিটন বাবুর ফোনের আকুতি ভরা কথা আজো আমার কানে বাজে। যদিও লিটন চলে গেছেন কিন্তু উনার স্মৃতি কোনভাবেই এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়।

লিটন বাবু বেচে থাকবেন কর্মের মধ্যে। স্রষ্টা যেন তার অবুঝ দুই শিশুকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেন- এই প্রার্থনাই রইল।

(লেখক : প্রধান সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম ও সমন্বয়ক, জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাব।)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ