আজ শুক্রবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

সবার জন্য ইন্টারনেট

  • আপডেট টাইম : September 23, 2020 12:01 AM

দেশের ৫৫ শতাংশ গ্রামীণ পরিবার ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে। সরকার যখন সবার জন্য ইন্টারনেট সুবিধা অবারিত করে দিয়েছে, ঠিক তখনই এমনই একটি খবর সত্যি সুখকর নয়। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সমীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়- গ্রামীণ পরিবারগুলোর ৫৯ শতাংশের স্মার্টফোন নেই এবং ৪৯ শতাংশের কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ নেই। এর ফলে গ্রাম ও শহরের পরিবারগুলোর মধ্যে বিরাজমান ‘ডিজিটাল বিভাজন’ অব্যাহত থাকার কারণে দেশে ই-গভর্নেন্স সিস্টেমের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞগণ।
সবার জন্য ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষে নানা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ব্রডব্যাণ্ড ইন্টারনেট পৌঁছানো হচ্ছে গ্রাম পর্যায়ে। প্রতিটি ইউনিয়নে চালু হয়েছে ইন্টারনেট সুবিধা সংবলিত তথ্যসেবা কেন্দ্র। ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের মাধ্যমে উচ্চগতির এই ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়েছে মূলত গ্রামের সাধারণ মানুষের ব্যবহার করার জন্য। এই ইন্টারনেট বর্তমানে কেবল ইউনিয়ন সেন্টারসহ কিছু সরকারি অফিসে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে বা ঘরে ঘরে এই সেবা পৌঁছায়নি এখনও। যদিও বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে কাজ করছে। অর্থাৎ সরকার ব্রডব্যাণ্ড ইন্টারনেটের কথা যতোই বলুক, তার সুবিধা পাচ্ছে না গ্রামের মানুষ। যে কারণে ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হতে পারছে না গ্রামের মানুষ। জরিপের তথ্য হচ্ছে গ্রামের তরুণ সমাজ ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে শহরের তরুণদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। এই বৈষম্য দূর করতে হবে।
সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে- ‘গ্রাম হবে শহর’। আবার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ নামেও অভিহিত করা হয়েছে এই পরিকল্পনাকে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা পৌঁছে দেয়া। অর্থাৎ শহরের সব সুবিধা পৌঁছে যাবে গ্রামে। সরকার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ পর্যায়ে নানা খাতে প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরই অন্যতম খাতটি হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছানো এখনও একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ। এতে সরকার সফল হবে বলেই আমরা আশাবাদী।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ