আজ মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

বহুল আলোচিত সেই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা মামলা’ সিআইডিতে

  • আপডেট টাইম : September 23, 2020 8:49 PM

ডেস্ক রিপোর্ট : নগরীর শামীমাবাদে অবস্থিত মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের বহুল আলোচিত-সমালোচিত অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তদন্ত করছে সিলেট জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

বুধবার সেই মামলার প্রথম শুনানির দিন ছিলো। প্রথম শুনানির দিনে মামলার বাদি মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুর রউফকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে জেলা অপরাধ তদন্ত বিভাগ পুলিশ।

জানা গেছে, মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওই কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুর রউফ বাদি হয়ে চলতি বছরের ২০ জুলাই সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৭১২ (কোতোয়ালি সি.আর)।

মামলায় উল্লেখ করা হয়- মাহবুবুর রউফ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি বিধিমোতাবেক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণের মাধ্যমে বৈধ প্রক্রিয়ায় ২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী যােগদানের পর থেকে মাসিক বেতন-ভাতা ২২ হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিনে ছলচাতুরির মাধ্যমে প্রভাষক মাহবুবুর রউফকে ২০১৭ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা, পরবর্তী এক বছর (১২ মাস) ৭ হাজার ১ শ টাকা, এর পরবর্তী এক বছর (১২ মাস) ৮ হাজার ৮ শ টাকা এবং এরপর থেকে ১২ হাজার ১ শ টাকা করে প্রদান করে আসছেন।

এ নিয়ে বার বার মাহবুবুর রউফ অধ্যক্ষের কাছে বিধিমোতাবেক নায্য বেতন-ভাতা দাবি করলে অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন তাকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে দোষী সাব্যস্থ করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে মাহবুবুর রউফ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে করা এক আপিলের ভিত্তিতে পাওয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতাসহ তিনি স্বপদে পুনর্বহাল হন।

পুনর্বহালের পরও মাহবুবুর রউফকে অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন বিধি অনুযায়ী বকেয়াসহ পূর্ণ বেতন-ভাতা প্রদান করছেন না বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ, অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন নিয়োগের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ১/২/২০১৬ ইংরেজি তারিখে নিয়োগের পরিবর্তে মাহবুবুর রউফকে ৪/৭/২০১৫ ইংরেজি তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেখিয়েছেন।

বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে ন্যায় বিচারের স্বার্থে অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আদালতের প্রতি বিচারপ্রার্থী হয়েছেন প্রভাষক মাহবুবুর রউফ।

এদিকে, মাহবুবুর রউফের দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে সিলেট জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রভাষক মাহবুবুর রউফের দায়েরকৃত প্রতারণা মামলাটি সিলেট জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ তদন্ত করছে । আজ (বুধবার) এ মামলার প্রথম শুনানি ছিলো। প্রথম পর্যায়ে বাদি ও সাক্ষীগণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তাদের সাপোর্টিং কাগজপত্র সংগ্রহ করা হবে। পরে আদালতের নির্দেশে বিবাদিকে আদালতে হাজিরের নোটিশ প্রদান করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, অধ্যক্ষ দোষী সাব্যস্থ হলে ধারা অনুযায়ী ১০ বছরের কারাবাস হতে পারে। সর্বোপরি এটা আদালতের বিষয়। দোষের উপর নির্ভর করবে দোষীর শাস্তি। বিজ্ঞ আদালত শুধু কারাদণ্ড দিতে পারেন, অথবা শুধু অর্থদণ্ডও দিতে পারেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে মইন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

দুই সিনিয়র শিক্ষককে ‘ডিঙ্গিয়ে’ অধ্যক্ষের চেয়ারে কৃষ্ণপদ

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ