আজ রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

‘ড্রেস রুল’ লঙ্ঘন করে অভিনয়ে নামেন এসআই আকবর

  • আপডেট টাইম : October 18, 2020 10:09 AM

ডেস্ক রিপোর্ট : পুলিশ বিধিও তোয়াক্কা করেননি এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই পুলিশের পোশাকে-সাদা পোশাকে নেমেছিলেন অভিনয়ে। সরকারি চাকরিজীবী হয়েও অর্থ উপার্জনে আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত নাটকে অভিনয়ে নেমেছিলেন। ইউটিউব চ্যানেল গ্রিন বাংলার হয়ে বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নেননি। এমনকি এসএমপি কর্তৃপক্ষও তার অভিনয়ের বিষয়ে কিছুই জানেন না।

পুলিশ আইনে অভিনয়কে বাণিজ্যিক ভাবে নিলে অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে এসআই আকবরের অভিনয়ের বিষয়ে কোনো কিছুই জানে না এসএমপি। ফলে পুলিশের চাকরিবিধি উপেক্ষা করেই ছিল তার চলাফেরা।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এসএমপির মুখপাত্র ও এডিসি বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, পুলিশের পদবির সঙ্গে পোশাক ব্যবহারের বিষয়ে সরকার অনুমোদিত একটি ‘ড্রেস রুল’ রয়েছে। ড্রেস রুল অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা র্যাংক ব্যাজ ব্যবহার করে পোশাক পরেন। নাটক সিনেমায় পুলিশের নেতিবাচক ও হাস্যরসাত্মক উপস্থাপন জনমনে এই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভুল ধারণা জন্ম নেয় বলে তিনি মনে করেন। যে কারণে চলচিত্র জগতে পুলিশের পোশাক ব্যবহারের আগে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এসআই আকবর অনুমতি নিয়ে অভিনয়ে নেমেছেন কিনা, তা আমার জানা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের চাকরি করে অভিনয়কে বাণিজ্যিকভাবে নিলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। এসআই আকবরের বিষয়টি পুলিশ আইনে ‘ড্রেস রুল’ লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে। যেহেতু তিনি বাণিজ্যিকভাবে অভিনয়ে নেমেছেন।

সূত্র জানায়, এক সময় শখের বসে অভিনয়ে নামেন আকবর। একটি ইউটিউব চ্যানেলে সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরে পুলিশের অভিনয় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেলিব্রেটি বনে যাওয়ার চিন্তা তার মাথায় চেপে বসে। আর ইউটিউব চ্যানেল থেকে নাটক বানিযে টাকা কামানোর উদ্দেশ্যে বিনিয়োগও করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, অভিনয় জগতে নেমে এসআই আকবরের অধপতন ঘটে। কথায় আছে ‘সঙ্গ দোষে লোহাও জলে ভাসে’। রায়হানকে নির্যাতন করে হত্যার পর বেরিয়ে আসে অভিনয় জগতে জড়িতদের সঙ্গে আখালিয়া এলাকায় রাত-বিরাতে আড্ডা বসানোর বিষয়টি। সেসব আড্ডার মধ্যমনি থাকতেন আকবর। চলতো সরাব ও ইয়াবা সেবন। পুলিশ কর্মকর্তা হওয়াতে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতেও ভয় পেতেন। এক পর্যায়ে ফাঁড়িতে বসেও ইয়াবা সেবন শুরু করেন, এমন অভিযোগ করেন খোদ তার অধীনস্থ পুলিশ সদস্যরাও।

ফাঁড়ির দায়িত্ব থাকাকালে মানুষকে ধরে এনে নির্যাতন ও অপরাধ অপকর্ম করে টাকা আদায়ের পাশাপাশি ড্রেস রুল লঙ্ঘনের বিষয়টিও এখন আলোচনায় উঠে আসছে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ