আজ শনিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

আকবরকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে

  • আপডেট টাইম : October 26, 2020 8:47 PM

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া: রায়হান হত্যা মামলা পিবিআইতে থাকলেও বসে নেই দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউই। পিবিআইকে সহায়তা করতে কাজ করছে একযোগে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমসি কলেজ ধর্ষ ণের ঘটনা এসএমপি এলাকায় ঘটলেও জড়িতরা পালিয়ে যায় জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এদেরকে গ্রেফতারে কাজ করে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সকল বিভাগ।রায়হান হত্যার বিষয়ে আকবর গ্রেফতারেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে এমনটাই জানিয়েছেন, সদ্য বদলী হওয়া সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বিপিএম।

মেট্টােপলিটন পুলিশ (এসএমপি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে পুলিশের নির্যাতন বা হেফাজতে কারাে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

রায়হান আহমদ মৃত্যুর ঘটনাটির মূল হােতা এসআই আকবর কান্ডে আজ কলংকিত গােটা এসএমপি। কারণ বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের বিষয়টি নাড়া দিয়েছে গােটা সিলেটবাসীকে। এ ঘটনায় আইনশৃংখলা বাহিনী পলাতক আকবরকে গ্রেফতারে হন্যে হয়ে খুঁজছে। তদন্ত সংস্থা অভিযুক্ত অন্য পুলিশ সদস্যদের পর্যায়ক্রমে গ্রেফতারের মাধ্যমে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে। তারপরও সমালােচনার পিছু ছাড়ছেনা এসএমপিকে। আর এরজন্য দায়ী একমাত্র বন্দর পুলিশ ফাড়ির সাসপেন্ড হওয়া আইসি আকবরই।এদিকে, রােব ও সােমবারও আকবরের সন্ধানে ঢাকাসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে এসএমপি। ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার পরিতােষ ঘােষের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সিলেট নগরীতে বিগত দিনে অনাকাঙ্খিত অনেক ঘটনা ঘটেছে। জ্বালাও পোড়াও আন্দােলনও হয়েছে। এগুলােকে যথাযথ ভাবে সামাল দিয়েছে পুলিশ। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও মাদককারবারি গ্রেফতারেও পুলিশের সফলতা ছিল। তবে এই পুলিশের মধ্যেই আকবরের মতাে কয়েকজন রয়েছে যাদের কারণে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অনেককেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। আর সমালােচনার মধ্যেই বদলির পর রােববার সন্ধ্যায় সিলেট ছেড়েছেন খোদ এসএমপি কমিশনার গােলাম কিবরিয়া ও।

কমিশনারের এ বদলটি একটি স্বাভাবিক বদলি। গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার শুধু তাকেই নয় এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ১৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। এছাড়া এসএমপিতে তার চার বছর মেয়াদের ফলে বদলির বিষয়টি আগে থেকেই প্রক্রিয়াধীন ছিল। তবে এমন সময়ই এই আদেশ আসে যখন রায়হানের মৃত্যু ও এসআই আকবরের পলায়নের বিষয়ে সর্বত্র ঝড় উঠে।

সূত্র আরাে জানায়, ১০ হাজার টাকার জন্য রায়হানকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে বলা হলেও সেটি মানতে নারাজ আনেকেই। তবে কি কারণে মধ্যযুগীয় কায়দায় ফাড়িতে আটকিয়ে নির্যাতনের পর রায়হানের মৃত্যু তা এখনও সন্ধেহের মধ্যে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা পরিষ্কার করতে পারেনি জন সম্মুখে। এব্যাপারে তার পরিবারও সন্দিহান।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ঘটনার দিন ১১ অক্টােবর ভােরে এসআই আকবর ছিনতাইকালে রায়হান গণধােলাইয়ের শিকার হয়েছে গণমাধ্যমে এ ধরণের খবর প্রচার করলেও পরে বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলের নজরে আসে। তাৎক্ষণিক তদন্ত কমিটির মাধ্যেম রায়হানকে নির্যাতন করার বিষয়টি প্রমাণিত হলে আকবরসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও চারজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এসএমপি থেকে এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি পুলিশ ব্যুরাে ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তিরত হওয়ার পর তদন্ত সংস্থাটি পুলিশের দুই কনস্টেবলকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে। রায়হানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযােগ তােলা আরাে একজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানাে হয়েছে। তদন্ত সংস্থা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত ও পুলিশ র্যাবসহ একাধিক গােয়েন্দা টিম পলাতক আকবরের সন্ধানে অভিযান চালালেও খুশি নয় নিহত রায়হানের পরিবার। তাদের বক্তব্য, মুল হােতা আকবরসহ সকল আসামীকে এখনাে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। অর্থাৎ এমন বক্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে তাদের আন্তরিকতার কােনাে অভাব নেই। কারণ এক আকবরের জন্য গােটা পুলিশ বাহিনী বা এসএমপি এর দায় নিতে চায় না। যদিও বিদায়ী কমিশনারের এক্ষেত্রে কিছুটা বিচক্ষণতার অভাব ছিল বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

পলাতক এই আকবর হােসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ও গ্রেফতারে এখনাে নানা পরিকল্পনার মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এসএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গত রােববার রাতে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার পরিতােষ ঘােষের নির্দেশে তার সন্ধানে বেশ কয়েটি স্থানে অভিযান চালায় এসএমপির কয়কেটি টিম। জানা গেছে, আকবরের এক প্রেমিকাসহ তার ফুফু ও চাচার বাড়িতেও পুলিশ গিয়ে হানা দেয়। সূত্র জানায়, পৃথক ভাবে পুলিশের টিম ঢাকা, আশুলিয়া, আশুগঞ্জ, আখাউড়া, বামচারামপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েও তার খােঁজ পায়নি। সেইসঙ্গে সীমান্ত এলাকাসহ সারা দেশেই এই আকবরকে গ্রেফতারের জন্য নজরদারি রয়েছে।

তবে প্রশ্ন হলো আকবর ছাড়াও অন্য জড়িতদের কেন গ্রেফতার হচ্ছে না? এ হত্যা কান্ডে পুলিশের বাহিরে কেউ জড়িত আছে কিনা তাও এখন জানতে পারেনি কেউই।তবে পুলিশের বাহিরে ঘটনার পর থেকেই আকবরের খালাতো ভাই পরিচয় দেওয়া সাংবাদিক নোমান আলোচনায় থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনা হয়ননি এখনও।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ