শনিবার, ১৯ Jun ২০২১, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

ধর্মের অপব্যাখ্যার কারণে যুবসমাজ যেন বিপথগামী না হয়: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মের অপব্যাখ্যার কারণে যুবসমাজ যেন বিপথগামী না হয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : ধর্মের অপব্যাখ্যার কারণে যুবসমাজ যেন বিপথগামী না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস সৃষ্টি ও মানুষ হত্যা আমাদের ধর্মের ইমেজ নষ্ট করছে। এই পথ সর্বনাশা পথ। এই পথ থেকে দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সারা দেশে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মানুষ হত্যা করে কেউ বেহেশতে যাবে না। এটা ভুল কথা। মানুষকে এটা বোঝাতে হবে। সামাজিক কমিটি করে যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষকে সোচ্চার করে তুলতে হবে। মাদক সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

ইসলাম প্রচার প্রসারে যা যা করণীয় সরকার সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানান সরকারপ্রধান। বলেন, আজকে আমি সত্যি খুব আনন্দিত। মডেল মসজিদগুলো হতে ইসলামের সঠিক মর্মবাণী প্রচার হবে, ইসলামের সঠিক প্রচার হবে। ইসলামের সঠিক জ্ঞান চর্চা হবে। জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় মুসলমানরা আবারও এগিয়ে যাবে। ধর্ম সম্পর্কে মানুষ যেন সচেতন হয় আমরা তা চাই।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই যে আমাদের এই পবিত্র ধর্ম সম্পর্কে মানুষ যেন সচেতন হয়। একমাত্র ইসলাম ধর্ম যেখানে নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছে। নারীদের সমঅধিকার কিন্তু ইসলাম ধর্মই দিয়েছে। পৈতৃক সম্পত্তিতে নারীদের যে অংশ এমনকি স্বামীর সম্পত্তিতে নারীদের যে অংশ সেটাও কিন্তু ইসলাম ধর্মই দিয়েছে। কোনো ধর্মেই কিন্তু এটা নাই। ইসলাম ধর্মে সব দিক থেকেই নারীদের সুযোগ সুবিধা সেটা আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্ম দিয়ে গেছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, মাদক আজকে আমাদের সমাজকে একেবারে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এই মাদকের হাত থেকে যেন মানুষকে মুক্ত করতে পারি তার জন্য সকলকে আরও সচেতন হতে হবে। আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম প্রত্যেক উপজেলায় সকল ধর্ম-বর্ণের সকলকে নিয়ে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে কমিটি করে এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন বা পাশবিকতার বিরুদ্ধে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এই মসজিদটা আমরা সেভাবেই তৈরি করতে চেষ্টা করেছি। যেখানে সব ধরনের শিক্ষা এবং প্রচার মানুষের মাঝে সচেতনতা, ধর্ম সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি পায় সেই লক্ষ্যে নিয়েই আমরা এটা করেছি।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হজ সম্পর্কে সকল তথ্য এবং সেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা ইতিমধ্যে আমরা নিয়েছি। হজযাত্রীদের ভিসা-পাসপোর্ট, আবাসন, মেডিকেল এ সকল বিষয়কে সহজ করে দেওয়া হয়েছে। আগে যখন হজযাত্রীদের যেতেন তখন টার্মিনালের মধ্যে একটা অনিশ্চয়তার তাদের বসে থাকতে হতো তারা মাটিতে শুয়ে আছে, বসে আছে। কখন যাবে, কিভাবে যাবে কোন নিশ্চয়তা ছিল না।

‘আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর জেদ্দার টার্মিনালে আমরা আলাদা জায়গা নিয়েছিলাম। নেওয়া আছে। আমাদের বাংলাদেশ থেকে যারা যাবে তারা সেখানে থাকবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে বাসে করে যাতে পবিত্র মক্কা শরিফে চলে যেতে পারেন সে ব্যবস্থাটা কিন্তু আমরা নিয়েছি।–যোগ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে কিন্তু হজযাত্রীদের নানা সমস্যা একে একে দূর করা হয়েছে। এখানে আমাদের আশকোনা হজ ক্যাম্প রয়েছে। তাদের (হাজিদের) ইমিগ্রেশনের কাজটা এয়ারপোর্টের ভেতরে যাওয়ার দরকার নাই। সেখানে বসেই যেন হতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থাটাও কিন্তু করে দিয়েছি। সৌদি সরকারের সঙ্গে আলাপ করে আমরা সেই অনুমোদনও নিয়েছি। এখানে বসে সবকিছু হয়ে যাবে। তারপর সহজভাবে বিমানে চলে যাবেন।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, এখন আর আমাদের বিমান ভাড়া করা লাগে না। নিজেদের বিমানে আমরা হাজিদের পাঠাতে পারি। ঢাকা বিমানবন্দরে যেমন ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। মক্কা মদিনা শরিফ থেকে আসার সময় যেন সুবিধা হয় মক্কা শরিফেও সে ব্যবস্থা করেছি। যাতে সব ধরনের সুবিধা অসুবিধা জানার জন্য এই ব্যবস্থা থাকে। সেই দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমজমের পানিতে আনতে গেলে অনেক সময় সমস্যা হতো। ওজন নিয়ে সমস্যা হতো। আমাদের বিমান যখন হাজীদের নামিয়ে দিয়ে আসে এই খালি প্লেনে আগেই জমজমের পানি নিয়ে আসে। পরে যাদের যাদের পানি দরকার হয় নিতে পারেন। আশকোনা থেকে নিতে পারেন। সেই ব্যবস্থাটাও কিন্তু আমরা করে দিয়েছি। সব ধরনের ব্যবস্থা করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের দেশের সব সময় চেষ্টা করেছি আমাদের অনেক পুরনো ঐতিহ্যবাহী মসজিদ আছে সেগুলো রক্ষা করা। সেগুলো দর্শনীয় হিসেবে আরও উন্নত করা। বায়তুল মোকাররমের মিনার নির্মাণ এগুলো আমরা করেছি। মসজিদভিত্তিক শিক্ষা আমরা করে দিয়েছি। সেখানে আমরা বিশেষ অনুদান দিচ্ছি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা আরও বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছি। কারণ আমি জানি যে একটা সময় অসুস্থ হয়ে গেলে তাদের আর সাহায্য করার কিছু থাকে না। কাজ করতে চাইলেও কোন কাজ তারা করতে পারে না। সেই জন্যই আমি এই ফান্ড গঠন করেছি। আমাদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যেন বিশেষ সুবিধা পান। ঋণ নিতে পারেন, অনুদান নিতে পারেন। সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি ছিল না আমরা তাঁর সনদের স্বীকৃতি ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি। ইসলাম প্রচার প্রসারে যা যা করণীয় আমরা সে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। এখানে তো আমাদের পবিত্র কোরআন শরিফে আছে সূরা কাফিরুন স্পষ্ট বলা আছে লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়াদিন। যার যার ধর্ম পালন করতে পারবে। ইসলাম ধর্ম সব থেকে বড় ধর্ম যে ধর্ম মানুষের অধিকার, মানুষকে মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরি করবার শিক্ষা দেয়। সেই শিক্ষাটাই সবাই নিবে এটাই আমরা চাই। আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেভাবে তৈরি হবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই মডেল মসজিদের মাধ্যমে ইসলামের বাণী প্রচার হবে। ইসলামিক সংস্কৃতি প্রচার হবে। ইসলামের মর্মবাণী দেশ বিদেশের সকল ধর্মের মানুষ উপলব্ধি করতে পারবে সেই দিকেই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্য দেন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  





কপিরাইট © ২০১১-২০২১ আজকের সিলেট ডটকম-এর সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Design BY best bd
ThemesBazar-Jowfhowo