শনিবার, ১৯ Jun ২০২১, ১২:২৯ অপরাহ্ন

স্বপ্নের মসজিদের উদ্বোধন দেখে যেতে পারলেন না এমপি কয়েস

স্বপ্নের মসজিদের উদ্বোধন দেখে যেতে পারলেন না এমপি কয়েস

ডেস্ক রিপোর্ট : নান্দনিক নির্মাণ শৈলী। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় স্বর্গোদ্যান। নির্মাণকালে প্রায় দিনই মসজিদের কাজের তদারকিতে ছিল তার উপস্থিতি। মনের কুঠিরে হয়তো ছিল, মসজিদটির উদ্বোধনী দিনেই মুসল্লিদের নিয়ে নামাজ আদায় করবেন! কিন্তু তার আগেই করোনা আক্রান্ত হয়ে না ফেরার পাড়ি দিলেন সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার তাকে ছাড়াই উদ্বোধন করা হয় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নান্দনিক শৈলীতে নির্মিত মডেল মসজিদের।

স্থানীয়রা জানান, সংসদ সদস্য হয়েও নিজে মসজিদটির কাজ তদারকি করতেন মরহুম সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। মসজিদটি তার হাতেগড়া বলা চলে। কিন্তু তিনি মসজিদের উদ্বোধন দেখে যেতে পারলেন না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ স্থাপনে জায়গা স্বল্পতার কারণে একসময় মসজিদ নির্মাণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু এমপি সামাদের চেষ্টায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তরের পর কাজ শুরু হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দ্রুতই এগিয়ে চলে নির্মাণ। মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর হওয়ার পর যতবার তিনি উপজেলার কোনো অনুষ্ঠানে এসেছেন, ততোবারই তিনি মসজিদের নির্মাণ কাজ তদারকি করেছেন। এমনকি মারা যাওয়ার মাসখানেক আগেও মসজিদের নির্মাণ পরিদর্শন করেন তিনি।

সে সময় উপস্থিত এলাকার লোকজনের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, মসজিদটি উদ্বোধনের পর মুসল্লিরা এখানে নামাজ পড়বে, ধর্ম নিয়ে আলোচনা করবে, ইসলামিক সংস্কৃতিচর্চা করবে, যেটা আমি নিজ চোখে অবলোকন করব। আহ! কি প্রশান্তি লাগবে! তাঁর সেই কথাগুলো আজ স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে বলেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলি। এলাকার লোকজন বলেন, তার স্বপ্নের সেই মসজিদের উদ্বোধন হচ্ছ, অথচ তিনি নেই। তবে, মুসল্লিরা এখানে নামাজ পড়বেন, ইসলামিক আলোচনা করবেন, তাতে তার কবরো আল্লাহ তায়ালা সওয়াব পৌঁছে দেবেন, নিশ্চয়ই।

দেখা যায়, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে নির্মিত মসজিদটি বিভিন্ন কারুকাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদের একতলা সমান সিঁড়ি উঠতে হয় মসজিদে। আছে মিনার ও গম্বুজ। সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকালে মসজিদটি যে কারো দৃষ্টি কাড়ে।

দক্ষিণ সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল সদ্য প্রয়াত সাবেক সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে প্রায় ৪৩ শতক (১৮ হাজার ৭০০ বর্গফুট) জমির ওপর নির্মিত ৩ তলা মসজিদভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যেই তিনতলা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১২ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয় হয় মসজিদটি নির্মাণে। নির্মিত উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নিচতলায় ১৫ হাজার বর্গফুটে রয়েছে ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ডাইনিং রুম, প্রতিবন্ধী কর্নার, মরদেহ গোসলের কক্ষ, জেনারেটর রুম, অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য নামাজের কক্ষ, গাড়ি পার্কিং, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বুক সেলস সেন্টার ও ওজুখানা রয়েছে। দ্বিতীয়তলায় মূল নামাজ কক্ষ, কনফারেন্স রুম, ওজুখানা, টয়লেট, উপ-পরিচালকের কক্ষ ও হিসাব কক্ষ রয়েছে। তিনতলায় পুরুষ ও নারীদের পৃথক নামাজ কক্ষ, মক্তব কক্ষ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম, শিক্ষক ও সাধারণ কর্মচারীদের কক্ষ, অতিথি কক্ষ। এছাড়াও মেহেরাব, সিঁড়ি ও একটি সুউচ্চ মিনার রয়েছে।

দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অংশ হিসেবে দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় এ মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত বিভাগ।
মডেল মসজিদটি উদ্বোধন হলে এলাকার মুসল্লিরা পাঁচওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়ের পাশাপাশি ইসলামী জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন প্রত্যাশা উপজেলার লোকজনের।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  





কপিরাইট © ২০১১-২০২১ আজকের সিলেট ডটকম-এর সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Design BY best bd
ThemesBazar-Jowfhowo