শনিবার, ২৪ Jul ২০২১, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

ফেসবুকে ভাইরাল পরীমনির নতুন স্ট্যাটাস

ফেসবুকে ভাইরাল পরীমনির নতুন স্ট্যাটাস

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা : দেশীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলপাড় সৃষ্টি করে দেশব্যাপী। পুলিশ প্রথমে মামলা না নিলেও পরীমনির ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর সোমবার মামলা নেয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় ধর্ষণচেষ্টা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ব্যবসায় নাসির, পরীর সহকারী অমিসহ ৫ জন।

আসামিরা গ্রেফতার হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক, সহকর্মী এবং ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী পরীমনি।

কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন নায়িকা। পোস্টে তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ ধরণের অপরাধ যেন আর কেউ করার সাহস না পায় সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

ফেসবুকে পরীমনি লেখেন, ‘আমার বিশ্বাস আমার আস্থা ভুল ছিলো না। আইন সবার ওপরে।

শুধু সেই সঠিক জায়গায় পৌঁছানটাই যত কষ্ট!

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সকল সাংবাদিক, সকল সহকর্মী এবং দেশের মানুষ যারা আমার এই দুঃসময়ে আমার পাশে ছিলেন,আছেন আমি সবার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ ?
আপনারাই আমার সাহস ♥️

আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন আমার চাওয়া আসামিরা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। কোনোভাবেই যেন এই ধরনের লোকেরা আর কোন মেয়েকে এভাবে নির্যাতন-অপমান করার সাহস না পায়। আমি হার মানব না। আমি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি এই দেশের আশীর্বাদ। আপনি মা। আপনি মমতার আঁচলে জড়িয়ে রাখেন আপনার সব সন্তানকে।’

পরীমনির এই স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়ে গেয়ে ইতোমধ্যে। স্ট্যাটাসের ৮ ঘণ্টার মধ্যে ৯৬ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী এতে লাইক দিয়েছেন। কমেন্ট করেছেন ২১ হাজার ব্যক্তি। আর পোস্ট শেয়ার করেছেন ৩৩৩ জন।

এর আগে ১৩ জুন রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে বিচার চান পরীমনি। বিষয়টি নিয়ে ওইদিন রাতেই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ ঘটনায় পরদিন (১৪ জুন) ঢাকার সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেন এই অভিনেত্রী।

এরপর বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় পুলিশ। পরীমনির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার গ্রেফতার করা হয় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমিসহ পাঁচজনকে।

মামলার এজাহারে পরী জানান, মদ্যপান করতে না চাইলে ১ নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখের মধ্যে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। এতে আমার সামনের দাঁত ও ঠোঁটে আঘাত পাই। ১ নম্বর আসামি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে এবং আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

তিনি আরও বলেন, ১ নম্বর আসামি উত্তেজিত হয়ে টেবিলে রাখা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারেন। তখন আমার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি ১ নম্বর আসামিকে বাধা দিতে চাইলে তাকেও মারধর করে। এই সময় আমি ৯৯৯–এ কল করতে গেলে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি টান মেরে ফেলে দেওয়া হয়। ২ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৪ জন ১ নম্বর আসামিকে ঘটনা ঘটাতে সহায়তা করেন।

পরিমণি লিখেছেন, ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরীমণি, তার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি, বন্ধু অমি ও বোন বনি দুটি গাড়িতে উত্তরার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। পথে অমি জানান ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে। ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বোট ক্লাবের সামনে গাড়ি দাঁড় করানো হয়। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। তারপর ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেন।

পরীমণি মামলার এজাহারে আরও লিখেছেন, অমি অনুরোধ করে এখানের পরিবেশ অনেক সুন্দর, তোমরা নামলে নামতে পারো। আমরা বোট ক্লাবে প্রবেশ করে বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করি। টয়লেট থেকে বের হতেই অভিযুক্ত আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন।

এজাহারে আরও লেখা হয়েছে, আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ আসামি নাসির মদ্যপান করার জন্য জোর করেন। আমি মদ্যপান করতে না চাইলে নাসির জোর করে আমার মুখের মধ্যে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  





কপিরাইট © ২০১১-২০২১ আজকের সিলেট ডটকম-এর সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Design BY best bd
ThemesBazar-Jowfhowo