আজ বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং

তামাবিল বন্দরে সকল প্রকার আমদানি রফতানি বন্ধ

  • আপডেট টাইম : December 3, 2017 6:00 AM

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : তামাবিল স্থলবন্দরের মাশুল কমানোর দাবীতে ব্যবসায়ীদের অনির্দিষ্ট কালের আমদানি রফতানি বন্ধ রয়েছে। টানা দশদিন ধরে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে পাথর ও চুনা পাথরসহ সকল প্রকার আমদানি রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ নভেম্বর থেকে এই আমাদানি রফতানি বন্ধ রয়েছে। আর এই স্থল বন্দরের আমদানি রফতানি বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকা লোকসানের সম্মূখীন হয়ে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি তামাবিল স্থল বন্দরে কর্মরত কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আর এই বর্জনের ফলে সরকারও কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে এই স্থল বন্দর দিয়ে সকল প্রকার আমদানি রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অলস সময় পার করছেন পাথর আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা।

পাথর, চুনা পাথর ও কয়লা আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ কালে তারা জানান, গত ২৭ অক্টোবর তামাবিলের পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দরের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর চলতি মাসের ৬ তারিখ থেকে ভারত থেকে যে সকল পাথর বা পণ্য আমাদানি করা হয়েছে সেগুলো থেকে টন প্রতি বাড়তি দুইশ’ টাকা করে আনুষাঙ্গিক চার্জ (মাশুল) হিসেবে সরকারকে দিতে হচ্ছে। সে অনুযায়ী একজন আমদানিকারকের পাঁচ টনের একটি পাথর বোঝাই ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করলে সে ট্রাক থেকে ১ হাজার টাকা বন্দর মাশুল হিসেবে বন্দরের মাশুল হিসেবে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

এছাড়াও প্রতি শুক্রবার ও শনিবার ভারত থেকে যে পাথর বা পণ্য আমদানি করা হয়। সে আমদানি করা পণ্যের একটি বিলের বিপরীতে হলিডে চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত আরও ১৬শ’ টাকা করে দিতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন বন্দর এখন তাদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে তামাবিল পাথর, চুনা পাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন (সেদু) বলেন, আমদানি করা পাথরের ওপর থেকে অতিরিক্ত মাশুল কমানোর দাবী নিয়ে স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কমিশনারের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছি। কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত মাশুল যতক্ষণ পর্যন্ত না কমাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের স্বার্থে তামাবিল বন্দর দিয়ে আমরা কোন প্রকার আমদানি রফতানি করবো না।

তামাবিল স্থল বন্দরের সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ জানান, ব্যবসায়ীরা মাশুল কমানোর দাবী জানিয়ে আসলেও এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করণীয় নেই। সরকারের স্থল বন্দর সংশ্লিষ্ট উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী বন্দরের যে মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতেকটি স্থল বন্দর থেকে মাশুল আদায় করা হয়ে থাকে। তামাবিল স্থল বন্দরের ক্ষেত্রেও একই ভাবে সরকারের নির্ধারিত হারে মাশুল আদায় করা হয়। এখানে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোন মাশুল আদায় করা হয়না। হলিডে চার্জের বিষয়ে তিনি বলেন একটি বিলের বিপরীতে ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ যে ১৬শ’ টাকা নেওয়া হয় তাও সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া। সরকারী ছুটির দিনে অতিরিক্ত কর্মঘন্টার জন্য ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী ওই টাকা নেওয়া হয়।

(আজকের সিলেট/৩ ডিসেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ