২৫ ডিসেম্বর ২০২১


ওভারব্রিজ না ঝুলন্ত ডাস্টবিন?

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : নগরীর বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্টে এলাকায় ৬ বছর আগে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয় একটি ফুট ওভারব্রিজ। উদ্বোধনের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ব্রিজটি রূপ নেয় ছিন্নমূল পাগল ও মাদক সেবীদের আস্তানায়। এছাড়া ব্রিজটির ওপর জমে থাকা ময়লার স্তুপ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। যা পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে।

অন্যদিকে নগরীর টিলাগড় এলাকায়ও আরেকটি ফুট ওভারব্রিজ স্থাপন করা হয়েছে। খোঁজা হচ্ছে নতুন করে আরো একটি ফুট ওভারব্রিজ স্থাপনের জায়গা। তবে, এই ফুট ওভারব্রিজ কতটা কাজে আসছে এ নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের একান্ত ইচ্ছায় ২০১৫ সালে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরের বন্দর বাজার এলাকার কোর্ট পয়েন্টে নির্মাণ করা হয় সিলেটের প্রথম ফুট ওভারব্রিজ। এরপর ছয় বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে ব্রিজটি।

অপরিকল্পিত এ ব্রিজটি নির্মাণের আগে অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তবে কেউ তা কর্ণপাত করেনি। অন্যদিকে স্থাপনের পর থেকেই অব্যবহৃত থাকায় ব্রিজটি নিলামে বিক্রি করে দেয়ার উদ্যোগ নেয় সিসিক। বিক্রির জন্য পর পর দুবার দরপত্রও আহ্বান করা হয়। কিন্তু নিলামে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় নির্মিত এ সেতুর দাম ওঠে মাত্র ২২ লাখ টাকা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেতুটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সিসিক।

সিদ্ধান্ত হয় এটি নগরের দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্বরে সরিয়ে নেয়ার। তবে সেটিও পরিকল্পনা পর্যায়েই রয়ে গেছে এখনো। অপ্রয়োজনীয় এ সেতুটি এখন সড়ক সম্প্রসারণ ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টিলের কাঠামোয় নির্মিত ব্রিজের বিভিন্ন প্রান্তে ওঠা নামার জন্য রয়েছে ছয়টি সিঁড়ি।

এদিকে,নগরী আরো দুটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিসিক। এর মধ্যে টিলাগড়ে একটির কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আরেকটির স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ব্রিজের সবকটি সিড়িতে ময়লা আবর্জনার স্তুপ। ঘুমিয়ে আছে ভাসমান লোকজন। অনেক ছিন্নমূল মানুষই এ জায়গাটিকে প্রশ্রাব-পায়খানার স্থান হিসেবেও ব্যবহার করছেন।

স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী শামসুল জানান, এই ব্রিজ ঝাড়ূ দিতে কাউকে দেখা যায় না। রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় অনেকেই সিড়িতে আবর্জনা ফেলে যান। রাতে ব্রিজটি অপরাধী ও ভাসমান মানুষের দখলে চলে যায়।

আব্দুল করিম নামের এক প্রহরী জানান, সন্ধ্যা হলেই মাদকসেবীরা ব্রিজে উঠে মাদক সেবন করে। অনেক সময় ময়লা আবর্জনা পথচারীদের মাথার উপর ছুড়ে ফেলে তারা। ফলে অনেকেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।

অপরদিকে, কোর্টপয়েন্টের মতো টিলাগড়ের সেতুটিও অনেকটা ফাঁকা পড়ে আছে। সেতুর নিচ দিয়েই পথচারীরা হেঁটে সড়ক পার হচ্ছেন। মুষ্টিমেয় শিক্ষার্থীদের ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

পরিবেশকর্মী শুয়াইব হাসান বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ওভারব্রিজটি হয়তো অপসারণ করবে, না হয় রক্ষণাবেক্ষন করবে। কিন্তু, সিসিক এর কোনটাই করছে না। তিনি এই ব্রিজের ব্যাপারে এখনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় বন্দরাবজারের ফুট ওভারব্রিজটি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য তার জানা নেই। তবে ফুট ওভারব্রিজটি বিক্রির জন্য দুই দফা নিলাম আহ্বান করা হয়। কিন্তু, ২২ লাখ টাকার বেশি কেউ দিতে চায়নি। চাহিদা মতো দাম না পাওয়ায় এটি বিক্রি করা হয়নি। আপাতত ফুট ওভারব্রিজটি স্থানান্তরেরও কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি ময়লা আবর্জনা পরিস্কার ও রক্ষণাবেক্ষনে ব্যাপারে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

শেয়ার করুন