তীব্র পানি সংকটে সুনামগঞ্জ পৌরবাসী
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৫:১৮

তীব্র পানি সংকটে সুনামগঞ্জ পৌরবাসী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০২/২০২৪ ১১:১৮:০১

তীব্র পানি সংকটে সুনামগঞ্জ পৌরবাসী


বিশুদ্ধ পানি সংকটে ভুগছেন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন হাছননগর এলাকার বাসিন্দারা। আশপাশের পুকুর—জলাধার কমে যাওয়ায় পাচ্ছেন না ব্যবহারযোগ্য পানি। এ অবস্থায় ভূগর্ভস্ত টিউবওয়েল বা পাম্পই ভরসা স্থানীয়দের। তবে সবার বাড়িতে পানির এমন ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে পানির এমন সংকটকালে পৌরসভার বিশুদ্ধ পানিও পাচ্ছেন না তারা। পানির পাইপের বেহাল অবস্থা থাকায় বন্ধ আছে পানি সরবরাহ।

সরেজমিনে ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সুলতানপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন সেতুর এক প্রান্তে পৌরসভার পানির লাইনের পাইপ ভেঙে আছে। এই ভাঙা পাইপ দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানি সংগ্রহ করে এতোদিন জীবনধারণ করছিলেন আশপাশের মানুষ। তবে অনেক পানি অপচয় ও ঝুঁকি থাকায় দুইদিন হয় সেতুর অন্যপ্রান্ত থেকে সেটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে সেতু পর্যন্তই পানি সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। এরপরের সকল বাসায় পানি সরবরাহ বন্ধ। এই অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চন্দন দাস নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, বিধ্বস্ত পানির পাইপ দিয়ে চলছে সরবরাহ। নতুন হাছননগর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষা করে চলছে বিখ্যাত সোনাখালী নদীর সেতুটি। সোনাখালী সেতু নামে অতি পরিচিত সবার কাছে। এই সেতুর বুক চিরে সুনামগঞ্জ পৌরসভা উত্তর দক্ষিণ প্রান্ত থেকে আড়াআড়ি ভাবে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লাইন বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু মূল লাইনে আজ দীর্ঘদিন যাবৎ পানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অনেক গ্রাহক। এভাবে গ্রাহকদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মাসের পর মাস।

তিনি আরও লিখেন, পানির জন্য আমরা বহুদিন যাবৎ কষ্ট করে আসছি কিন্তু কাউকে খেয়াল করতে দেখছি না। মেরামতের উদ্যোগ নেয়ারও কেউ দেখা যায়নি। এলাকার ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অবিলম্বে এই বিধ্বস্ত পানির পাইপ লাইল মেরামত করে এই দুর্ভোগ সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার জোর দাবি মেয়র মহোদয়ের নিকট।

রঞ্জিত বিশ্বাস বলেন, ওই সেতুর এখানে পানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কিন্তু আমাদের সেতুর এখানে পানির লাইনের মূল পাইপটাই কাটা হয়ে গেছে। আমাদের আশপাশের কেউই পৌরসভার পানি পায় না। নদীর ঘাটের পানি ব্যবহার করছে মানুষ।

এমরান আহমেদ বলেন, প্রতিদিন সকালে আর দুপুরে পাইপের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি আসতো। আমাদের পাম্প বসানোর ক্ষমতা নাই তাই আমি সহ আরও বেশ কয়েক পরিবার পাইপের পানি দিয়ে জীবনধারণ করেছি, এখন সেটিও বন্ধ। আমাদের পানির সংকট দূর করার কেউ নাই।

স্থানীয় কাউন্সিলর মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, পানি সংকটটা সব জায়গাতেই। আমার এখানেও আছে। আমার এলাকার কোনো গ্রাহকই পৌরসভার পানি পাচ্ছেন না। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় আমি কতৃর্পক্ষের সাথে কথা বলেছি। পানির পাইপ নিয়ে যাওয়া একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া তাই সময় লাগছে। তবে আপাতত যে জায়গায় বন্ধ করা হয়েছে পানির লাইন সেখানে ট্যাপ (পানির কল) লাগিয়ে নাগরিকদের সাময়িক একটা সুবিধা দেয়ার চিন্তা করছি।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর