শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় মৃত যুবকের দাফন : মামলার প্রস্তুতি
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৫:১২

শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় মৃত যুবকের দাফন : মামলার প্রস্তুতি

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২/০২/২০২৪ ০৩:৫৩:৪৮

 শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় মৃত যুবকের দাফন : মামলার প্রস্তুতি


সিলেটের গোলাপগঞ্জে একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে নদীতে পড়ে মারা যাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের লাশ দাফন করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। পরে বিকাল ৩টায় জানাযার নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার বিকাল ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার চন্দরপুর এলাকার আল-এমদাদ হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক আলী হোসেন (৩৫)। তিনি চন্দরপুর গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে। ২৪ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর রোববার বিকাল ৩টার দিকে পুলিশের সহযোগিতায় কুশিয়ারা নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার গোলাপগঞ্জ উপজেলার চন্দরপুর এলাকার আল-এমদাদ হাই স্কুলে একটি অনুষ্ঠান চলছিলো। বিকাল ৩টার দিকে আলী হোসেন এ অনুষ্ঠানস্থলে গেলে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেন। এসময় আলী হোসেনকে শিক্ষার্থীরা ধাওয়াও করেন বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে আলী হোসেন ছুটে গিয়ে স্কুলের নিকটস্থ চন্দরপুর ব্রিজের উপর থেকে কুশিয়ার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে দেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ব্রিজের উপর থেকে তাকে লক্ষ্য করে ইট-ঢিল নিক্ষেপও করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একপর্যায়ে নদীর পানিতে তলিয়ে যান আলী হোসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সেখানে গিয়ে সন্ধ্যারাত পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করে আলী হোসেনের সন্ধান না পেয়ে গতকালের মতো সন্ধান কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে রবিবার সকাল থেকে ফের খোঁজাখুঁজি শুরু করে বিকাল ৩টার দিকে চন্দরপুর ব্রিজের অদূরবর্তী স্থান থেকে আলী হোসেনের লাশ উদ্ধার করে ডুবুরি দল। পরে লাশটি ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি মাছুদুল আমিন বলেন, ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে বিকাল ৩টার দিকে দাফন করা হয়েছে। নিহত হওয়ার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়নি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে। দাফন শেষে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এসে অভিযোগ দিবেন। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/ কে.আর

সিলেটজুড়ে


মহানগর