কিছুতেই থামছে না হোটেল সুফিয়ার নারকীয় দেহব্যবসা, অস্বস্তিতে স্থানীয়রা
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১৯

কিছুতেই থামছে না হোটেল সুফিয়ার নারকীয় দেহব্যবসা, অস্বস্তিতে স্থানীয়রা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪/০৩/২০২৪ ০৫:৪২:২১

কিছুতেই থামছে না হোটেল সুফিয়ার নারকীয় দেহব্যবসা, অস্বস্তিতে স্থানীয়রা

হোটেল সুফিয়া থেকে অসামাজিকতার অভিযোগে ডিবির হাতে আটককৃত কয়েকজন ও হোটেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম।


নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তালতলা। নগরের ভিআইপি রোডের তেমুখি পয়েন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক, ফায়ার সার্ভিস সহ  এ স্থানে রয়েছে বেশ কয়েকটি সরকারী স্থাপনা, রয়েছে দেশের নামকরা একটি মাদ্রাসা ও একিাধিক মসজিদ। ভিআইপি রোডের এই তেমুখি পয়েন্ট জুড়ে  একটি মার্কেট ও  মার্কেটের উপরে বৃহৎ পরিসরের একটি আবাসিক হোটেল, যেটার নাম  হোটেল সুফিয়া।

অভিযোগে রয়েছে, এই হোটেল সুফিয়াতে চলছে নারকীয় কর্মকাণ্ড।যাকে বলে জমজমাট নারীদেহ ব্যবসা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যুবতী তরুণী ও কিশোরীদের এনে এ হোটেল চালানো পার্টটাইম ও পারনাইট দেহরঞ্জন ব্যবসা। অনেক তরুণী- কিশোরী, এমনকি নারী ভিকটিমদের জিম্মি করে রেখে এ হোটেলে চালানো হয় পাশবিক কর্মকাণ্ড।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সহ এলাকার বাসিন্দারা বার বার হেটেল কর্তৃপক্ষকে নিষেধ-বাধা দিয়েও  ব্যর্থ হয়েছেন। আর বাঁধা দিতে গেলে শাসকদল আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে দেয়া হয় হামলা-মামলার হুমকি ধামকি।সিলেট মহানগর ডিবি পুলিশ মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কতিপয় নিশিবালা তরুণী ও কিশোরীদের আটক করলেও তাদের কোর্ট থেকে ছাড়িয়ে আনা হয় আইনের শিথিলতার সুযোগে।

অভিযান চালিয়ে খদ্দের-পতিতাদের আটক করা হলেও অজ্ঞাতকারণে নারকীয় এ ব্যবসার  মুল হোতা হোটেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বরাবরই থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাহিরে। উর্ধতন কর্তাব্যক্তির নির্দেশে ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেও রহস্যজনক কারনে এ ই নারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছেনা স্থানীয় লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ও কোতোয়ালী মডেল।থানা পুলিশ। ফলে  হোটেল সুফিয়ার  দেহব্যবসায়ীরা দিন দিন আরো বে-পরোয়া হয়ে উঠছে।

সর্বশেষ গত শনিবার (২ মার্চ) হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে ৩ জন প্রমোদবালা সহ ৭ জনকে আটক করে এসএমপির ডিবি পুলিশ।  এদেরকে আটক করলেও আগাম সংবাদ পেয়ে হোটেল ম্যানেজার জাগাঙ্গীর কৌশলে পালিয়ে যান। কিন্তু অভিযানের পরদিন রোববার থেকে এই হোটেলে আবরো শুরু হয় রমরমা ব্যবসা। সূত্রমতে, জরিমানা আদায়ের  মাধ্যমে ধৃতদের ছাড়িয়ে এনে নারীওেদর পুনরায় বাধ্য করা হয় দেহদানে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেল সুফিয়ার নিচের মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী  জানান, হেটেল কর্তৃপক্ষকে আমরা বার বার বারণ করার পরও তারা কোন পাত্তাই দেয় না। বরং সরকার দলের জেলা পর্যায়ের এক শীর্ষ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে আমাদেরকে হয়রানী করার হুমকি দেয়। এমনকি ওই হোটেলে অবস্থান নেওয়া নারীদের দিয়ে নারী নির্যাতন আইনে মামলারও হুমকি দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীরা বলেন গত কয়েকদিন আগে আমাদের একজন ব্যবসায়ী তাদেরকে এই অনৈতিক ও পাপ ব্যবসায় বাঁধা দিয়েছিলেন। বাধা দেওয়ার ‘অপরাধে’ তাকে হোটেলে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়।  তাকে জিম্মি করে হোটেল থাকা মেয়েদের সাথে বিভিন্ন অশালীন ছবি তোলা হয়। এর পর হোটেলের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর সাদা স্ট্যাম্পে তার সই নিয়ে এই বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করতে শাসিয়ে দেয়। এখন এই ব্যবসায়ী ভয়ে ও লজ্জায় কাউকে কিছু বলতে পারছেন না।

হোটেল সুফিয়ার সোজা দক্ষিণ পাশেই মসজিদ। এই মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লীদের প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় হোটেলের জানালা দিয়ে প্রায়ই প্রমোদবালাদের অশালীন দৃশ্য চোখে পড়ে।

এই মসজিদে নিয়মিত ফজরের নামাজ আদায় করেন স্থানীয় বাসিন্দা কবির আহমদ। তিনি বলেন, ফজরের নামাজে মসজিদে যাওয়া আসার সময় হোটেল থেকে বিভিন্ন বয়সী মেয়েদের বের হয়ে যেতে দেখা যায়। এতে করে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

জানা যায়, হেটেল ম্যনেজার জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন থেকে এখানে বিভিন্ন বয়সী মেয়েদের দিয়ে দেহব্যবসা চালিয়ে আসছেন। অনেক সময়  চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে গ্রমের সহজ সরল মেয়েদের এখানে আনিয়ে জোরপূর্বক তাদেরকে এই কাজ করতে বাধ্য করা হয়। জাহাঙ্গীরের কথা না শুনলে চলে শারিরীক নির্যাতন। অনেক সময় এই হোটেল থেকে কান্নার আওয়াজও শুনতে পান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বার বার লামাবাজার ফাঁড়ি পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলেও অদৃশ্য করনে ফাড়িপুলিশ নিরব থাকে।

স্থানীয়দের ধারনা, লামাবাজার ফাঁড়ি ও কোতোয়ালী থানা পুলিশের কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করেই হোটেল সুফিয়াতে চালানো হয় এই ব্যবসা। তা না হলে ডিবি পুলিশ যেখানে অভিযান পরিচালনা করে এখান থেকে অসামাজিকতার দায়ে নারী-পুরুষকে ধরে নিয়ে যায়, সেখানে থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ কেন পারে না?

আইনজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ যথাযত ব্যবস্থা নিলে এই পবিত্র নগরীর পবিত্রতা রক্ষা করা সম্ভব। যারা এখানে কাজ করে তারা অনেকেই পরিস্থিতির শিকার। যারা এসব অপকর্মের নেপথ্যে রয়েছেন তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তার পরও কাজ না হলে হোটেলের লাইসেন্স বাতিল করে হোটেল সিলগালা করে দিতে হবে। অন্যতায় এটি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে হোটেল সুফিয়ার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল দিলেও তিনি আজকের সিলেট ডটকমের সেলফোন রিসিভ করেন নি।

জানতে চাইলে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রাশেদ আজকের সিলেটকে বলেন, আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করে থাকি। ম্যানেজ হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে কোতোয়ালী থানার ওসি এসএম মঈন উদ্দিনের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

এসএমপির মূখপাত্র ও এডিসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আজকের সিলেটকে বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। তাদেরকে আটক করে এমএমপি এক্ট ৭৭ ধারায় আদালতে প্রেরণ করি। পরে তারা আদালত থেকে জামিন নিয়ে আসে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

আজকের সিলেট/কেআর

সিলেটজুড়ে


মহানগর