টাকা দিলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চাকা চলে
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০৩

চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

টাকা দিলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চাকা চলে

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২/০৪/২০২৪ ০১:৩২:১৩

টাকা দিলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চাকা চলে


হবিগঞ্জের চুনারুঘাট হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে কিন্তু নানা অযুহাতে পাওয়া যাচ্ছে না সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সেবা। হাসপাতালের সামনে বিশাল জায়গা থাকলেও অ্যাম্বুলেন্স থাকে হাসপাতালে পেছনের পরিত্যক্ত জায়গায়। ফলে জরুরি সময় মুমূর্ষু রোগীদের হবিগঞ্জ ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হলে সময়মতো মেলে না অ্যাম্বুলেন্স।

এমন পরিস্থিতিতে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে দালালের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা চালায় নানা অপকৌশল। এতে করে সময়মতো উন্নত চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রায়ই ঘটছে মৃত্যু। চুনারুঘাট হাসপাতালের একমাত্র সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে এমন অভিযোগ মেলে হরহামেশাই।

সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় চলছে না চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স। চালক তাজুল ইসলাম নির্ধারিত ভাড়ার কয়েকগুণ বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চালক তাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম দুর্নীতি করলেও হাপাতাল কর্তৃপক্ষ নেয়নি কোন ব্যবস্থা।

জানা যায়, হাসপাতালে একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এ অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা অনুসরণ করেন না চালক তাজুল ইসলাম। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পথে বাণিজ্য করেন তিনি। রেফার করা হাসপাতালে রোগী পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে প্যাসেঞ্জার তুলে আনেন। ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে মুমূর্ষু রোগীর কাছ থেকে। হেরফের হলে নানা অজুুহাতে বন্ধ রাখা হয় অ্যাম্বুলেন্স।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া চুনারুঘাট পৌরসভার মধ্যে ২০০ টাকা এবং পৌরসভা বাইরে গেলে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১০ টাকা। তবে নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে চুনারুঘাট পৌর শহরের মধ্যে রোগী বহনের জন্য ৫০০ থেকে ১০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। জেলার বাহিরে রোগী বহন করা হলে তার জন্য ভাড়া নেওয়া হয় স্থানভেদে দুই থেকে তিন হাজার টাকা।

হাসপাতাল জরুরি বিভাগের চিকিৎসা নেওয়া একাধিক রোগী অভিযোগ করে বলেন, অ্যাম্বুলেন্স থাকবে প্রকাশ্যে। হাসপাতার কোথাও অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায় না। অ্যাম্বুলেন্স গোপনে রাখা হয়। এই অ্যাম্বুলেন্স চালক শহরের মধ্যে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং শহরের বাইরে গেলে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নেয়। অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি পরিবহন হাসপাতালে পেছনে রেখে এমন অনিয়ম কি হাসপাতালে কর্মকর্তাদের নজরে আসে না?

সম্প্রতি চুনারুঘাটের রানী কোট গ্রামের জনৈক নারী আগুনে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুড়ে জলসে যায়।মুমূর্ষু অবস্থায় চুনারুঘাট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয় তাকে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল রেফার করা হয়। সে সময় তার আত্মীয়-স্বজনরা পাগলের মতো এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছিল একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য। সে সময় হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক তাজুল ইসলাম ওই আহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে দালাল মারফত দরকষাকষি করতে ব্যস্ত থাকে।

দীর্ঘসময় নানা তালবাহানার পর স্থানীয় আরেক এম্বুলেন্স মাধ্যমে আহত নারীকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ওই সময় চালক তাজুল মিয়া শরীল ভালনা অযুহাত দেখিয়ে যাননি।

তবে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক তাজুল মিয়া বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সরকারি নিয়মেই ভাড়া নিচ্ছেন। নিয়মেরই বাইরে কোনো কিছু করেন না। এবং তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে চালক একজন আমি একা গাড়ি চালাই আমারও রেষ্টের প্রয়োজন আছে।

রাকিব আহমেদ তন্ময় নামে এক ব্যক্তি জানান, সপ্তাহ খানেক তার নিকটতম এক রোগী ঢাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য ৮ হাজার টাকা দাবী করেন চালক তাজুল ইসলাম। কিন্তু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি নিয়ম মানছেনা না চালক তাজুল ইসলাম এবং কোনো কার্যকারীতা নেই।

হাসান চৌধুরী কামরুল বলেন, সময়ে সরকারি ভাড়া প্রযোজ্য হয় না! ড্রাইভার যাহা বলে তাই গণ্য করা হয় কারণ তখন রুগী অসহায়। বিপদে রোগীর স্বজনরা চালকের চাহিদা মত ভাড়া দিতেও বাধ্য থাকে।

বিল্লাল আহমেদ নামে তার ফেইসবুক কমেন্টে লিখেছেন প্রায় ১০দিন পূর্বে ইমার্জেন্সি একজন রোগী নিয়ে সিলেট যাওয়ার জন্য চালক তাজুল ইসলামকে ফোন করেছি। কিন্তু তিনি যাওয়া যাবেনা এবং অন্য এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যান বলে জানিয়ে দেন। তিনি সহ উপজেলার অধিকাংশ লোকজন ওই চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবী জানিয়েছেন। আবার অনেকেই তার বদলি চান। কারণ সে প্রায় ২২ বছর ধরে একই কর্মস্থলে থেকে নানান অনিয়ম দুনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলীমা রায়হানা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অনিয়ম হলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মোজাম্মেল হোসেন বলেন, অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি সত্য হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর