জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মুজিববাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যাতে মুজিববাদ এই দেশে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।
শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জে পদযাত্রা শেষে শহরের আলফাত স্কয়ার পয়েন্টে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের পরিবহন ব্যবস্থাসহ অন্য সব সেবা খুবই নাজুক, যা পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জন। সেই নাজুক রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে উন্নত করাই মূল লক্ষ্য এনসিপির।
তিনি আরও বলেন, এই সরকারকে দ্রুত জুলাই সনদ ঘোষণা করতে হবে। আগামী ৩ আগস্ট জুলাই সনদ আদায় করা হবে। হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে অনেক শহীদ হয়েছেন। শুধু হবিগঞ্জ জেলাতেই প্রাণ দিয়েছেন প্রায় ২০ জন। কিন্তু এখনও আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ পাইনি।
ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এলাকায় এলাকায় নতুন করে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি মাথাচাড়া দিচ্ছে। চলছে ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা। এই রাজনীতি রুখে দিতে হবে।
সম্প্রতি বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতাকে হত্যার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে। মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আমরা সব সময় সোচ্চার। এই ধরনের হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক লুটপাট প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে স্বাস্থ্যসেবায় সিন্ডিকেট থাকবে না, দুর্নীতিবাজরা আইনের আওতায় আসবে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের সংগ্রাম শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ জানাই। হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, এনসিপি কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দল নয়। এটি গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা একটি সংগ্রামী শক্তি। আমরা বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষায় সর্বাত্মক লড়াই চালিয়ে যাব।
সদস্য সচিব আক্তার হোসেন বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি নানা কৌশলে দেশে প্রবেশ করবার চেষ্টা করছে। জীবন থাকতে আওয়ামী সেবা দাসকে উত্থান হতে দেবোনা। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশের সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে গড়তে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এগুলো ফেরত এনে রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা দিতে হবে। এবং জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
দক্ষিনাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা শুনেছি যারা এনসিপি করতে চায় তাদেরকে স্থানীয়ভাবে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। এই বাঁধাকে অতিক্রম করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা দেখেছি প্রশাসনে এখনও কিছু তেলবাজ কমকর্তা রয়েছেন, যারা আওয়ামিলীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। আমরা বেঁচে থাকতে আওয়ামীলীগকে পুনর্বাসন করতে দেয়া হবেনা।
সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, আমরা বাংলাদেশে আর বিচার বহির্ভূত হত্যা দেখতে চাই না। এদেশের প্রত্যেকটা হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মাইলস্টোন ট্রাজেডির দ্রুত তদন্ত করতে হবে। এ ঘটনার সাথে যারাই জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ মাহদি প্রমুখ।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 








