ছাতকে সড়ককে গিলে খাচ্ছে সুরমা
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০২:২৭ AM

ছাতকে সড়ককে গিলে খাচ্ছে সুরমা

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭/০৭/২০২৫ ০৯:২৫:৪৯ AM

ছাতকে সড়ককে গিলে খাচ্ছে সুরমা


সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে বড় রকমের ঝুঁকিতে রয়েছে ছাতক-আন্ধারীগাঁও ভায়া সুনামগঞ্জ সড়ক। চলতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে একটি সেতু ও সড়কের বেশ কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। যে কারণে সড়কপথে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অনিয়মের কারণে এই সড়ক ও সেতু এখন হুমকির মুখে। তবে উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ বলছে, ঠিকাদারের টেকসই কাজ সম্পন্ন করতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সড়কটি রক্ষায়  দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ছাতক সদর ইউনিয়নের আওতাধীন সুরমা নদীর তীর ঘেষে ছাতক-আন্ধারীগাঁও ভায়া সুনামগঞ্জ সড়কের অবস্থান। ২০২২ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় গ্রামীন এই সড়কটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগের (এলজিইডি) আওতায় এই সড়কের ছাতক অংশে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য ৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্দ হয়। গত বছরের আগস্ট মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয় কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবের মেসার্স মমিনুল হক এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। গত ১ সেপ্টেম্বর সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়। এই কাজের মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এরই মধ্যে সংস্কারকাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

তবে সড়ক মেরামতের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় দেখা দেয় নদীভাঙন। কাজের শুরুতেই স্থানীয় লোকজন নানা অনিময়ের অভিযোগ করলেও ঠিকাদার এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করে গেছেন। সড়কে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলে উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগকে দায়ী করেছেন এলাকার অনেকে।

সরেজমিনে ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের মল্লিকপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি মাজারের পাশে শুরু হয়েছে সুরমা নদীর ভাঙন। গত কয়েকদিনে ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে তা সড়কের পাকা অংশ পর্যন্ত এসে গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সেখানে বালুর বস্তা দিয়ে দায়সারা কাজ সম্পন্ন করেছেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু বালুর বস্তা নদীগর্ভে চলে গেছে। নতুন সংস্কারকাজের বিভিন্ন অংশে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং ধসে যাচ্ছে। এ ছাড়াও সড়কের মাছুখালী সেতুর এপ্রোচের পশ্চিমাংশ ভেঙে মাটি সরে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লোকজন সেখানে গাড়ি চলাচলে সতর্কতার জন্য বাঁশ বেঁধে রখেছেন। সেতুটি বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে, ভাঙনের মাত্রা বেড়ে গেলে সড়কটি ভেঙে সুরমা নদীতে বিলীন হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে কারণে এই সড়কের মল্লিকপুর ও মাছুখালী অংশের নদীভাঙন রোধে দ্রæত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

ছাতক সদর ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী ও নোয়াব আলী বলেন, ঠিকাদার কাজের শুরুতেই নানা অনিয়ম করেছে। ঠিকাদার নদীর তীরে কিছু বস্তা দিয়েছিল, কিন্তু দুইদিন পরই বস্তাগুলো নদীতে চলে গেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। এ রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

মাছুখালী এলাকার বাসিন্দা মো. সমুজ আলী বলেন, মল্লিকপুর ও মাছুখালীর মাঝখানে যে সেতুটি রয়েছে, এটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা সেতুর পশ্চিম পাশে বাঁশ বেঁধে রেখেছেন। এই সড়ক রক্ষায় দ্রুত নদীভাঙন রোধ করার বিকল্প নেই।

তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সালেক মিয়া কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সড়কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নদীভাঙনের বিষয়টি দেখা আমাদের কাজ নয়। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখবে।

ছাতক উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কের মল্লিকপুর ও মাছুখালীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করা হয়েছে। সড়কটিকে নদীভাঙন থেকে রক্ষায় অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর