মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় নারী ও শিশুসহ ১৭ জনকে আটক করেছে বিজিবি। এ ছাড়া তাদের সহায়তাকারী সন্দেহে একজন দালালকেও আটক করা হয়েছে।
শনিবার বড়লেখা উপজেলার নিউপাল্লাথল বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার বাতামোড়ল পান পুঞ্জিকা নামক স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।
বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা সবাই সুনামগঞ্জ জেলার একটি বেদে পল্লীর বাসিন্দা। তারা প্রায় ছয় মাস আগে মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি ভারতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযান ও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তারা বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ফেরার জন্য তারা স্থানীয় এক দালালের সহায়তায় রাতের অন্ধকারে অর্থের বিনিময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছিলেন। এ সময় বিজিবির নিয়মিত টহলদল তাদের আটক করে।
বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের পরিচালক (অধিনায়ক) লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল হক জানান, আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিদেশে অবস্থান, ফেরত আসা এবং দালালের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পরিচয় যাচাই করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বড়লেখা থানার ওসি মাহবুব রহমান মোল্লা জানান, অবৈধ পথে ভারত থেকে আসা দালালসহ আটক ১১ জনকে থানায় হস্তান্তর করেছে বিজিবি। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একই তনেভারত থেকে তাহিরপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময়ে এক নারীসহ ৬ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি।
শনিবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলা উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে লামাকাটা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জের প্রমোদ তালুকদারের ছেলে প্রভাত তালুকদার (৭৪), মধ্যনগর উপজেলার গবিন্দ সরকারের ছেলে রিপন সরকার (৩৫), একই উপজেলার মতি সরকারের ছেলে অপু সরকার (১৭), নেত্রকোনা জেলার কমলাকান্দা থানার বিনোদ সরকারের ছেলে বিধান সরকার (৫০), একই জেলার মোহনগঞ্জ বরহাতুনী গ্রামের জীবন সরকারের ছেলে সৃজন সরকার (১৫), একই জেলার ডরিয়াকোনা গ্রামের বিধান সরকারের স্ত্রী রিক্তা সরকার (৪৫)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বিরেন্দ্রনগর বিওপির একটি বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১১৯৪/এমপি হতে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উপজেলা উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাঘাটা এলাকা দিয়ে আটককৃতরা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারা কাজের উদ্দেশ্যে প্রায় ৪ থেকে ৫ মাস পূর্বে অবৈধভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে কুচবিহারে অবস্থান নেয়। সেখানে সঠিক মজুরি না পাওয়াসহ বর্তমান পরিস্থিতিতে ভয়ে বাংলাদেশে আবার পালিয়ে আসার চেষ্টা করলে বিজিবি তাদের আটক করে।
সুনামগঞ্জ-২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল একেএম জাকারিয়া কাদির আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাহিরপুর থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি









