মই কৃষি জমির সমতা আনার অপরিহার্য ঐতিহ্যবাহী উপকরণ
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৫ PM

মই কৃষি জমির সমতা আনার অপরিহার্য ঐতিহ্যবাহী উপকরণ

অমৃত জ্যোতি, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে

প্রকাশিত: ১২/১২/২০২৪ ০৮:০৪:০৮ AM

মই কৃষি জমির সমতা আনার অপরিহার্য ঐতিহ্যবাহী উপকরণ


মাছে ভাতে বাঙ্গালীর দেশেটির পুরো হাওরাঞ্চলেই কৃষি নির্ভরশীল।নদী, নালা, খাল বিলের ফাকে ফাকে চারদিকেই শস্য শ্যামলা চিরসবুজের  মাঝে সোনালী আশ ও ধানের মতো অসংখ্য বীজতলা তৈরীরতে অতীত কাল থেকেই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আজো রেখে আসছে "মই"। কৃষি কাজের অতি পরিচিত উপকরণের নাম "মই"।"মই" ছাড়া যেন চলেবেই না কৃষি জমির সমতার সমাধানকার্য্য।একজন প্রকৃত কৃষকের ঘরে "মই" থাকাটা যতোই গুরুত্বপূর্ণ তেমনি বাধ্যতা মূলক প্রয়োজনও বটে।

"মই" তৈরীতে প্রয়োজন হয় কেবলমাত্র অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কারিগর ও মরাল জাতীয় একটি বাঁশের।একটি বাঁশকে মাঝ বরাবর ফাটিয়ে দুটি ধনুকের ন্যায় ও একটি সোজা দন্ড সমান করা হয়।এবং তিনটি দন্ডকেই সমানভাবে ছিদ্র ও পরিচ্ছন্ন করে কারুকাজ করা হয়।যার দৈর্ঘ্য৬ থেকে ৭ ফুট প্রায় ও প্রস্থ্যে মধ্যভাগে বেশি রেখে পাচটি সারিতে বাঁশের তৈরী চটি মাধ্যমে সিড়ি দেয়া হয়।"মই"তৈরীতে অন্যকোন উপকরণের প্রয়োজন হয় না,তবুও মজবুত ও শক্তিশালী আকার ধারণ করে "মই"।

সভ্যমানব জাতির কৃষিকাজের সহায়ক হিসাবে অতীতকাল থেকেই চলছে ভাটিসহ দেশের প্রায়সব সমতল কৃষিজাত উৎপাদনশীল আবাদি ভূমিতেই মই দেয়ার কাজ।তাছাড়া উচু স্থানে উঠতে গিয়ে মই সিঁড়ির ন্যায় ব্যাবহার হয়ে থাকে।"মই"র বিকল্প আজো কোন উপকরণ তৈরী হয়নি।ষড়ঋতুর দেশে শরৎকালে সোনালী ধানের বীজতলা তৈরী, বোরো, আমন, শীত কালীন সবজি, আলু, সরিষা ও বাদাম ক্ষেত সহ অন্যান্য জমিতে বীজ রোপনের পুর্বে অনেকক্ষেত্রে পরবর্তীতেও ব্যাবহার করে থাকে। "মই" ব্যাবহারের চিরচেনা নিয়ম ছিল গরু,মহিষ,ঘোড়া সহ গবাদিপশুর কাদে লাঙ্গল জোয়ালে ভরকরে হালচাষাবাদের পর রশ্মির লম্বা লঙ্গরের মাধ্যমে তাদের পেছনে "মই" টানিয়ে "মই"র উপর ভারী বস্তু অথবা কিশোর বয়সী না'হয় উপযুক্ত মানুষ "মই" র উপর বসিয়ে টেনে নিয়ে কাদা ও ঝড়ঝড়ে মাটিকে জমির সমতায় আনা হতো এবং হচ্ছে আজো।যার এখনো কোন বিকল্প নাই।প্রতি বছরেই মধ্যনগরে কৃষি মৌসুমে আজো দেখা মিলছে।প্রতি বছরেই শরৎ থেকে শীতকাল পর্যন্ত হাওরাঞ্চলেের হাট বাজার গুলোতে সারিবদ্ধ ভাবে বিক্রয়ের জন্য দেখা মিলে কৃষিজ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ"মই"এর।"মই"বিক্রি করে অসংখ্য দিনমজুর কারিগরগন করেন জীবিকা নির্বাহ।

আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর