বিশ্বনাথ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হিমিদপুর গ্রামের ক্যান্সার আক্রান্ত বৃদ্ধা মোছা: আছিয়া আইয়ুব মিনার বসতঘর দখল করার অভিযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কাওছার আলী এবং তার স্ত্রী জনতা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কাওছার আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বৃদ্ধার বসতঘরের পশ্চিম অংশ দখল করার চেষ্টা করছেন।
আদালতে বাটোয়ারা মামলা -৪৭৩(২০২১)ইং থাকা সত্ত্বেও কোর্টের দেওয়া নির্দেশ অমান্য করে স্হানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রভাবশালী কয়েক নেতাকে আঁতাত করে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হিমিদপুর গ্রামের প্রয়াত এডভোকেট মরহুম আইয়ুব আলী'র স্ত্রী ক্যান্সার আক্রান্ত বৃদ্ধা মোছা: আছিয়া আইয়ূব মিনার বসত ঘর দখল ও ঘুম হত্যার হুমকি দিয়েছেন তারই দেবর যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ নেতা মৃত তাহির আলী'র পুত্র কাওছার আলী (৬০) ও তার স্ত্রী জয়রুন উরফে জনতা বেগম (৫৫)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তার নিজ বাড়িতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ক্যান্সার আক্রান্ত বৃদ্ধা মোছাঃ আছিয়া আইয়ুব মিনা। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে জানান,আমি একজন বৃদ্ধা এবং আমার বর্তমান বয়স প্রায় ৬৯ বছর। আমার তিন সন্তান বৈবাহিক সুত্রে বৃটিশ নাগরিক হওয়ায় তারা যুক্তরাজ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বাড়ীতে কাজের লোক ও ভাড়াটিয়া ছাড়া আমার আপন বলতে আর কেউ নেই। আমি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ায় প্রায় সময় সিলেট শহরে চিকিৎসার জন্য যেতে হয় এবং সিলেট শহরে আমার নিকটাত্মীয়ের বাসায় থাকতে হয়। গত ১৪/১২/২০২৪ তারিখ সকাল অনুমান-১০.০০ ঘটিকার সময় আমি সিলেট হইতে চিকিৎসা গ্রহন শেষে বাড়িতে আসিয়া দেখতে পাই যে, কাউছার আলী (৬০), পিতা - মৃত হাজী তাহির আলী ও তার স্ত্রী জয়রুন উরফে জনতা বেগম (৫৫) ও তাদের আত্মীয় জাকির জোরপূর্বকভাবে আমার স্বামীর নির্মিত বসতঘরের পশ্চিম অংশ দখল করিয়া রাজমিস্ত্রী দ্বারা দেওয়াল নির্মান করিতেছেন। আমি কাউছার আলীকে ইহার কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করিলে, তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। কাউছার আলী তখন বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে বলে আমি (কাউছার আলী) আব্দুল মুমিন মামুন এর মাধ্যমে এবার প্রশাসনসহ বিশ্বনাথ উপজেলার বিএনপির নেতাদের ২০,০০,০০০/- (বিশ লক্ষ) টাকায় কন্টাক করেছি উক্ত সম্পত্তি দখল করার জন্য। সে (কাউছার আলী) তখন বলে আমি এবার তোকে(আমি - মোছাঃ আছিয়া আইয়ুব মিনাকে) বাড়ি হইতে বিতাড়িত করবো। এই হুমকি দেওয়ার কিছুপর সেখানে আমার পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা ও বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাওনপুর গ্রামের মরহুম আব্দুস সোবহানের পুত্র উক্ত আব্দুল মুমিন মামুন ঘটনাস্থলে আসেন এবং তাহার উপস্থিতিতে আমার স্বামী এবং সন্তানের অসংখ্য স্মৃতি বিজড়িত বসতঘরের পশ্চিম অংশ জোরপূর্বক দেওয়াল নির্মানের কাজ চালিয়ে যান। শারিরীকভাবে অসুস্থ আমি তখন বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।এসময় আমি আমার রুমে গিয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে মোবাইল ফোনে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত আমার বড় মেয়ে ফাহমিনা নুর লিপিকে বিষয়টি জানালে সে বাংলাদেশে অবস্থানরত জনাব গৌছ আলী সাহেবকে অবগত করার পর তিনি বিশ্বনাথ থানার ওসি জনাব রুবেল মিয়াকে ফোন করেন। কিন্ত ওসি সাহেব ফোন না ধরায়,বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব গৌছ আলী সাহেব বিশ্বনাথের দুজন সাংবাদিককে আমার বাড়ীতে পাঠান। তারা এসে দেওয়াল নির্মানের ছবি তুলতে চাইলে, কাউছার আলী ও তার স্ত্রী সাংবাদিকদের কাছ থেকে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব গৌছ আলী আহবান করেন বিবাদমান বিষয় নিয়ে দুপক্ষের সাথে বসতে। তখন বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহেব আমার মেয়ের ভাশুর এর সাথে কথা বলে জরুরী ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল এগারটায় আমাদের ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উপরে উল্লেখিত আব্দুল মোমিন মামুুন এর বাড়ীতে আপোষ মীমাংসার বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করেন কিন্ত পরের দিন বিকেলে তারা বৈঠকে না বসার সিদ্ধান্ত জানান। গত ১৬/১২/২০২৪ইং তারিখ রাতে প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা কাউছার আলী তাহার মোবাইল নম্বর থেকে (মোবাইল নং-০১৭২৮ ২৫২৯৭৪) হইতে আমার ভাড়াটিয়া এমদাদুল হক এর মোবাইল নম্বরে (মোবাইল নং-০১৭১১- ৯১২০৭৮) কল করে রুম খালি করার জন্য হুমকি প্রদান করে এবং লন্ডন প্রবাসী আমার বড় মেয়েকেও প্রান নাশের হুমকি প্রদান করে। এমতাবস্থায় গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ইং তারিখে আমি নিরুপায় হয়ে কাউছার আলী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বিশ্বনাথ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। গতকাল ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বনাথ থানা থেকে একজন অফিসার ফোন করে জানিয়েছেন তিনি আজ বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল দেখার জন্য আমার বাড়ীতে আসবেন।
এমতাবস্থায় বিশ্বনাথ থানার এসআই আবদুল হান্নান সকালেই ঘটনাস্থলে গিয়ে এই বৃদ্ধ মহিলার সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেন।
এবিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল মিয়া জানান,বিষয়টি গুরুত্বের সহিত বিবেচনা করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত কাওছার আলী তার উপর আনিত অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তার নিজস্ব জায়গায় কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এপি
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি 








