সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ জজ আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন- হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান স্বপন (৪৮), সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. মোশারফ হোসেন (৫০), স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সাজিদুর রহমান (৪২), হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান জুবায়ের আহমদ (৩৬), হেলথ এডুকেটর নয়ন দাস (৪০), সদর উপজেলার বরঘাট গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪৬) এবং গাউসিয়া ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ (৫৩)।
সোমবার দুপুরে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন হাসপাতালের সাবেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী তৌহিদ মিয়া।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন তৌহিদ মিয়া। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি নতুন করে জনবল নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ‘গাউসিয়া ট্রেডার্স সিকিউরিটি, ক্লিনিং অ্যান্ড লজিস্টিক সার্ভিস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৪ জনের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন ও যোগসাজশের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে নিরপেক্ষতা রক্ষা হয়নি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, নিয়োগপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের কার্যক্রমেও নানাবিধ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন বলেন, 'মামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসাতে চাইছে।'
শফিকুল ইসলাম নামের আরেক অভিযুক্ত বলেন, 'আমি ওয়াইফাই ব্যবসা করি। কীভাবে এই মামলায় আমার নাম এলো, বুঝতে পারছি না।'
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, 'এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। মামলা যেকেউ করতে পারে, এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।'
অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও সুনামগঞ্জ আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বলেন, সুনামগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। জেলা সদর হাসপাতাল দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এক্সরে মেশিন ও ওষুধ থাকার পরও সেবা না দিয়ে রোগীদের বাইরে পাঠানো হয়। দুর্নীতিমুক্ত করে হাসপাতালকে সত্যিকারের সেবাকেন্দ্রে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য। মামলাটি আদালত গ্রহণ করে আদেশের জন্য রেখেছেন। আশা করছি, দ্রুতই এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 








