বিএনপির জাতীয় নির্বাহি কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি এম নাসের রহমান বলেছেন, একটা বছর দেখতে দেখতে এই স্বৈরাচারী হাসিনার এক বছর পলায়নের দিন উদযাপন করছি আমরা। তার সাড়ে পনের বছরের শাসনামলে সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত হয়েছে একটা দল সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপি কে নিশ্চিহ্ন করার জন্য এই শেখ হাসিনা কম চেষ্টা করে নাই। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীদের গুম, খুন করেছে, হত্যা করেছে, জেলে ভরেছে। বিচার আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে করে দিয়েছে তাকে।
বুধবার বিকাল ৫ টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের এসআর প্লাজার সামনে জেলা বিএনপি আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ও ছাত্র-জনতার বিজয় উৎসবের র্যালী শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা এবং পেছনে বিএনপির সক্রিয় ভুমিকায় এই স্বৈরাচারীনিকে আমরা বিতারিত করতে সক্ষম হয়েছি। শেখ হাসিনা যে দেশ থেকে আসছিল সে দেশ তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সে ভারতের দালাল, ভারতের চর। ভারতের দালাল হিসেবে সাড়ে পনেরো বছর এদেশে রাম রাজত্ব কায়েম করেছিল।
এধরনের রাম রাজত্বের সুযোগ শেখ হাসিনা তো দূরে থাক তার প্রেতাত্মাদেরও কোনদিন সে সুযোগ দেয়া হবে না। এদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ইনশাআল্লাহ আমরা ধীরে ধীরে শেষ করে দিব। কারণ একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ যে একটা গুন্ডা পার্টি, একটা মাস্তান পার্টি। দেশের জনগণ এটা বুঝেছে। ১৪’শ মানুষ মারার পর আর ২০ হাজার মানুষ আহত হওয়ার পর এ দেশের মানুষ বুঝেছে আওয়ামী লীগ একটা গুন্ডা মাস্তান পার্টি।
আর তাদের নেত্রী ছিল গুন্ডাদের হেডকোয়ার্টার। ৭৭ বছরের গুন্ডি এখন দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে। আজকে সে দিল্লিতে কোথায় লুকিয়ে আছে। এই আওয়ামী লীগারদের মুখ দেখাবে কেমন করে। তারা যখন গর্ত থেকে বের হবে তখন তাদের চেহারা দেখাবে কি করে।
তিনি আরও বলেন, আজকে মৌলভীবাজারে আওয়ামী লীগের এই চার খলিফা কোথায়? নিজেরা বসে বসে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর সভার চেয়ারম্যান হয়েছে। কারন দেশটাতো তাদের বাপের সম্পত্তি মনে করেছিল। দেশটা যে বাপের সম্পত্তি না, জনগণের দেশ এটা বাংলাদেশের জনগণ গতবছর বুঝিয়ে দিয়েছে।
বর্ষ পূর্তিতে স্বৈরাচারীনিকে সরাতে চৌদ্দশ মানুষ যেভাবে মারা গেছে এর মধ্যে ১৩৩ টি শিশুবাচ্চা সহ বিশ থেকে পঁচিশ হাজার লোক আহত হয়েছে। পঙ্গু হয়ে রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা- সমবেদনা ও রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। যারা আহত হয়েছেন তাদেরকে আমাদের নেতা তারেক রহমান বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামী ফেব্রুয়ারীতে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে তাহলে তাদের আরও বেশি সহযোগীতা করা হবে।
এর আগে বের হওয়া বিজয় র্যালিতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি এম নাসের রহমান।জেলা বিএনপির আহবায়ক মো: ফয়জুল করিমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা হাজী মুজিবুর রহমান, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এম এ মুকিত, মিজানুর রহমান মিজান।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, আলহাজ্ব এম এ মুকিত, এডভোকেট সুনীল কুমার দাশ, মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক, মো: ফখরুল ইসলাম, বকসী মিসবাহউর রহমান, মনোয়ার আহমেদ রহমান, শ্যামলী সুত্রধর, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান সাদিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল মাহমুদ, পৌর বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ মমশাদ আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সরওয়ার মজুমদার ইমন প্রমুখ।
বিজয় র্যালীতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকডোল বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী মুহুর্মূহ স্লোগানে পুরো রাজপথ প্রকম্পিত করে তুলে।
আজকের সিলেট/এপি
সংবাদদাতা 








